‘করোনা প্রতিরোধে বাংলাদেশ সফল’


ধান-নদী-খাল এই নিয়ে বরিশাল। শিক্ষা, সাহিত্য, রাজনীতি, সংস্কৃতি, গবেষণা, সৃষ্টিশীলতা আর আধুনিকায়নে এই জেলার মানুষের ভূমিকা দেশের মধ্যে অগ্রণী। করোনার প্রভাবে স্থবিরতা এসেছে শস্যভাণ্ডার খ্যাত বরিশাল বিভাগে। তবে অন্য জেলার মতো এই জেলায় ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারেনি কভিড-১৯। এর নেপথ্য কারণ কি? সরকারের পদক্ষেপ, ঘোষিত বাজেট কতোটুকু কাজে আসবে বরিশাল জেলার মানুষের জন্য? কেমনতর দিন আসছে করোনা পরবর্তী সময়ে? এসব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সৈয়দ মেহেদী হাসান

সৈয়দ মেহেদী হাসান : নতুন অর্থবছর শুরু হয়েছে। করোনাকালে আপনার জেলায় বাজেট বাস্তবায়নে কি পদক্ষেপ ও দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে হবে বলে আপনি মনে করেন?

এস এম অজিয়র রহমান: করোনাকালে কঠোর সতর্কতার মধ্যে ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা’ শিরোনামে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে গতানুগতিক বাজেট থেকে সরে এসে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলা ও করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রনে স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এ খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ, প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রেখে এবারের বাজেট পাস হয়েছে। বাজেটে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে আশানুরুপ গুরুত্ব দিয়েছেন সরকার। বিশেষ করে পায়রা বন্দর, পদ্মাসেতুর মত বড় বাজেটের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এই অঞ্চলকে অর্থনৈতিক জোনে রূপান্তরিত করবে। তারপরও বলবো, গ্যাস সরবরাহ ও কর্মসংস্খান সৃষ্টিতে আরও উদ্যোগী হতে হবে।

করোনা পরবর্তীতে খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বিষয়টি মাথায় রেখে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবারের বাজেটে কৃষি উপকরণে প্রণোদনা, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা, স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা অব্যাহত রাখা ছাড়াও কৃষিখামার যান্ত্রিকীকরণে প্রকল্পসহ কৃষি উপ-খাতগুলোতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে লকডাউনে শিল্প-কলকারখানার উৎপাদন হ্রাসসহ বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। সংকট উত্তরণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এ সকল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য সরকার বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এবং বাজেটে সে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতে স্বল্প ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর অনেকেই কর্মহীন ও খাদ্য নিরপত্তা সংকটে পড়েছেন। দেশের এ সকল জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচীর সম্প্রসারণ ছাড়াও নতুন কিছু কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যায় প্রতি বছর অনেকেই বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যার একটি বড় অংশের শিকার বরিশাল জেলা। বিদ্যমান করোনাও নতুন ধরনের দুর্যোগ হিসেবে এসেছে। সে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ বাজেটের ব্যবস্থা করেছে, যেন তৃণমূল ও প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ শুধু করোনা নয়, যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারে।

বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতি উত্তরণ ও দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে এ জেলার জন্য বরাদ্দ বাজেট বাস্তবায়নের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে।

সৈয়দ মেহেদী হাসান : করোনা-পরবর্তী এই জেলার জন্য জন্য বড় চ্যালেঞ্জ কী কী হতে পারে?

এস এম অজিয়র রহমান: করোনা পরবর্তী সময়ে মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে আসবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো। যেহেতু সরকার এ জন্য আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজসহ রফতানিমুখী শিল্পের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান করছে, আশা করছি আমরা উদ্যোক্তাদের স্বাভাবিক বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারব। করোনা পরিরিস্থিতিতে যে সকল স্বল্প ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী কর্মহীন হয়ে পড়েছে, সে সকল জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সরকার অতিদরিদ্র ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আকারও সম্প্রসারণ করেছে। বিভিন্ন অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স ও সহজ শর্তে বেকার যুবক ও তরুণদের জন্য ঋণ প্রদানের ব্যবস্থাও সরকার গ্রহণ করেছে।

করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ তৈরি করাও আরো একটি চ্যালেঞ্জ। আশা করছি অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু সম্ভব হবে। বরিশাল জেলার বিশাল একটি জনগোষ্ঠী মৎস্য আহরণের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগে দেশে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এ খাতের সাথে জড়িত মৎস্যজীবীসহ অন্যান্যরা জেলার অর্থনৈতিক কর্মকান্ড স্বাভাবিক ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জেলার চ্যালেঞ্জ উত্তরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমি মনে করি।

সৈয়দ মেহেদী হাসান : সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা আপনার জেলার জন্য কতটা বাস্তবসম্মত? এর সঠিক ব্যবহার হবে কি না তা নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করছেন। সামাজিক সুরক্ষায় সরকারের বরাদ্দ সঠিকভাবে মানুষ পাবে বলে কি আপনি মনে করেন?

এস এম অজিয়র রহমান: সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা বস্তুনিষ্ঠ এবং বাস্তবসম্মত। যারা এসব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন তারা স্বপ্ন দেখতে পারেন না। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা, অর্থনৈতিক প্রভাব উত্তরণে ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আনতে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এ প্যাকেজের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ছাড়াও রফতানিমুখী শিল্পের উদ্যোক্তারা বিশেষ সুবিধা পাবেন।

বিদ্যমান মহামারী পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী যে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন সেটি শুধু বরিশাল জেলা নয় পুরো দেশের জন্যই অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বাস্তবতার আলোকেই ঘোষিত হয়েছে। সারা দেশের মতো বরিশাল জেলায়ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিএফ ও ভিজিডি, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ সুফলভোগীদের মাঝে সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক একাউন্টে চলে যাচ্ছে।

সৈয়দ মেহেদী হাসান : সঙ্কট থেকে উত্তরণে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সহায়তার কথা বলেছে। এই জেলায় কি পরিমান সহায়তা দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের কোনো অভিযোগ থাকবে না বলে আপনি মনে করেন?

এস এম অজিয়র রহমান : বাংলাদেশতো বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ বা আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রেসক্রিপশনে চলে না। চলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেসক্রিপশনে। সুতরাং আমাদের অর্থনীতি আমাদের হাতে গড়া। কে কি বললো সেটি বিষয় নয়; তারাতো শুধু বিনিয়োগ করেন। আমি মনে করি, করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে এ জেলায় কর্মহহীন হয়ে পড়া স্বল্প ও নিম্ন আয়ের বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার যেমন দিনমজুর, নরসুন্দর, রিকশা-ভ্যান-শ্রমিক, মোটরযান শ্রমিক, প্রতিবন্দী, হিজড়া, বেদে, দোকান কর্মচারী, ভাসমান শ্রমিক প্রভৃতি জনগোষ্ঠির ৫৩৫০৩২ পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রান সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি।

মুজিববর্ষে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ ৫০ লাখ পরিবারের মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিং পরিসেবার মাধ্যমে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১ লাখ ৩০ হাজার পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেওযা হয়েছে। এ ছাড়াও বিদ্যমান মহামারি পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পরা সংস্কৃতিকর্মী, শিল্পী, নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী, সাংবাদিকদের মাঝেও আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ জেলায় দারিদ্রতার হার ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্থ সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে সরকারি সহায়তার আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। সরকারি সহায়তা যেহেতু অর্থবছরেও অব্যাহত থাকবে তাই আশা করছি মানুষের কোন অভিযোগ থাকবে না।

সৈয়দ মেহেদী হাসান : প্রান্তিক পর্যায়ে করোনা পরীক্ষার যথেষ্ঠ সুযোগ-সুবিধা যদি না-ই থাকে, তাহলে সে ক্ষেত্রে জনগণের আসলে করণীয় কি? এ জেলায় কি করোনা পরীক্ষার সব রকম সুবিধা রয়েছে?

এস এম অজিয়র রহমান: বরিশাল একটি বিভাগীয় সদর দফতর এবং এই বিভাগের প্রবেশদ্বার। দক্ষিণবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী এই জেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে করোনা পরীক্ষার জন্য একটি আরটি পিসিআর ল্যাব রয়েছে। এ ল্যাবে বরিশাল জেলা ছাড়াও বিভাগের অন্যান্য জেলার মানুষের করোনা পরীক্ষা করানো হচ্ছে। একান থেকে পুরো বিভাগ থেকে আসা নমুনার ফলাফল প্রদান করা হয়। এ কারনে রিপোর্ট দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়।

তবে বিভাগের দ্বীপজেলা ভোলায় নতুন করে আরও একটি আরটি পিসিআর ল্যাব চালু করা হয়েছে। ফলে ওই জেলার মানুষ সহজেই করোনা পরীক্ষা করতে পারছে। দিনে দিনে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের করোনা ল্যাবের ওপর চাপ কমছে। তাছাড়া শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে আরও একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। ওই পিসিআর মেশিনটি দ্রুতই স্থাপন করা হবে। এতে করে এই ল্যাবের করোনা পরীক্ষার সক্ষমতা আরও বাড়বে। বরিশাল জেলা এবং বরিশাল বিভাগের জনসাধারণ উপকৃত হবেন।

সৈয়দ মেহেদী হাসান : সরকারের পক্ষ থেকেতো প্রথম দিকেই লকডাউনের মতো কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। তারপরেও কেন এ জেলায় করোনা নিয়ন্ত্রণ করা গেল না?

এসএম অজিয়র রহমান: বরিশাল জেলায় গত ১২ এপ্রিল প্রথম করোনা আক্রান্ত দুইজন ব্যক্তি শনাক্ত হন। বর্তমানে করোনা রোগীর সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। তবে এরমধ্যে সতেরোশর অধিক মানুষ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। আর মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৫ জন। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বললে, দেখবেন দিনদিন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমে আসছে। বরিশাল জেলা দেশের করোনা আক্রান্ত প্রথম দশটি জেলার মধ্যেও নেই।

তার মানে এই জেলায় করোনার বিস্তার রোধ করা গেছে। আমি মনে করি, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রচেষ্টায় করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সৈয়দ মেহেদী হাসান : অনেকেই তো বাইরে বের হলেও মাস্ক ব্যবহার করছেন না। এটা কি সবার জন্য ঝুঁকি নয়?

এস এম অজিয়র রহমান: বরিশাল জেলায় করোনা প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলা ও করোনা মহামারির সংক্রমন রোধ করার জন্য জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, বেসরকারী সংস্থার মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক মাইকিং, লিফলেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়াও গণসমাবেশ নিযন্ত্রণ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্কসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সরঞ্জামের মূল্য নিযন্ত্রণ ও করোনা সাসপেক্টেট ব্যক্তি, জেলা ও দেশের বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এ সকল অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৫৫ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় হয়েছে।

বর্তমানেও জেলার সাধারণকে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিযমিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাই যারা স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করছেন একইসাথে তাদেরকে সচেতন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা হচ্ছে।

সৈয়দ মেহেদী হাসান : সরকার তো লকডাউনের মাধ্যমে বিভিন্ন জোনভিত্তিক এলাকা ভাগ করে জনসাধারণের চলাচল সীমিত করে দিয়েছে। এটা কতোটুকু সহায়ক বলে আপনি মনে করছেন?

এস এম অজিয়র রহমান: করোনা প্রতিরোধে সারাবিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তদ্রুপ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশ সরকারও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আমি মনে করি সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ সফল। দেখবেন যে এলাকায় আক্রান্ত বেশি তা কিন্তু পুরোপুরি লকডাউন করা হয়েছে। তবে মানুষের প্রয়োজন, আর্থ ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় কম সংক্রমতি এলাকায় লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। এ না হলে সবকিছু স্থবির হয়ে যেত। করোনার আঘাতে আর্থ, সামাজিক অবস্থানে ধ্বস যেন না নামে সেজন্য পর্যায়ক্রমে লকডাউন দিয়ে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

সৈয়দ মেহেদী হাসান : আপনারা যে প্রথম তিনমাস সময় পেয়েছেন, করোনা বিস্তার রোধে তখন আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ কি সম্ভব ছিলো? তা করেছেন কি?

এস এম অজিয়র রহমান: যখন চীনে করোনার প্রথম প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে। আমরা কিন্তু সার্বিক খোঁজ খবর নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছি। কোন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে দেশে করোনা মহাদুর্যোগ দেখা দিবে না সেই পরিকল্পনা গ্রহন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথমেই স্যোসাল ট্রান্সমিশন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি। যে এলাকায় বেশি আক্রান্ত সেই এলাকায় বাড়তি কড়াকড়ি আরোপ, সম্ভাব্য আক্রান্তদের দ্রুত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা নিশ্চিতকরণ, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চতসহ কার্যকর বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমি মনে করি বিশ্বের অনেক দেশ করোনা প্রতিরোধে ব্যর্থ। বাংলাদেশ সফল হয়েছে।

সৈয়দ মেহেদী হাসান : এ জেলা সর্ম্পকে প্রতিক্রিয়া কেমন?

এস এম অজিয়র রহমান: বরিশাল অত্যন্ত সমৃদ্ধ জেলা। শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং মানুষের মন মানসিকতা অত্যন্ত আধুনিক। মূলত এই জেলার মানুষের সহযোগীতায় করোনা প্রতিরোধ যুদ্ধে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। যদিও অনেককে দেখা যায় করোনা আক্রান্ত হলে তা লুকিয়ে রাখেন। আমি অনুরোধ করবো, করোনা হলেই যে মৃত্যু হয় তা কিন্তু নয়। করোনাকে ভয় করার কিছু নেই। স্বাস্থ্য সচেতন হলে সহজেই করোনা জয় করা যায়। অনেকে আছেন, করোনা আক্রান্তদের সামাজিক বা মানসিকভাবে হেয় করেন। এটা করা অন্যায়। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিতে হেয় না করে বরংছ তার সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেওয়াই আমাদের কর্তব্য।

সৈয়দ মেহেদী হাসান : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

এস এম অজিয়র রহমান: আপনাকেও ধন্যবাদ।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-barisaltribune@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]