আর দুটি স্প্যান বসলেই স্বপ্নের পদ্মা সেতু হবে পুরো দৃশ্যমান


শুক্রবার বসানো হয়েছে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের মাঝ নদীতে সেতুর ১০ ও ১১ নম্বর পিলারে ৩৯তম স্প্যান ‘২-ডি’। এর ফলে মূল পদ্মা সেতুর দৃশ্যমান হল ৫ হাজার ৮৫০ মিটার। ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে আর বাকি রইল মাত্র দু’টি স্প্যানের ৩০০ মিটার অংশ। সেতুর বাকি ৪০ ও ৪১তম স্প্যান বসানো হলেই পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে পদ্মা সেতু।

পদ্মা সেতুর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ধূসর রংয়ের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যানটি লৌহজংয়ের কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই বহন করে মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে সেতুর পিলার দুটির কাছে এসে পৌঁছায়। পরে দীর্ঘ সময় ধরে দেশি-বিদেশি প্রায় ২শ’ শ্রমিক প্রচেষ্টা চালিয়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে স্প্যানটি পুরোপুরি বসাতে সক্ষম হয়।

সর্বশেষ গত ২১ নভেম্বর সেতুর মাওয়া প্রান্তের ১ ও ২ নাম্বার খুঁটির ওপর ৩৮তম স্প্যান ‘ওয়ান-এ’ সফলভাবেই বসানো হয়।

এদিকে সেতুর ২৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে ১২১৩টি ও রেলওয়ের ২৯৫৯ টি স্ল্যাবের মধ্যে ১৭২৬টি বসানো হয়েছে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হল ৩৮টি স্প্যান। এতে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর পাঁচ হাজার ৭০০ মিটার অংশ।

৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। সব পিয়ার এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।

মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর আগামী ২০২১ সালেই খুলে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-barisaltribune@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]