এসপি মারুফ, শম্ভু ও সুনামরা বরগুনায় থাকলে ন্যায় বিচার সম্ভব নয়


মহিউদ্দিন আহমেদ : মরহুম গাজী শামসুর রহমানের কথা গত দু’দিন খুব মনে পড়ছে। দারুণ স্নেহ করতেন আমাকে। আমরা থাকতামও কাছাকাছি। তিনি মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে, আমি শেরে বাংলা নগরের মিনিস্টারস হোস্টেলে। তিনি কোন নোটিশ না দিয়ে হঠাৎ আমার বাসায় আসতেন, আমিও তাঁর বাসায়। ৮০-এর দশকে বিটিভিতে প্রচারিত তাঁর “আইন আদালত” অনুষ্ঠানটি দারুণ জনপ্রিয় ছিল। তিনিই একমাত্র পন্ডিত ব্যক্তি যিনি বাংলা একাডেমী, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউটের সভাপতি ছিলেন ভিন্ন ভিন্ন সময়।

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের নবীন কর্মকর্তাদের তিনি আইন পড়াতেন। এমন এক আইনের ক্লাসের উল্লেখ করে গাজী সাহেব এক আলোচনায় আমাকে একদিন বলেছিলেন, তিনি এই হবু ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি কোর্সে বলতেন, তোমরা ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে পারতপক্ষে কোন মহিলাকে কখনও রিমান্ডে দেবে না। সে যদি তরুণী হয়ে থাকে, কখনওই নয়। কারন তাকে abuse করার সমূহ রিস্ক, বাস্তবসম্মত আশংকা।

বরগুনায় মিন্নিকে গতকাল রিমান্ডে দেয়ার পর গাজী সাহেবকে খুব মনে পড়ছে। মিন্নিকে রিমান্ডে দেয়া হল, যখন তার পক্ষে একজনও আইনজীবী দাঁড়াল না। রিমান্ডে দেয়া হল, তাও আবার পাঁচ দিনের !! আগের দিন যে মিন্নিকে ১৩ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হল, তারপরও পাঁচ দিন !! আচ্ছা, তাকে কি জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা যেত না; যেমন ঢাকার কোর্টের এক বিচারক সিদ্বান্ত দিয়েছেন, ডি আই জি মিজানের ক্ষেত্রে, মাত্র কয়েকদিন আগে ? আমি খুব বিচলিত বোধ করছি, বরগুনার মতো এত ছোট একটি জেলা শহরে কি একজন তরুণীকে রিমান্ডে রাখার জন্য ব্যাবস্থা আছে ? আমার আর একটি বড আশংকা, মিন্নিকে আবার এস পি মারুফ হোসেনের ফোর্স ক্রসফায়ারে ফেলবে না তো !! আগে ভাবতাম, মহিলাদের ক্রসফায়ারে ফেলা হয় না। কিন্তু আজকের খবরে দেখছি, এক “মাদক ব্যবসায়ী” মহিলাকে হত্যা করা হয়েছে, তথাকথিত অভ্যন্তরীণ কোন্দলে।

বরগুনার এসপি মারুফ হোসেনের ওপর আমার কোনো আস্থা নেই। এই লোকের আমলেই তো বরগুনার সেই “০০৭ বন্ড গ্রুপ”এর বিস্তার এবং প্রসার। এদের ধরার এবং আইনের হাতে তুলে দেয়ার জন্য এই এসপি বান্দা কী করেছেন? ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য আমি মনে করি এই এস পি মারুফ হোসেনকে দ্রুত বরগুনা থেকে তুলে আনা দরকার। কারণ বরগুনায় তার চরম ব্যর্থতার পর তার এখন প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ওঠার আরও বেশি আশংকা। আরও দরকার, এই মামলা বরগুনার বাইরে কোথাও নিয়ে যাওয়া। আমাদের আইনে এমন ব্যবস্থা আছে। বরগুনাতে ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সাবেক এমপি দেলোয়ার হোসেন এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাংগীরদের মতো প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে ন্যায় বিচার বরগুনাতে সম্ভব নয়। সম্ভব নয় যে তা তো দেখাই যাচ্ছে।

আর, দ্রুত গেপ্তার করে রিমান্ডে নেয়া দরকার ধীরেন্দ্র শম্ভূর সন্ত্রাসী ছেলে সুনাম দেবনাথকে। একে রিমান্ডে নিলে সে তদন্ত প্রভাবিত করতে পারবে না।

এই প্রসংগে উল্লেখ করতে হয় যে, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই মিন্নিকে রিমান্ডে নেয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রথম পৃষ্ঠায় বড় বড় দুটি লেখা আছে। একটি লিখেছেন পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান। গত কয়েকদিন দিন বিবিসি বাংলা সকাল- সন্ধ্যার দুই অধিবেশনেই এই খবরটিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে। বিবিসি বাংলা গতকাল সকালের অধিবেশনে প্রচার করেছে, বরগুনার সাংবাদিকরা প্রকৃত ঘটনা এবং তার বিভিন্ন দিক প্রচার করছেনা। বিবিসির বিপরীতে আমাদের টিভি চ্যানেলগুলোতে খুবই হাল্কা কভারেজ। এই প্রসংগে আবারও একই প্রশ্ন, আমাদের এতগুলো টিভি চ্যানেলের কামটা কী? কেন আছে এতগুলো চ্যানেল।?

ফেসবুক থেকে নেওয়া


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন[email protected]এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]