‘ইকবাল ভাই’—গ্রামীণ সাংবাদিকতার মহীরুহ


সাংবাদিকদের বিপদে-আপদে তাকে ডাকতে হয় না, নিজেই এসে হাজির হন। দুঃসময়ে পাশে থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করেন। এমন একজন পরোপকারী ব্যক্তি হলেন সাংবাদিক এস এম ইকবাল।

এছাড়াও তিনি একাধারে সাংবাদিক, আইনজীবী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষানুরাগী সমাজসেবক ও সংগঠক। তবে সবচেয়ে বড় কথা, সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে একজন পরোপকারী সফল মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এস এম ইকবাল।

নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, পদ-পদবি ও ক্ষমতার কথা ভাবেননি কখনও। কোনো যশ, খ্যাতি কিংবা পদের মোহ তার ছিল না। সৎ ও নির্লোভ মানুষ হিসেবে বরিশালের সাংবাদিক জগতে তার সুনাম রয়েছে। সাংবাদিকতায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তেমনি শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রেও অসামান্য অবদান রেখেছেন এস এম ইকবাল। তার প্রচেষ্টায় তার এলাকায় স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

৭৫ বছরের দীর্ঘ জীবনে ৫০ বছর ধরে সক্রিয় এস এম ইকবাল সাংবাদিকতায় এক নিবেদিত প্রাণ। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী এস এম ইকবাল কখনও সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়নে কাজ করেছেন, কখনও জনপ্রতিনিধি হয়ে জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

এস এম ইকবাল ১৯৪৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার লবনসাড়া গ্রামের এক ধর্মপ্রাণ সৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সৈয়দ শামসুল হুদা এবং মায়ের নাম ফরিদা বেগম। প্রারম্ভিক শিক্ষাজীবনে ৩য় শ্রেণিতে বরিশাল জিলা স্কুলে ভর্তি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন।

১৯৬৪ সালে বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন কলেজ থেকে বিএ পাস করেন এস এম ইকবাল। স্বাধীনতার পরে সংস্কৃত সাহিত্যে কাব্যতীর্থ এবং আইনে স্নাতক ডিগ্রি গ্রহণ করেন তিনি।

ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষাজীবন থেকে রুচিশীল এবং আধুনিক চিন্তার এ মানুষটি তার স্বপ্ন পূরণে যোগ দেন সেই সময়ের শক্তিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা বরিশালের সন্তান সাদেক খানের চলচ্চিত্র নির্মাণ সংস্থা ‘লুব্ধক ফিল্ম’-এ। কারওয়া, নদী ও নারী, আকাশের রং নীল, ক্যায়সে কাহু নামক সময়ালোচিত চলচ্চিত্রগুলোতে কাজ করেন সহকারী প্রোডাকশন কন্ট্রোলার হিসেবে। এফডিসির সেই সময়ের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র সম্পাদক আবদুর রহমান আদরের সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।

এরপরে ধর্মপ্রাণ পরিবারের সন্তান এস এম ইকবাল বাবা ও চাচার নির্দেশে চলচ্চিত্রের রঙিন জগৎ ছেড়ে মনে অভিমান চেপে ফিরে আসেন বরিশালে। এখানে এসে গড়ে তোলেন সামাজিক সংগঠন ‘বরিশাল যুব সংঘ’। নাটক রচনা ও মঞ্চায়ন, আবৃত্তি, খেলাধুলাসহ সকল সামাজিক ক্ষেত্রে কাজ করতো এ যুব সংঘ।

১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি সমরাস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ না পেয়ে এ যুব সংঘের সদস্যরা নানা ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ভাবন করেন। বরিশাল শহরের সদর রোডের একটি ঘরে যুব সংঘের কর্মকাণ্ড চলতো। পরে কালিবাড়ি রোড ধর্মরক্ষিণী ভবনে গোপনে এ যুব সংঘের সদস্যরা বোমা বানানোর কাজ শুরু করেন। যুব সংঘ মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলাযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখে। এ সময়ে বাংলাদেশের মুক্তাঞ্চল থেকে প্রকাশিত হয় প্রথম পত্রিকা, যার নাম ‘বাংলাদেশ’। এস এম ইকবাল এ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রকাশিত দলিলের ৬ষ্ঠ খণ্ডে উল্লেখ রয়েছে।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধকালীন লুণ্ঠিত সম্পদের হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব পায় যুব সংঘ। যার সরাসরি নেতৃত্বে ছিলেন এস এম ইকবাল। সাহিত্য সচেতন এস এম ইকবাল ১৯৭২ সালে কলকাতার সাহিত্য গবেষক দিলীপ কুমার দাসের সঙ্গে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন জীবনানন্দ দাশ এর ‘রূপসী বাংলা’। তখন জীবনানন্দ দাশের রচনাবলী খুব বেশি সংখ্যক মানুষের সংগ্রহে ছিল না। সেই থেকে শুরু, তারপর থেমে থাকেননি।

একে একে সম্পাদনা করতে থাকেন জীবনানন্দ দাশ এর ‘বনলতা সেন’, ‘সুরঞ্জনা’, ‘সাতটি তারার তিমির’, ‘সুকান্তের ঘুম নেই’ ইত্যাদি গ্রন্থ। এছাড়া মৌলিক গ্রন্থ হিসেবে ‘ছোটদের নজরুল’, ‘ছোটদের রবীন্দ্রনাথ’, ‘ছোটদের শরৎচন্দ্র’সহ প্রায় অর্ধশত গ্রন্থ।

১৯৭৩ সালে জনসমর্থনে নির্বাচিত হন বরিশাল পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার। ১৯৭৪ সালে দু’বার দায়িত্ব পালন করেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে। ১৯৮৫ সালে বানারীপাড়া উপজেলার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পদাধিকার বলে বানারীপাড়া উপজেলার ২৭টি বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন। এই শিক্ষানুরাগী মানুষটি বাইশারীতে একটি স্কুল ও একটি কলেজ নির্মাণ করেন।

বরিশালের ইতিহাসে আরও একটি আবেগের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছে এস এম ইকবালের নাম। বরিশালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ কমিটির অন্যতম শক্তিমান ও পরিশ্রমী সদস্য এ আজন্ম অসাম্প্রদায়িক মানুষটি। মুক্তিযুদ্ধপূর্ব এবং পরবর্তী বরিশালের গল্পকথা যিনি সব থেকে সাংগাঠনিকভাবে তুলে ধরতে পারেন আধুনিকতম শব্দচয়নে তার নাম অ্যাডভোকেট এস এম ইকবাল।

এসএম ইকবাল অমর একুশের গান হিসেবে খ্যাত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’র সুরকার সংস্কৃতিকর্মী ও স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদের নামে ১৯৭২ সালে বরিশালে প্রতিষ্ঠিত করেন ‘শহীদ আলতাফ মাহমুদ সঙ্গীত বিদ্যালয়’।

বর্তমানে তিনি বিদ্যালয়টির সভাপতি। এছাড়া ২৮টি সংগঠনের জোট বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের তিনি দু’বার নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে তিনি উদীচী বরিশাল জেলা সংসদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি বহু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য অর্ধশতাধিক সংগঠন তাকে গুণীজন হিসেবে সম্মননা দিয়েছেন। সম্প্রতি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ কমিউনিটি পুলিশের সদস্য হিসেবে আইজিপি পদক প্রদান করা হয়। বর্তমানে তিনি জেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

সাংবাদিক হিসেবে বরিশালের সংবাদ জগতে আলোকিত নাম এস এম ইকবাল। সত্তরের দশক থেকে তিনি এ পর্যন্ত ঢাকা ও বরিশাল থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন। এ সময়কালে তিনি বাংলাদেশ, জনপথ, বিপ্লবী বাংলাদেশ, বাংলাদেশ টাইমস, দৈনিক দেশ, নিজের সম্পাদনায় ‘কথা’, বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের বার্তা’র সম্পাদক ও সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বরিশালের আজকাল পত্রিকার সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি ও দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল পত্রিকার সম্পাদক।

বরিশাল প্রেসক্লাবের ৮ বার নির্বাচিত সভাপতি ও ৫ বার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এস এম ইকবাল। সাংবাদিকতায় মাইনুল হাসান স্মৃতি পদকসহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এ সাংবাদিক।

অ্যাডভোকেট এস এম ইকবাল বরিশালের এমন এক উজ্জ্বলতম নাম যিনি আইন পেশাকে পেশা হিসেবে দেখেননি কখনও। সাংবাদিক, অসহায়, গরিবদের জন্য আইনি লড়াই করতেই নিজেকে আইন পেশায় নিয়োজিত রেখেছেন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা হলে পাশে গিয়ে পরম বন্ধুর মতো দাঁড়িয়েছেন অ্যাডভোকেট এস এম ইকবাল। নিজ খরচে তাদের মামলা লড়েছেন। বিপদে-আপদে যেমন পাশে থাকেন তেমনই সঠিক দিক নির্দেশনা দেন চলার পথের। পরোপকারী হিসেবে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলেন এস এম ইকবাল। নিজের বহুমুখীতায় আজ অনন্য তিনি।

সাংবাদিক এস এম ইকবালের বিষয়ে দৈনিক যুগান্তর’র বরিশাল ব্যুরো চিফ ও এনটিভির সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট আকতার ফারুক শাহিন জাগো নিউজকে বলেন, আমার সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা কম-বেশি ৩০ বছর। আজ থেকে ৩০ বছর আগে কাজ শুরু করি। তখন ছিল এস এম ইকবালের যৌবন। সাংবাদিকতায় তখন তার দুর্দান্ত দাপট। আর আপসহীনতার মনোভাব দেখেছি তার ভেতর। সত্যি কথা বলতে কি তীব্র বৈরি পরিবেশে আধুনিক প্রযুক্তিবিহীন সেই সময় যখন সাংবাদিক পেশা ছিল স্বেচ্ছা শ্রম। সেই সময়টাতে এস এম ইকবালের মতো মানুষেরা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছিলেন বলেই হয়তো এরকম কঠিন পেশায় নিজেকে টিকিয়ে রাখার উৎসাহ পেয়েছি।

শাহিন আরও বলেন, এস এম ইকবাল আইন ও সাহিত্য নিয়ে লেখাপড়া করেছেন। কিন্তু সাংবাদিকতায় রাজনীতি থেকে দর্শন, ভূগোল থেকে পরিবেশ সব বিষয়ে রয়েছে তার অসাধারণ ব্যুৎপত্তি ও উৎকর্ষ। যেকোনো জটিল বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি ধীরস্থিরভাবে বুঝিয়ে দিতেন।

তিনি বরেন, সদালাপী ও মিষ্টভাষী এস এম ইকবাল কারও উপকার ছাড়া ক্ষতি করেছেন বলে শুনিনি। যদিও কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তবে তা কেবলই তার পেশার প্রতি দৃঢ়তা এবং সততার কারণে। আমরা প্রত্যাশা করি বরিশালের এ উজ্জ্বলতম মানুষটি বেঁচে থাকবেন আমাদের মাঝে অনন্তকাল তার কর্মে, তার আদর্শে, তার আধুনিকতায়।

সাংবাদিক এস এম ইকবালের স্বজনরা জানান, ছোটবেলা থেকেই ইকবাল যেন একটু আলাদা। মানুষের প্রয়োজনে ছুটে যেত খুদে ইকবাল। অসহায়, সুবিধা বঞ্চিত, দরিদ্র মানুষের জন্য কিছু করতে কিশোর বয়সে নিজেকে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করেন ইকবাল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বরিশালে কোনো সংবাদ পত্র আসতো না। যুদ্ধের খবর জানতে তখন একমাত্র ভরসা ছিল রেডিও। তখন ইকবাল একটি পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেন। তার উদ্যোগে মুক্তাঞ্চল থেকে প্রকাশিত হয় প্রথম পত্রিকা, যার নাম ‘বাংলাদেশ’। একই সময় সাংবাদিকতাও শুরু করেন ইকবাল। সেই থেকে প্রায় ৫০ বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশায় তিনি সক্রিয় রয়েছেন। সাংবাদিকতা পেশায় প্রতিবাদী কণ্ঠের কারণে বিভিন্ন সময় রোষানলে পড়তে হয়েছে তাকে। তবে নিজ কর্তব্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এ পেশা ছেড়ে যেতে পারেননি তিনি।

স্বজনরা আরও জানান, দুই ছেলে সন্তানের জনক এসএম ইকবাল। তার ছেলেরা চাকরি সূত্রে ঢাকায় বসবাস করেন। ছেলেদের সঙ্গে থাকেন তাদের মা। এস এম ইকবাল বরিশালে একাই থকেন। ছেলেরা তাদের সঙ্গে থাকতে বহু চেষ্টা ও অনুরোধ করেছেন। তবে তাতে রাজি হননি তিনি। তিনি ছেলেদের বলেছেন, আরাম-আয়েশের প্রয়োজন নেই। বরিশালকে ভালোবাসি। বরিশাল ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে আমার বসবাস করা সম্ভব নয়।

বরিশাল সাংবাদিক জগতে ৪ যুগেরও বেশি সময় ধরে আলো ছড়ানো এ মানুষটির সঙ্গে সম্প্রতি বরিশাল প্রেসক্লাবে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। আলাপচারিতার একপর্যায়ে জানতে চাওয়া হয় সাংবিদক পেশায় শুরুর দিনগুলো কেমন ছিল? এ প্রসঙ্গে এসএম ইকবাল বলেন, সাংবাদিকতা তখন কোনো পেশা ছিল না। মুদ্রণ প্রযুক্তি এখনকার মতো এত আধুনিক ছিল না। সেই সময়টা অন্য রকম ছিল। সেই অভিজ্ঞতা বলে বোঝানো যাবে না। সংবাদপত্র ছাপানো অনেক কষ্টসাধ্য ছিল। মুদ্রণ প্রযুক্তি গুণগতভাবে অনেক পশ্চাৎপদ ছিল। তবে তখন যারা এ পেশায় ছিলেন তাদের মানসিকতা অনেক উন্নত ছিল। তারা অনেক বেশি দেশপ্রেমি ছিলেন।

৫০ বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশায় আপনি সক্রিয়, এ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে প্রতিবন্ধকতা বা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এসএম ইকবাল বলেন, সত্য ও সাহসী সাংবাদিকতার শত্রু সব সময়ই ছিল এবং থাকবে। বিভিন্ন সময় রোষানলে পড়তে হয়েছে। একটি ঘটনা বলি। ১৯৭২ সাল । তখন আমি বিপ্লবী বাংলাদেশে কাজ করি। পত্রিকায় তৎকালীন রেড ক্রিসেন্টের অনিয়ম নিয়ে ‘জরুরি ত্রাণের আর জরুরত নেই’ শিরোনামে নিউজ প্রকাশ হয়। লেখাটা আমার ছিল না। তবে ওই পত্রিকায় তখন উপরের পদে ছিলাম। নিউজ প্রকাশের পর কিছু পরিচিত লোক ক্ষুব্ধ হন। আমার দিকে রিভলবার তাক করেন। হুমকি দেন। তবে আমি সাহস হারাইনি। তাদের বলেছিলাম কয়েকদিন আগে যুদ্ধের মাঝখান থেকে এসেছি। এর চেয়ে বড় বড় অস্ত্র দেখেছি। এ ধরনের বহু ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তাই বলে সত্য প্রকাশে পিছপা হইনি। কারণ সত্য প্রকাশ করাই সাংবাদিকতা পেশার মূলনীতি।

এস এম ইকবাল বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানিসহ বিভিন্ন আইনে মামলা হচ্ছে। সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখতে সাংবাদিকদের পরিবার কিংবা স্বজনদেরও ক্ষতি করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। একশ্রেণির মানুষ তারা সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখতে চান। তারা হয়তো উপলব্ধি করতে পারে না সত্যকে কোনোভাবেই দাবিয়ে রাখা যায় না। তিনি দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষের সহযোগিতার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি পাঠকদেরও প্রতিবাদী হতে বলেন।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতার শিক্ষা হচ্ছে সততা ও মানবিকতার শিক্ষা। মানবতার খাতিরে ও বিবেকের তাগিদেই বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো চেষ্টা করি। মানুষের বিপদ-আপদে মানুষকেই এগিয়ে আসতে হয়, নইলে আমাদের মানবজন্মের সার্থকতা কী।

নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এস এম ইকবাল বলেন, সাংবাদিকতা তেমন অর্থকরী পেশা নয়, তবু এ পেশার প্রতি তরুণদের আগ্রহ ও আকর্ষণের কমতি নেই। তাদের পরিশ্রমী হতে হবে। দেশপ্রেম থাকতে হবে। সত্য প্রকাশের জন্য নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। যারা নিজেদের নির্মোহ রেখে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী চেতনা ও সামগ্রিকভাবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে কাজ করবেন তারাই সাংবাদিকতায় স্থায়ী ও প্রতিষ্ঠিত হতে পারবেন। প্রতিবেদক : সাইফ আমীন


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন[email protected]এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]