এখনো চাঁদা উঠছে রিমান্ডে থাকা কাউন্সিলরের নামে

  • 86
    Shares

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর স্বঘোষিত ‘জনতার কমিশনার’ তারেকুজ্জামান রাজীব ক্যাসিনোকাণ্ড, ভূমি দখল ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে এখন পুলিশের রিমান্ডে আছেন। রাজীব গ্রেফতারের পরপরই এলাকায় তার সহযোগী ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিতরা গাঁঢাকা দিয়েছে। মোহাম্মদপুর, বেড়িঁবাধ, বসিলাসহ বিভিন্ন এলাকা গড়ে তোলা যুবলীগের কার্যালয়েগুলোতেও ঝুলছে তালা। সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সাইনবোর্ড। তবে এতো কিছুর মধ্যেও থেমে নেই রাজীবের নামে চাঁদা উত্তোলন।

মোহাম্মদপুরের আল্লাহ করীম মসজিদ থেকে শুরু করে বেঁড়িবাধ তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত ফুটপাতে বসা প্রতিটি দোকান থেকে নিয়মিত তোলা হচ্ছে চাঁদা। তিন রাস্তা থেকে ঢাকা উদ্যান পর্যন্ত চলাচল করা প্রায় ১শ’ ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, তিন রাস্তা থেকে সিকশন রুটে চলাচল করা প্রায় দেড়শ’ অটোরিকশায় এবং একই স্থান থেকে বসিলা, আটি বাজার, কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় চলাচল করা প্রায় ৩শ’ সিএনজি থেকেও তোলা হচ্ছে চাঁদা।

রাজীব গ্রেফতারের আগে ফুটপাত, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা এবং সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে তার লোকজন চাঁদা উঠালেও গ্রেফতারের পর সেটি এখন নেই। তবে থেমে নেই চাঁদা আদায়। নেতারা গাঁঢাকা দিলেও তাদের সহযোগীরা এখনো চাঁদা তুলছে নিয়মিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজীবের অন্যতম সহযোগী স্থানীয় যুবলীগ নেতা শাহ আলম জীবন। তার ‘ডান হাত’ খ্যাত কামালের নিয়ন্ত্রণে ফুটপাত থেকে চাঁদা তোলা হয়। এই চাঁদা তোলার দায়িত্বে রয়েছে আল-আমিন, দেলোয়ার এবং সোহাগ। দোকান প্রতি ১শ’ টাকা করে নেওয়া হয়। আর নতুন দোকান বসাতে দিতে হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা।

নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক হকার নাগরিক বার্তাকে বলেন, এই এলাকার যুবলীগ নেতা শাহ আলম জীবনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত কামালের নেতৃত্বে আল্লাহ করীম মসিজিদ থেকে মোহাম্মপুর বেঁড়িবাধ তিন রাস্তা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হয়। তবে মূল দায়িত্বটা পালর করে আল-আমিন।

তিনি আরো বলেন, এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়। এই টাকার ভাগ সবাই পায়। আমাদের বাধ্য হয়ে দিতে হয়। না হলে দোকান বসাতে দেয় না। অনেক সময় দোকান ভেঙে দেয়, মালামাল নষ্ট করে ফেলে। বিক্রি হোক বা না হোক দোকান বসালেই টাকা দিতে হবে। আমরা তো অসহায়। বাধ্য হয়ে টাকা দেই, কারণ আমাদেরও তো পরিবার আছে। তাদের নিয়ে বাঁচতে হবে।

একই এলাকার অটো স্ট্যান্ড ও সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে এখনও তোলা হচ্ছে চাঁদা। মোহাম্মদপুর বেঁড়িবাধ থেকে শিকসন রুটে চলাচল করা ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা থেকে প্রতিদিন দুই মাথায় ২শ’ করে মোট ৪শ’ টাকা, আর ঢাকা উদ্যানের রুটে ১২০ এবং ৬০ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এছাড়াও মোহাম্মদপুর থেকে বসিলা ও কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন রুটে চলাচল করা সিএনজি থেকেও ১শ’ টাকা করে চাঁদা তোলা হচ্ছে। আর এই চাঁদা আদায়ের নেতৃত্বে রয়েছে এলাকায় সিএনজি কামাল নামে পরিচিত এক যুবলীগ নেতা। তিনিও বর্তমানে গাঁঢাকা দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা চাঁদা আদায়ের বিষয়ে বলেন, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাজীব গ্রেফতারের আগে থেকেই চাঁদা উঠানো বন্ধ রয়েছে। এলাকায় এখন কেউ নেই। রাজীবের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিতরাও গাঁঢাকা দিয়েছে। তবে রাজীবের নাম ভাঙিয়ে তার প্রতিপক্ষের লোকজন এই চাঁদা আদায় করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় গত ১৯ অক্টোবর রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজীবকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এরপরে তাকে নিয়ে মোহাম্মদপুরে তার বাসা ও কার্যালয়ে রাতভর অভিযান চালানো হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা দিয়ে ভাটারা থানায় হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি ভাটারা থানায় আদালতের নির্দেশে দুই মামলায় ৭ দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ডে আছেন।


  • 86
    Shares

[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন[email protected]এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]