অধিক লাভের আশায় মেহেরপুরে বেড়েছে পেঁয়াজ চাষ


সিরাজুদ্দোজা পাভেল, মেহেরপুর : মেহেরপুরে বিভিন্ন এলাকার মাঠ জুড়ে চলছে কোথাও তাহেরপুরী কোথাও সুখ সাগর পেঁয়াজের চাষ। এ জেলার উৎপাদিত এই পেঁয়াজ এলাকার চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী করা হয়। পেঁয়াজের ফলন ও দাম ভালো পেলেই স্বপ্নপূরণ হবে এ জেলার কৃষককূলের।

তবে দুঃশ্চিন্তা হয় সংরক্ষণের জন্য। জেলায় নেই কোন হিমাগার। পেঁয়াজ ওঠার সময় যদি দাম না পাই! তবে যদি সেটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকতো তাহলে সারা বছরের চাহিদা মেটানোর মতো পেঁয়াজ উৎপাদন করা যেত। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে কৃষক দামও পেতেন, বাড়তি চাষাবাদে উৎসাহিত হতেন।

এলাকায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চাষও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় অন্যান্য ফসলের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবেও পেঁয়াজ চাষ করেন মুজিবনগরের চাষীরা।

সাথী ফসল হিসেবে আখ ক্ষেতে, ভুট্টা ক্ষেতে ও কলার সঙ্গে পেঁয়াজ চাষ করা হচ্ছে। মেহেরপুর খামার বাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এবছর জেলার তিন উপজেলায় পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা, ২ হাজার ১শ হেক্টর। ইতোমধ্যে লক্ষমাত্রা অনুযায়ী মেহেরপুর সদর উপজেলায় লক্ষ্য মাত্রা ৯শ হেক্টর, অর্জন ৯শ ৪৫ হেক্টর। গাংনী উপজেলায় ২শ ৮০ হেক্টরের বিপরিতে অর্জন ১১শ হেক্টর। মুজিবনগরে ৯শ ২০ হেক্টরে অর্জন ১১শ ৩৫ হেক্টর। মুজিবনগরের পেঁয়াজ চাষী আনারুল ইসলাম বলেন, সাথী ফসল হিসেবে কলার সাথে পেঁয়াজ চাষে লাভ বেশি, কলা গাছ বড় হতে হতেই পেঁয়াজ উঠে যায় একই খরচে দুই ফসল পাওয়া যায়। পেঁয়াজ চাষী আলী রেজা বলেন, প্রতিবিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করতে ৬ মন তাহেরপুরী বাল্ব পেঁয়াজ লাগে। প্রতিবিঘায় ৭০ থেকে ৮০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। সল্পমেয়াদি তাই তিন মাসেই পেঁয়াজ তোলা যায়। তবে হিমাগারের ব্যবস্থা থাকলে অন্য সময়েও পেঁয়াজ চাষ করে চাষীরা লাভবান হতে পারতো।

গাংনী উপজেলার কুমারীডাঙ্গা গ্রামের চাষী কাউসার আলী বলেন, প্রতিবছরেই ৪-৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করি। কিন্তু এই পেঁয়াজগুলো সংরক্ষণ করা যায় না। সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে আমরা বেশি লাভবান হব। এখন প্রয়োজন হিমাগার, তাহলে আমরা আরো বেশি বেশি পেঁয়াজ চাষ করতে পারবো। একই কথা জানালেন পেঁয়াজ চাষী, নুরুজ্জামান, রাশেদসহ অনেকেই।

গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম শাহাবুদ্দিন বলেন, অন্যান্য বছরে এসকল মাঠে সব্জিচাষ বেশি ছিলো। এবছরে পেঁয়াজের দাম বেশি, উৎপাদন খরচ কম কিন্তু ভালো ফলনের কারনেই পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী কৃষকরা।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, স্বপন কুমার খাঁ জানান, মেহেরপুর জেলার মাটি সকল ফসলের জন্য উর্বর। এবছর পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামীতে আরো বেশি পেঁয়াজ চাষ হবে। কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি একটি হিমাগার। কিন্তু বেসরকারী ভাবেও এখানে কেউ হিমাগারের জন্য এগিয়ে আসে না। আমি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে হিমাগারের প্রয়োজন বলে জানিয়েছি।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-barisaltribune@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]