করোনায় বরিশালের পরিস্থিতি দেখতে ছুটে এলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী


স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল : বরিশালের প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে জরুরী সভা করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল ৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ ফারুক শামীম। আজ বুধবার বিকেলে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউসে তিনি এই সভা করেন।

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বরিশালে যাতে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করা যায় সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে। ইতিমধ্যে এখানে পরীক্ষা নেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। এসময় তিনি বলেন, আমি ঢাকা থেকে বরিশালে এসেছি একমাত্র করোনা নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার জন্য। ইতিমধ্যে বরিশাল ৫ আসনের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক, স্যানিটাইজার ও জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি বোঝার জন্য বরিশালে এসেই মিটিং করেছি। ঢাকা থেকে আসার সময় দেখলাম দলে দলে লোক আসছে ঢাকা থেকে। তারা গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে, যেটা ভয়ের বিষয়। এ কারণে করোনা স্থিতি লাভ করতে পারে এবং লোকজন ছুটি পেয়ে গ্রামে ছোটায় বিস্তৃতি লাভ করতে পারে করোনা ভাইরাস। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনারকে বলেছি আজকেও বরিশালের রাস্তায় যারা রয়েছেন তারাও যাতে ঘরে থাকে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।

কালকে থেকে তারা রাস্তায় শক্তভাবে পেট্রোলিং করবে। কোনো লোকজনকে রাস্তায় আসতে দেয়া হবে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় ছাড়া কাউকে রাস্তায় দাড়াতে দেয়া হবে না। সবাইকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হবে। তাছাড়া নগরীতে যে হাটার স্থানগুলো রয়েছে যেমন বঙ্গবন্ধু উদ্যানেও কাউকে হাটতে দেয়া যাবে না। জনগন যে খামখেয়ালী করে রাস্তায় নামছে এটা বন্ধ করতেই হবে। সবাইকে সচেতন হতে হবে। এটা এমন একটা জিনিস যার সাথে যুদ্ধ করা যাবে না।

যাকে চোখে দেখা যায় তার সাথে যুদ্ধ করা অসম্ভব। এটা থেকে যতদ্রুত সামলাতে পারবো ততদ্রুত উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।জাহিদ ফারুক বলেন, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খবর নিয়েছি। এখানে ডাক্তার রেডি রয়েছে। তাছাড়া এ্যাপোলো হাসপাতালটিও রেডি রাখা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লক্সগুলোও প্রস্তুত রয়েছে। সবই আলোচনা আমরা করেছি। অনেক জায়গায় শুনেছি ডাক্তাররা আসতে চাচ্ছেন না, সেখানে আমি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ডাক্তারদের সাথে কথা বলতে বলেছি। দরকার হলে আমি নিজেও কথা বলবো বলে জানিয়েছি। আমাদের কাছে যে কিট রয়েছে তা ১ সপ্তাহের মত চলবে।

আজকে ঢাকায় লোক পাঠানো হয়েছে আরো কিট আনার জন্য, আশা করি কালকেই তা চলে আসবে। জনসচেতনতার জন্য আরো লিফলেট বিতরণ এবং ব্যক্তিগত উদ্যেগে আরো ৭ হাজার মাস্ক ও ৪ হাজার হ্যান্ড স্যানিটাইজার আমি অর্ডার করেছি। ২/১ দিনের মধ্যে তা পেয়ে যাবো এবং এরপরেই বিতরণ করা হবে।

জরুরী সভায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান, জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: বাকির হোসেন সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন[email protected]এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]