ঘুরে আসুন প্রকৃতির জাদুকর সুনামগঞ্জে


পাহাড়, নদী ও হাওরের জন্য বিখ্যাত সুনামগঞ্জ। এখানে মনোমুগ্ধকর কয়েকটি দর্শনীয় স্থান রয়েছে। চাইলে একদিনেই এসব দর্শনীয় স্থান দেখা সম্ভব। কর্মময় জীবনে যাদের ছুটি খুব কম, তারা রাজধানী থেকে মাত্র দু’দিনের ছুটি নিয়ে এসব স্থানে ঘুরে আসতে পারেন। সুনামগঞ্জ থেকে প্রথমে লাউরের গড় হয়ে জাদুকাটা নদী, তারপর নদী পার হয়ে বারিক টিলার ওপর থেকে জাদুকাটা নদী দেখে শিমুলবাগান হয়ে নীলাদ্রি লেক ও টাঙ্গুয়ার হাওর প্রভৃতি জায়গা ঘুরে বেড়াতে পারবেন। এসব জায়গায় বাইক রিজার্ভ করারও সুযোগ রয়েছে।

জাদুকাটা নদী
সুনামগঞ্জের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের কোলঘেঁষে বয়ে চলেছে জাদুকাটা নদী। নদীর এ নামকরণের কারণ হচ্ছে, নদীতীরবর্তী কোনো এক গাঁয়ের বধূ শিশুপুত্র জাদুকে কোলে নিয়ে এ নদীর মাছ কাটছিলেন। একপর্যায়ে অন্যমনস্ক হয়ে মাছের জায়গায় তার কোলের শিশুকে কেটে ফেলেন। সেই থেকেই নামকরণ করা হয় জাদুকাটা নদী। মেঘালয়ের খাসিয়া পাহাড় থেকে বয়ে চলা এ নদীটি প্রায় ২০ মাইল পর্যন্ত গিয়ে সুরমা নদীতে এসে মিলিত হয়েছে। নদীর এক পারে দেখা যায় সবুজ বৃক্ষরাজিময় বারেক টিলা। স্বচ্ছ পানির ধারা, নীল আকাশ ও সবুজ পাহাড় একসঙ্গে মিলেমিশে অপূর্ব এক দৃশ্যের সৃষ্টি করেছে। আপন মহিমায় সযতে্ন সাজানো নদীর সবটুকু। নদীর পাশাপাশি চোখে পড়ে স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মতৎপরতা। শ্রমিকেরা প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদী থেকে পাথর, কয়লা ও বালি আহরণ করে।

বারেক টিলা
তাহিরপুর উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবস্থিত বারেক টিলা। অর্থাৎ জাদুকাটা নদীর পাশেই এ টিলা অবস্থিত। টিলার ওপর থেকে মেঘালয়ের খাসিয়া পাহাড় দেখা যায়। এখানে প্রায় ৪০টি আদিবাসী পরিবার বাস করে। বারেক টিলার ওপর থেকে জাদুকাটা নদীর দিকে তাকালে যে অপূর্ব দৃশ্য চোখে পড়ে, তা দেখে সারা দিনের ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যায়। ক্যাম্প করার জন্য এ জায়গাটা বেশ উপযুক্ত। এখান থেকে সূর্যোদয়ের সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

শিমুল বাগান
তাহিরপুর উপজেলার জাদুকাটা নদীর নিকটবর্তী মানিগাঁও গ্রামে প্রায় ১০০ বিঘার বেশি জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে শিমুল গাছের বাগান। প্রায় ১৪ বছর আগে তিন হাজার শিমুল গাছ লাগানোর মাধ্যমে জয়নাল আবেদীন নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী এ বাগান শুরু করেন। শিমুল গাছের পাশাপাশি এখানে অনেক লেবু গাছও রয়েছে। শিমুল বাগানে ভ্রমণের জন্য বসন্তকাল উপযোগী। বসন্তকালে শিমুল বাগানের দিকে তাকালে গাছের ডালে ডালে লেগে থাকা লাল আগুনের ঝলকানি চোখে এসে লাগে। শিমুল ফুলের পাপড়িগুলোর সৌন্দর্য মন জুড়িয়ে দেয়।

নীলাদ্রি লেক
তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের টেকেরঘাট গ্রামে নীলাদ্রি লেকের অবস্থান। এ লেকের প্রকৃত নাম শহীদ সিরাজ লেক। তবে নীলাদ্রি নামেই অধিক পরিচিত। অবশ্য স্থানীয় লোকজন একে টেকেরঘাট পাথর কোয়ারি নামেই চেনে। চমৎকার নীল পানি, ছোট-বড় টিলা আর পাহাড়ের সমন্বয়ে লেক হয়ে উঠেছে অপার্থিব সৌন্দর্যের অধিকারী। এ সৌন্দর্যের জন্য অনেক পর্যটক একে বাংলার কাশ্মীর হিসেবে অভিহিত করেন।

টাঙ্গুয়ার হাওর
সুনামগঞ্জের যেখানেই ঘুরতে যান না কেন টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরতে না পারলে আপনার ভ্রমণটাই যেন বৃথা হয়ে যাবে। প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত জায়গাজুড়ে বিস্তৃত মিঠাপানির জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওর। এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জলাভূমি। অথৈ পানি, নীল আকাশ, পাহাড়সহ চোখজুড়ানো সবুজ এ হাওর অপরূপ সাজে সেজেছে। বর্ষাকালে এ স্থান পানিতে টইটম্বুর হয়ে যায়। এ হাওরে প্রায় ১৪০ প্রজাতির মাছ, প্রায় ১২ প্রজাতির ব্যাঙ ও ১৫০ প্রজাতির বেশি সরীসৃপ রয়েছে। শীতকালে এ হাওরে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির আগমন ঘটে। টাঙ্গুয়ার হাওরে ছোট-বড় প্রায় ৪৬টি দ্বীপ রয়েছে। হাওরের পানি এতই স্বচ্ছ যে, ওপর থেকে হাওরের তলা দেখা যায়। নৌকায় এক রাত থাকার অভিজ্ঞতা নিতে পারলে বেশ ভালো লাগবে, যদিও এ হাওরে থাকার জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। কিন্তু নৌকায় এক রাত কাটাতে চাইলে পাড়ের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করুন। এতে রাতের পরিবেশটাও উপভোগ করতে পারবেন।

লাকমাছড়া
লাকমাছড়া হচ্ছে সিলেটের বিছানাকান্দির মতোই পাহাড়ে ঘেরা একটি জায়গা। এখানে একটা ঝরনা রয়েছে। মেঘালয় পর্বতমালা থেকে এ ঝরনাধারার পানি নেমে আসে। তবে সেই ঝরনার কাছে যাওয়া নিষেধ। বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তে হওয়ায় ঝরনার কাছে যাওয়ার অনুমতি নেই। এখানে কোনো কোলাহল বা ময়লা আবর্জনা নেই, তাই জায়গাটি মুগ্ধ করার মতো। অনেক বড় পাথর রয়েছে। পাহাড়ের গায়ে কয়েকটি ঘরবাড়ি রয়েছে, দেখতে বেশ অদ্ভুত লাগে।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন[email protected]এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]