গডফাদারদের বাঁচাতেই নয়নকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছে!

  • 279
    Shares

আনিসুর রহমান : নয়ন বন্ডকে ক্রসফায়ারে জীবন দিতে হবে এটা সে কখনোই ভাবেনি। কারণ সে ভেবেছে তাকে যারা আদর-স্নেহ দিয়ে আগলে রাখতেন, মামলা হলে জামিন করে দিতেন তাদের হাত অনেক ওপরে। তার আত্মবিশ্বাস ছিল বড় ভাইদের সাথে তার সুসম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। পুলিশ কি তাদের নির্দেশের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারবে? কই? অতীতে তো পারেনি!

অস্ত্র মামলা দিয়েও তো থানায় আটকে রাখতে পারেনি! এর আগে রিফাত ফরাজীরা এক পুলিশ সদস্যের বাসায় গিয়ে ভাঙচুর করেছে, কিছুই তো হয়নি। এ ছাড়া দেশে কয়টা হত্যাকাণ্ডের বিচায় হয়? সাগর-রুনি, চট্টগ্রামের মিতু, কুমিল্লার তনু এবং সবচেয়ে বড় যে হত্যাকাণ্ড- বিশ্বজিৎ দাস, এসবের কোনোটারই তো বিচার হয়নি, সাজা হয়নি! বছরের পর বছর চলে যাচ্ছে, কোনো হত্যাকাণ্ডের মোটিভই উদ্ধার হয়নি!

সে যখন আগের রাতে রিফাত-রিশানদের নিয়ে তাদের গ্রুপে রিফাত শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করে তখন নিশ্চয়ই এসব ভাবনাগুলো তার মাথায় এসেছে।

না হয়, একজন মানুষ যদি এ কথা একবারের জন্যও চিন্তা করে, হত্যা করলে পার পাওয়া যাবে না। নিজের জীবনটাও শেষ হয়ে যাবে। তাহলে কোনো সুস্থ মানুষ ঠাণ্ডা মাথায় কখনো একজন মানুষকে প্রকাশ্যে হত্যা করতে পারে না।

হত্যাকাণ্ড যা ঘটেছে এ পর্যন্ত- যারা ভয় পেয়েছে তারা গোপনেই তাদের মিশন পূর্ণ করেছে। আর যারা ভয় পায়নি, যারা মনে করেছে হত্যা করে পার পেয়ে যাবে কেবল তারাই প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড অন্যতম। সেই পথ ধরেই রিফাত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে নয়নরা।

তবে এই ক্রসফায়ারে নয়ন নিহত হওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চলছে নানা ধরনের আলোচনা পর্যালোচনা। কেউ বলছে নয়নকে কেন ক্রসফায়ার দেওয়া হলো আর রিফাতকে কেন নয়! আবার কেউ বলছে গডফাদারদের বাঁচানোর জন্যই নয়নকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছে। সে বেঁচে থাকলে এমন তথ্য বেরিয়ে আসতো এতে ফেঁসে যেতে পারতো এমপিপুত্র সুনাম দেবনাথ।

কারণ সুনাম দেবনাথের সাথে নয়নের সখ্য মাদক কারবারি নিয়ে, এটা বেশ আগে থেকেই এলাকায় এবং নিজ দলের মাঝে আলোচনা হয়ে আসছে। যদিও এই আলোচনাকে প্রতিপক্ষের অপপ্রচার বলে দাবি করছেন সুনাম।

এদিকে নয়নের ক্রসফায়ার প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘কোনোভাবেই বিচাবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন যোগ্য নয়। নয়ন একদিনে তৈরি হয়নি, তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে বানানো হয়েছে।’ হাইকোর্টের এই বক্তব্যে জনগণ খুশি হয়েছে। কারণ এই বক্তব্য জনগণের চিন্তারই প্রতিফলন। আমরা যেমন বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কামনা করি না। আবার এটাও কামনা করি না যে দেশে কেউ কাউকে খুন করে ফেলুক, সেটা প্রকাশ্য কিংবা গোপন।

আমার বিশ্বাস দেশে যদি আইনের শাসন কায়েম হয়, অব্যাহত ভাবে হত্যা এবং ধর্ষণের দৃষ্টান্তমূলক সাজা চলতে থাকে তাহলে এই দেশের মানুষ আবার আইন-আদালতের ওপর পূর্ণ আস্থা ফিরিয়ে আনবে। দেশের মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ক্রসফায়ারকে সমর্থন করার একটাই কারণ, বিচার বিভাগের প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলছে, লাখ লাখ মামলা বছরের পর বছর ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বলেছিলেন, মামলার পরিমাণ এতই বেশি যে কোর্টে ফাইল রাখারই জায়গা নেই।

আমরা সেসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চাই। মানুষ যাতে শান্তিতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে, স্বাধীন দেশে এটাই আমাদের প্রধান চাওয়া। আর যেন সমাজে কোনো নয়ন বন্ড তৈরি না হয়, আর যেন কোনো মায়ের বুক খালি না হয়। আমরা চাই এই নয়ন বন্ড হোক প্রতিটা অপরাধীর কাছে এক দৃষ্টান্তমূলক শিক্ষা।

নয়নের পথ ধরে যেন আর কেউ না আগায়। আর যেন কেউ মনে না করে বড় ভাইয়েরাই রক্ষা করবে। মনে রাখতে হবে- ‘চাচা আপন প্রাণ বাাঁচা’। বিপদ যতক্ষণ না আসবে ততক্ষণ বড় ভাইয়েরা আপনাকে বাঁচাবে, যখন বড় ভাইয়েরা বিপদে পড়ে যাবে তখন দেখবেন আপনাকে আর বড় ভাইয়েরা চেনে না। আপনাকে সেফ করবে আবার আপনার অবস্থানই পুলিশ বা র‌্যাবের কাছে বলে দেবে। পরিণাম বন্দুকযুদ্ধ, পরিণাম ক্রসফায়ার।

(লেখক: যুগ্ম বার্তা সম্পাদক, পূর্বপশ্চিমবিডি)


  • 279
    Shares

বরিশালট্রিবিউন.কম’র (www.barisaltribune.com) প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।