আট বছরের শিশু দুই পা ছাড়াই খেলাধুলায় চ্যাম্পিয়ন


পরিশ্রম সৌভাগ্যের চাবিকাঠি। পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই। বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তা টমাস আলভা এডিসন বলেছিলেন, এক শতাংশ ইচ্ছা আর বাকি ৯৯ শতাংশ পরিশ্রম করেই মানুষ সফলতা অর্জন করে।

মানুষ কঠোর পরিশ্রম, অধ্যাবসায় আর মনোবল দিয়েই পৃথিবী জয় করেছে। এর অনেক নজির রয়েছে আমাদের সমাজে। জন্মগতভাবে কিংবা দুর্ঘটনাজনিতভাবে অনেকেই শরীরের একটি অঙ্গ হারিয়ে জয় করেছেন পৃথিবী। স্বাভাবিক মানুষের চেয়েও তারা ভালোভাবে জীবনযাপন করেন। এমন অনেকের কথাই তো জেনেছেন। আজ এমন একজন অদম্য মনোবলের মানুষের কথা জানাবো যিনি মনের জোড়েই নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বিশ্ব জয় করেছেন।

মাত্র আট বছর বয়সী এক শিশু। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওহিও রাজ্যের বাসিন্দা পাইগে ক্যালেন্ডাইন। জন্ম থেকেই বিকলাঙ্গ সে, তার দুটো পা নেই। তবুও যেকোনো ধরনের খেলাধুলায় তিনি রীতিমতো চ্যাম্পিয়ন। ২০১২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওহাইও রাজ্যে জন্ম তার। মাত্র ১৮ মাস বয়স থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত। যে বয়সে হয়তো আপনি ঠিকভাবে কথা বলতে শুরু করেননি। সেই সময় থেকেই পাইগে ক্যালেন্ডাইন হয়ে উঠেছেন শত শত মানুষের অনুপ্রেরণার উদাহরণ।

পাইগে ক্যালেন্ডাইন এবিসি নিউজকে জানান, তার বাবা-মা তাকে জিমন্যাস্টিকসে ভর্তি করে দেয়। কারণ তারা চেয়েছিলেন, পাইগে ক্যালেন্ডাইনের শরীর শক্তিশালী হোক। সে যেন যেকোনো লড়াই নিজে লড়তে পারে। ছোট্ট এই মেয়েটি যখন থেকে শরীরচর্চা শুরু করে তখন তার জন্য এসব করা একটু কঠিন হয়েছিল। তবুও পাইগে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। বর্তমানে ওহিওর জেনেসভিল জিমন্যাস্টিকস দলের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেয় সে।

সাম্প্রতিক জিমন্যাস্টিকস সেন্টারের এক ফুটেজে, প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে পাইগে ক্যালেন্ডাইনকে তার কোচ এস্থার ওয়েইবেলের সঙ্গে দেখা গেছে। এস্থার ওয়েইবেল বলেছিলেন, পাইগে ছোটবেলা থেকেই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। সে এই বছরে এক্সসেল ব্রোঞ্জের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। সে এক্সসেল দলের একটি বড় অংশ। সে এখানে যাওয়ার জন্য সব ধরণের কাজ অনুশীলন করছে।

পাইগে ক্যালেন্ডাইনের বাবা শান ক্যালেন্ডাইন জানান, তার মেয়ে সাঁতার কাটা শিখতে চাওয়ায় তিনি তাকে জিমন্যাস্টিকসের জন্য ভর্তি করে দেন। এরপর থেকেই তার শরীরচর্চা শুরু হয়। নিজেকে যেকোনো খেলাধুলায় পারদর্শী করতে এখনো প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে পাইগে। সে ভবিষ্যতে অনেক কিছু করতে চায়। তবে তার মা-বাবা আপাতত এসবের মধ্যেই তাকে সীমাবদ্ধ রাখতে চান। পাইগে ক্যালেন্ডাইন সমাজের চেতনা। তাকে দেখে সমাজের অন্যান্য প্রতিবন্ধী শিশুরা নতুন কিছু শিখতে পারে। পা না থাকা সত্ত্বেও তার এই প্রতিভার জন্য সে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

সূত্র: মেট্রো


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-barisaltribune@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]