ওভারহেড ক্যাবল কেটে নিলো বিসিসি—ইন্টারনেট সেবা বঞ্চিত ৫ হাজার গ্রাহক

  • 7
    Shares

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ওভারহেড ক্যাবল অপসারনের ঝটিকা অভিযানে ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কমপক্ষে পাঁচ হাজার গ্রাহক। একইসাথে ডিস সংযোগেও বিচ্যুতি ঘটে। স্থানীয় ইন্টারনেট সরবারহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনে অতিমাত্রায় ঝুলে থাকা তারগুলো সড়াতে এমন অভিযান দরকার। তবে পূর্বনোটিশ বা সরবারহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কর্তৃক অপসারণের সুযোগ না দেওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে স্বল্প পুঁজির প্রতিষ্ঠানগুলো।

তবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন থেকে এ ধরণের কোন অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে কিনা সেই তথ্য জানা নেই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসরাইল হোসেনের। বিষয়টি জানেন না জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলায়েত বাবলু বলে জানিয়েছেন। আর নগর ভবনের প্রশাসনিক কর্মকর্তার সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যা রাতে নগরীর চৈতন্য স্কুল থেকে সদর গার্লস স্কুল এলাকা পর্যন্ত বৈদ্যুতিক খুটিতে ঝুলে থাকা ইন্টারনেট সরবারহকারী সবগুলো স্থানীয় কোম্পানীর ক্যাবল কেটে নিয়ে যায় সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীরা। এসময়ে তাদের সাথে দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। জানা গেছে, নগরীতে ইন্টারনেট ও ডিস সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাম্বার আইটি, ইউরোটেল বিডি অনলাইন, লিংক থ্রিসহ ডিস লাইন সরবারহকারী প্রতিষ্ঠানের ক্যাবলগুলো কেটে সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে করে নিয়ে যায়।

ইন্টারনেট সরবারহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, রাজধানীতে মাটির নিচ থেকে ক্যাবল সংযুক্ত করে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা হলেও বরিশালে এখনো সেই সুবিধা চালু করা সম্ভব হয়নি। এমন সেবা শুধু রাজধানীতে থাকলেও দেশের অনেক শহরে এখনো ‘ওভারহেড’ ক্যাবল সংযোগ দিয়ে কোটি কোটি গ্রাহককে ইন্টারনেট ও ডিস সেবা প্রদান করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তেমনি বরিশালেও ওভারহেড ক্যাবল সিস্টেম চালু।

জানা গেছে, সরকার অনুমোদিত তিনটি এনটিটিএল কোম্পানী বরিশালে ইন্টারনেটের মূল সরবারহকারী। তারা হলো সামিট কমিউনিকেশন, ফাইবার @ হোম ও বিটিসিএল। এদের কাছ থেকে ইনটারনেট ক্রয় করে গ্রাহকদের কাছে ইন্টারনেট সরবারহ করে আসছে অ্যাম্বার আইটি, ইউরোটেল বিডি অনলাইন, লিংক থ্রিসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় এই সরবারহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নগরীতে ওভারহেড ক্যাবলের মাধ্যমে ডিস ও ইন্টারনেট সংযোগ সরবারহ করে আসছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নগরীর অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি ব্রডব্যান্ড ক্যাবলের ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় চলে আসে। এতে করে নগরবাসীর ডিজিটাল সেবা পেতে ব্যয় যেমন কমেছে তেমনি কাজ এবং আয়ের পথ খুলেছে।

এসব কোম্পানীর সবগুলো ক্যাবল বিদ্যুতের খুটির সাহায্য নেওয়া হয়। সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুতের খুটির সাথে ইন্টারনেটের তার অতিমাত্রায় ঝোলানোর কারনে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে-তা প্রতিরোধে ওই এলাকার ক্যাবল কেটে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউরোটেল বিডি অনলাইন লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার এনামুল হক প্রিন্স জানিয়েছেন, নগরীর সৌন্দর্য রক্ষায় আমরা সবসময়ে মেয়র মহোদয়ের পাশে থাকতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমানের অংশ হয়ে আমরাওতো নগরবাসীকে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করছি। ক্যাবলগুলো যদি অগোছালো হতো তাহলে আমাদের নোটিশ করলেই ঠিক করে দিতাম। কিন্তু ক্যাবল কেটে অপসারনের আগে আমাদের সে রকমের কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ফলে হঠাৎ করে ক্যাবল কেটে নেওয়ায় গ্রাহকরা যেমন ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি আমাদের স্বল্প পুঁজির সরবারহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ে আইএসপি লাইসেন্স পাওয়া ইউরোটেল ইতিমধ্যে বরিশালের ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে। ঢাকায় স্থানান্তরের সকল কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অল্প পুঁজিতে ব্যবসা করে এমন ক্ষতির মুখে পরা থেকে বাঁচতে তাই ইউরোটেল বরিশালে ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছে শীঘ্রই।

সরবারহকারী প্রতিষ্ঠান লিংক থ্রি’র বরিশাল ইনচার্জ আসাদুজ্জামান জিমি জানিয়েছেন, ঝটিকা অভিযানে ক্যাবল কেটে নেওয়ায় হাজার হাজার গ্রাহক নেট সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেন। আসলে বরিশালে আন্ডাগ্রাউন্ড ক্যাবল সংযোগ না থাকায় ওভারহেট সংযোগ দেওয়া ছাড়া আমাদের হাতেও আর কোন উপায় নেই। এই কর্মকর্তা বলেন-আমাদের নোটিশ দিলে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা দিয়েই আমরা বিসিসির নির্দেশনামত ক্যাবল অপসারন করতাম।

এ বিষয়ে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল হাকিম জানিয়েছেন, নোটিশ ছাড়া ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী কোন প্রতিষ্ঠানের ক্যাবল কাটা বিধান পরিপন্থি। কারন সারা বাংলাদেশে যতগুলো প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট সেবা প্রদান করছেন তারা কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশ বির্নিমানে অন্যতম ভূমিকা রাখছেন। হুট করেই লাইন কেটে ফেলার অধিকার সরকার কাউকে দেয়নি। যদি নোটিশ ছাড়া বরিশালে লাইন কাটা হয়ে থাকে তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে গর্হিত কাজ। এতে করে সেই অঞ্চলের ব্যাংকিং সেক্টর, ব্যবসায়িক সেক্টরে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের ঢাকায়ও যদি কোন অংশের ইন্টারনেট লাইন সংযোগ সিটি কর্পোরেশন অপসারন করে থাকে তাহলে প্রভাইডার প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে বসে কি পদ্ধতিতে এটা করা উচতি-যাতে গ্রাহক হয়রানি না হয় এবং অপসারনে কোম্পানীগুলো কতটা ক্ষতির মুখে পড়বে সেই স্টাডি করে তারপর অপসারনের দিকে এগোয়।

আমিনুল হাকিম বলেন, সরবারহকারী প্রতিষ্ঠানের কথা বাদ দেন; হঠাৎ করে লাইন কেটে দিলে যেসব গ্রাহক সেবা বঞ্চিত হচ্ছে, যেসব ফ্রিল্যান্সাররা কাজ করতে না পেরে অর্থ হারাচ্ছে বা ব্যাংক সেবা দিতে পারছে না-সেই ক্ষতি পোষাবেন কিভাবে? এতে করেতো ডিজিটাল বাংলাদেশ সর্ম্পকে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরুপ প্রভাব পড়বে। তিনি বলেন, সব কিছু সমন্বয় করে হওয়া যুক্তি সঙ্গত।


  • 7
    Shares

[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-barisaltribune@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]