কি ঘটেছিল সেই রাতে বিএম কলেজে—জানালো লাঞ্ছিত শুভ

  • 41
    Shares

অসুস্থ ছিলাম, শারিরিক ও মানসিক দুই ভাবেই।যারা ঘটনা জানেন তাদের জন্য না। কথাগুলো বলা দরকার তাই বলছি, না বললেও খুব একটু ক্ষতি হত এরমটা ভাবছি না।তবুও বলি সময় থাকলে পড়বেন।

১৫ তারিখ কি হয়েছিল তা বলতে গেলে আজো আমার চোখে পানি আসে। নিজের কষ্টের বা আঘাতের পর আঘাতে যন্ত্রনার কারনে নয়,মানুষের উপর মানুষ এত নিষ্ঠুর ভাবে আক্রমন করতে পারে, এ কথা ভেবে। কিন্তু বলতে তো হবেই -১৫ তারিখ ব্যাচ ডে ছিল আমাদের,,ক্যাম্পাস থেকে ফিরতে ফিরতেই রাত হল। ওদের ভাষায় সেটা মধ্য রাত কিন্তু বাস্তবতা হল ৯ টা বাজে তখন।

যারা মনে করছেন বি এম কলেজে আমার কি কাজ তাদের জ্ঞাতার্থে বলি আমি যতটুকু সময় ক্যাম্পাসে থাকি তার চেয়ে খুব একটা কম সময় বি এম কলেজে থাকি ব্যাপারাটা এরম না।বি এম কলেজে মিটিং মিছিল করে আসছি সেই ২০১৭ সাল থেকে, এর মাঝে কাকে কখন কিভাবে খেপিয়ে তুলেছি বুঝতে পারিনি, অবশ্য বোঝাটা দরকার ছিল। ক্যাম্পাস দুরে হওয়ায় বি এম কলেজে পাঠচক্র করছি আজ তিন বছর ধরে,যাই হোক যারা ভাবছেন এত রাতে আমাদের ক্যাম্পাসে কি কাজ তাদেরকে একটু বলে রাখি বি এম কলেজের ভেতরে ঢুকেছিলাম কথা বলতে বলতেই। আর হ্যা শুধু মুনের সাথে না, অপুর্ব এবং হৃদয় আসতেছিল এবং ওরা ঘটনার পরপরই এসে পৌছায়।

মুন আর আমি তখন সাংস্কৃতি পরিষদের সিঁড়িতে বসে ওদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম আর কথা বলছিলাম। হঠাৎ আরিফুর রহমান লিয়ন নামের ছেলেটা আসলো ওর মুখটা আমার চেনা, আমাকেও সে চিনতো।

এসেই প্রথম কথা কারা আপনার? এখানে কি কাজ? ক্যাম্পাস থেকে এক্ষুনি বেরিয়ে যান।

প্রথমত বললাম আমরা সামান্য কিছু আলোচনা করতে এসেছি মিনিট পাচেক লাগবে এর পরেই চলে যাবো। আর আমাদের সাংগঠনিক পরিচয় দিলাম। উনি বললেন তোর সংগঠনের মায়েরে..
ভার্সিটির পোলাপান তোগো এইহানে কি কাম।এক্ষুনি বের হ ক্যাম্পাস থেকে।

মুন বাদে অন্য কোন মেয়ে থাকলে কোন ঝামেলাই হত না।কারণ অন্য কোন মেয়ে হল তো চুপচাপ মেনে নিত, মুন সেটা নেয় নি ও বলে উঠল, ভাষা সংযত করেন। আর যাবা কৈ, এবার শুরু হল গালির গুলি বর্ষণ। বাধ্য হয়ে আমি ও মুন দুজনেই প্রতিবাদ করলাম।

ব্যস, চার আঙ্গুল মাইয়া মুখে মুখে কথা কয় তোর মুখ ভাইঙা দিমু।জানিস,ধর্ষন চেষ্টার মামলার আসামী আমি,আরো গোটা দশেক মামলা আছে আমার নামে। বলেই আমার ওপর শুরু হল মাইর। মোটামুটি এক কিস্তি মাইরের পর আসলো আরো ২০/২৫ জনের মত, হইলো আরেক চোট মাইর।চড়,কিল, ঘুষি, লাথি…এরপর হামলাকারীদের মাঝ থেকেই দুজন আমাকে চিনলো এবং বাকিদের থামালো। এর মাঝে পুলিশ এলো হামলা মারের পালা শেষ হল।

একটু বলে রাখি মাদকাসক্ত লিয়ন আমাকে প্রথম মিনিট দশেক মারার পর বুকে জড়িয়ে বলে এ আমার ছোট ভাই এর গায়ে কেউ হাত দিবি না। আবার খানিক পরে নিজেই মার শুরু করে, আবার খানিক পরে নিজেই থামায়।ব্যাপারটাতে আমি বেশ অবাক হচ্ছিলাম।

যাই হোক মারামারি শেষে পুলিশের এসআই বললেন ভাই সবই বুঝতে পেরেছি, আপনাকে স্বান্তনা দেওয়ার সুযোগ আমার নেই, আমি আপনার জন্য এই মুহুর্তে কিছু করতেও পারবো না, আপনার কোন অভিযোগ থাকলে সেটা বইলেন।

আমি তো মার খেয়ে বাচছি কিন্তু মরছে মুন। পুরো সময়টা তাকে নানা রকম নোংরা মন্তব্য করা এবং যাবতীয় টিজিং চলেছে যা আমার পক্ষে এই মুহুর্তে বর্ণনা করা সম্ভব নয়।

আমাদের বিরুদ্ধে প্রথমে অভিযোগ ছিল আমরা ভার্সিটি থেকে এসে বিএম কলেজের ছাত্রদের সাথে বেয়াদবী করেছি, এর পরে নতুন অভিযোগ দায়ের হল আমরা নাকি ওদের ফোন চুরি করেছি, সর্বশেষ আজকে দেখলাম অভিযোগ এসেছে আমরা নাকি আপত্তিকর না অশ্লীল অবস্থায় ছিলাম। প্রথমত আমাদের হামলার মাঝে একজন স্যার এসেছিলেন উনি জানেন পুরো ব্যাপারটা শুধু শুধু ঘটিয়েছে ওরা, আর যে এস আই এসেছিলেন উনিও জানেন, আপনারা চাইলে আমি এস আই এবং স্যারের নাম প্রকাশ করতে পারি।

ওরা বলছে আপত্তিকর একটু প্রশ্ন করবেন নিজের কাছে কলেজের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তার পাশে বসে কিভাবে একজন আপত্তিকর অবস্থায় যেতে পারে? আবার বলছেন মুন মেরেছে ওদেরকে, এটা ক্যামনে সম্ভব যখন ও নিজেই নিজের সম্ভ্রম বাচানোতে ব্যস্ত। ওরা পরে বলেছিল মুন ওদের ফোন চুরি করেছে এ বাবদ ২০০০০ টাকাও দাবী করেছিলো।

আপনারা যদি কেউ মুনকে চোর পর্যন্ত মনে করতে পারেন তাইলে আপনারে বোঝানোর কিছু নাই আমার।আমি নাকি ওদের দিকে ফোন ছুড়ে মেরেছি,বেশ ভালো কথা কিন্তু একজন যদি মানুষ ২৫-৩০ জন মানুষের এট্যাকের শিকার হয় তাহলে সে তো চাইবে নিজের ফোনটা কাছে রেখে পরিচিতদের সাথে যোগাযোগ করে জান বাচাতে সে কেন নিজের ফোন ছুড়ে দিয়ে বিপদে পড়বে??!!!

আর নিউজে বলা হয়েছে এরা প্রায়ই আপত্তিকর অবস্থায় থাকে, ঘটনা সত্য হলে এই লেখাটা আমাকে যে বহুবার লিখতে হত সেটা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

কয়েকটি নিউজ পোর্টালে নিউজ করা হলো। কিন্তু নিউজে কোথাও ভিক্টিমের বক্তব্য নেয়া হয় নাই সেটাকে কি আপনারা যৌক্তিক মনে করেন??

হামলার পর বি এম কলেজের প্রিন্সিপাল ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের সাথে দেখা করলে ওনারা বলেন একটা অনাক্ষাঙখিত ঘটনা ঘটেছে,,আমরা মামলা করলে ওনারা আপত্তি জানাবেন না সেটাও জানান।

হামলাকারীরা আরো জানায় দিন বিশেক আগেও তারা ভার্সিটির একটা ছেলে আর মেয়েকে মেরেছে এবং টাকা পয়সা নিয়ে নিয়েছে,তারা হয়তো লজ্জায় কাউকে জানাতেও পারে নি। কিন্তু আমি তো আর চুরি করতে যাই নি সেখানে তাই প্রতিরোধটা করতেই চেয়েছি যাতে আর কোন শিক্ষার্থী এই মাদক সেবীদের দ্বারা লাঞ্চিত না হয়।

গতকাল সকালে বরিশাল সদরে আসাদ দিবসের প্রোগ্রামে এই হামলার প্রতিবাদ জানানো হয়, দুপুরে এই হামলার প্রতিবাদে বি এম কলেজে একটা বিক্ষোভ মিছিল হয়। আজ সকালে বি এম কলেজে একটা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের ঘোষণা দেয় বি এম কলেজের শিক্ষার্থীরা, ফেসে যাওয়ার ভয়ে এবং নিজেদের মুখোস খুলে যাওয়ার ভয়ে লিয়ন ও তার সহযোগীরা মিলে পাল্টা কর্মসুচী দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে আটকে দিতে চায়,প্রশাসন ও লিয়নদের এত বাধার পরেও বি এম কলেজে বিক্ষোভ মিছিল ও সাংবাদিক সম্মেলন করে শিক্ষার্থীরা। বি এম কলেজের শিক্ষার্থীদেরকে আন্দোলন করতে দেখে আমার ক্যাম্পাস ববিরও কিছু শিক্ষার্থী আগামীকাল কর্মসূচি ঘোষণা করে।তাতেই শুরু হয় যত বিপত্তি।

দাড়িয়ে পক্ষে বিপক্ষে দুটো দল। আমি সত্যিই এটা আশা করিনি।

আমার প্রাণের ক্যাম্পাসের সকল শিক্ষার্থীদেরকে তিনি পক্ষে- বিপক্ষে,আমাকে ভালবাসেন বা ঘৃণা করেন তাদের সবাইকে বিনীতভাবে বলতে চাই আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছি সব সময় ক্যাম্পাসে একটা গনতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরী করার, চেয়েছি ববি মিছিল করুক, স্লোগান দিক, প্রতিবাদ করুক, ন্যায়ের পক্ষে দাড়াক।

আমি কতটুকু পেরেছি বা পারি নাই সে আলোচনা করবো না শুধু বলবো তিনটা বছরের প্রতিটা দিনই আমি ববির সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার কাজ করে গেছি,আজকে যদি মনে করেন হ্যালো বরিশাল বা গেলো বরিশাল নামক কোনো পোর্টাল ঠিক বলেছে, ভিক্টিমের বক্তব্য না নিয়েই নিউজ করাকে ইথিকাল মনে করে আমাকে অচ্ছ্যুত ঘোষণা করেন তবুও আমার চেষ্টা কমবে না আরো বেশি করে চেষ্টা করবো আপনাদের সাথে থাকার, পাশে থাকার।

সকলে ভালো থাকবেন
(বি.দ্র. নিজের থেথলানো মুখের একটা ছবি দিলাম, সিম্প্যাথি পাবার জন্য না, আমরা যে হামলা করেছি আর ওরা মাইর খাইছে সেটা লিয়নের সাথে আমার চেহারা মিলালে বুঝতে পারবেন)

আর হ্যা‍ঁ জীবনে প্রথম এরম বিভৎস অভিজ্ঞতা কাটিয়ে উঠতে সময় লেগেছে এবং বি এম কলেজ প্রশাসনের ওপর আস্থারেখে বি এম কলেজের সমস্যার সমাধান বি এম কলেজ ক্যাম্পাসেই করতে চেয়েছিলাম।সেটা যখন হল না তখন বরাবরের ন্যায় আবার রাস্তাতেই নামবো, সেটা একা হলেও।

(লেখাটি সঞ্জয় শুভ’র ওয়াল থেকে কপিকৃত)


  • 41
    Shares

[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-barisaltribune@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]