কেউ শোনেনি কারও কথা


বরিশাল : নির্দেশনার সাথে বাস্তবের কোন মিল ছিল না আজকের বরিশাল নগরীর চিত্র। করোনার বিস্তার রোধে নৌ-যান এবং সড়ক পথে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ করা হলেও মানুষের ভিড় আটকানো যায়নি। খুব সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা মানুষগুলো ফিরতে শুরু করে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায়।

এতে করে লোকে লোকারন্য হয়ে যায় নথুল্লাবাদ, রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড। দেখা গেছে, বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও রুপাতলী থেকে কমপক্ষে ২০টি বাস অভ্যান্তরীন রুটে ছেড়ে গেছে। এছাড়াও পিকআপ ভ্যানে করে ঝুলতে ঝুলতে গন্তব্যে পারি জমিয়েছে এই অঞ্চলের মানুষ। ওদিকে বাস, থ্রি-হুইলার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অস্বাভাবিকহারে বেড়েছে রিকশা ভাড়া। ৪০ টাকার রিকশা ভাড়া নিচ্ছে ১০০ টাকা।

এসব নিরোধে প্রশাসনের বিশেষ কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তবে কীর্তনখোলা নদীতে খেয়া পারাপার স্বাভাবিক ছিল। আর বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল নদী পন্টুন জনশূন্য দেখা গেছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কয়েকজন কর্মী পাহারায় ছিলেন।

বিআইডব্লিউটিএর পন্টুন স্টাফ মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, বুধবার দুপুরে লঞ্চ চলাচল বন্ধের সরকারি নির্দেশনা জারির পর থেকে বরিশাল নদীবন্দর থেকে কোনো যাত্রীবাহী লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। নদীবন্দরে যাতায়াতে পন্টুনের সবগুলো গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনের কোনো যাত্রী নদীবন্দরে যেতে চাইলেও গেট থেকে ফিরে যাচ্ছে। সকাল থেকে বরিশাল নগরের বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ। তবে নির্দেশনা অনুযায়ী ফার্মেসি ও মুদি দোকানগুলো খোলা রয়েছে। এর বাইরে কিছু দোকানপাট খোলা হলেও তা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বন্ধ করার জন্য ব্যবসায়ীদের বলছেন।

একইচিত্র ভোলা জেলায়। বরিশাল বিভাগের বাইরের এই জেলায়ও গতকাল উপচে পরে ভিড় করে মানুষ ফিরেছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং করোনার আতঙ্ক উপেক্ষা করে ফেরি, নৌকা ও ট্রলারে করে হাজার হাজার মানুষ দ্বীপজেলা ভোলায় প্রবেশ করছে। সকালে লক্ষ্মীপুরের মৌজু চৌধুরীর ঘাট থেকে বিআইডব্লিউটিসির একটি ফেরিতে ভোলার ইলিশা ঘাটে এসেছে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী।

একইভাবে নৌকা, ট্রলার ও স্পিডবোটে দেশির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভোলায় যাত্রী আসলেও এদের নিয়ন্ত্রণে ঘাটগুলোতে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। ভোলা-ইলিশা সড়কে উৎসবের আমেজে হাজার হাজার মানুষকে ঘরের উদ্দেশ্যে ছুটতে দেখা যায়। এদের নেই ভাইরাস প্রতিরোধের কোন ব্যবস্থা। এমনটি অধিকাংশকেই দেখা গেছে মাস্কবিহীন। হাতে গ্লোভস নেই। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে একা চলার পরিবর্তে এরা উৎসব আমেজে গন্তব্যে ছুটছেন।

যাত্রীরা জানান, সরকারি ছুটির ঘোষণায় রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে অবস্থান করলে নানান ভোগান্তির শিকার হবেন- এই আশঙ্কা থেকে তারা সুযোগ বুঝে দেশের বাড়িতে স্বজনের কাছে ফিরেছেন। বিআইডব্লিউটিসির ফেরি কনপচাঁপার মাস্টার আজিজুর রহমান জানান, ভোররাত ৩টায় তার ফেরিটি লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর ঘাটে ভিড়ানোর হয়। আন লোডের আগেই হাজার হাজার যাত্রী ফেরিতে উঠে পরে। নিরুপায় হয়ে বাস-ট্রাকের পরিবর্তে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী নিয়ে ভোলায় আসতে বাধ্য হয়েছেন তারা। ্এভাবে দিনে একলাখের অধিক মানুষকে ভোলায় বহন করেছে।

ওদিকে মানুষকে ঘরে রাখতে লাঠিপেটা করেছে বরগুনা পুলিশ। রাতে বরগুনা শহরে পুলিশকে এমন অ্যাকশন নিতে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে এমনিতেই জেলাজুড়ে প্রশাসনের কড়াকড়ি চলছে। জরুরি পণ্য বিক্রির দোকান ব্যতীত অন্য সব দোকান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। রয়েছে সাধারণ মানুষের ঘরের বাইরে না যাওয়ার নির্দেশনা।

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে বরগুনার সদর রোডের সব দোকানপাট যখন বন্ধ তখন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বরগুনা বাজারে হাঁটাচলা করছিলেন কিছু মানুষ। ঠিক তখনই শুরু হয় পুলিশের অ্যাকশন। শহরে হাঁটাচলা করা এসব মানুষের কাউকে পিটিয়ে আবার কাউকে শাসিয়ে বাড়ি পাঠিয়েছে পুলিশ।

বরগুনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাহান হোসেন বলেন, আমাদের কাছে বরগুনা তথা এ জনপদের মানুষকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। আমি সবাইকে অনুরোধ করব- জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে যাবেন না। রাস্তায় জনসমাগম হলেই কঠোর ব্যবস্থা নেব আমরা।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-barisaltribune@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]