চরফ্যাসনে আলুু চাষে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে—কৃষি বিভাগের আশা


ভোলা : চরফ্যাসন উপজেলায় চলতি মৌসুমে গোল আলুর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বছর উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ২১টি ইউনিয়নের চাষযোগ্য জমিতে এখন দেখা যাচ্ছে শুধু সবুজ আলুগাছ। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকার কারণে আলু গাছ ভালো অবস্থায় রয়েছে, তবে আর ২০ থেকে ২৫ দিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চরফ্যাসন উপজেলায় গোল আলুর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তা।

চরফ্যাসন উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ঠাকুর কৃষ্ণ দাস বলেন, এ বছর আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২ হাজার ২৫ হেক্টর, তবে চাষ হয়েছে ২ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে। গত মৌসুমে অতি বৃষ্টির কারণে আলু চাষে কিছুটা লোকসান হওয়ায় এ বছর ৫ হেক্টর কম জমিতে আলু চাষ করেছেন কৃষকরা। তবে এখন থেকে ঘন কুয়াশা ও বৃষ্টিপাত কম হলে আশানুরূপ ফলন এবং কৃষকরা লাভবান হবে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

চরফ্যাসন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আালু ক্ষেত ঘুরে দেখে মনে হয়, সবুজ আলো গাছের নিকানো প্রান্তরগুলো যেনো কৃষকের হাসির রং ছড়াচ্ছে।

কয়েকজন কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতে যখনই আলুর বীজ লাগানো শুরু হয়, তখনই আকস্মিকভাবে নেমে আসে অনাকাক্ষিত বৃষ্টি, এতে আলুর বীজে কিছুটা পচন দেখা দিলেও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও কৃষকদের হার না মানা পরিশ্রমে আলুর বীজের তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। তবে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে কিছু আলু ক্ষেতের বীজ ৬০ ভাগ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের পুনরায় বীজ রোপণ করতে হয়েছে। আবার কেউ কেউ আলুর পরিবর্তে সেখানে মরিচের চাষ করেছেন।

চরফ্যাসন উপজেলার ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের হাসানগঞ্জ গ্রামের কৃষক আবু তাহের ও নছির হোসেন বলেন, সার-কীটনাশক ও বীজের খরচসহ গণ্ডা প্রতি প্রায় ৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। আবার এবছর শুরুতে বৃষ্টির কারণে ক্ষেতে বেশকিছু জায়গায় আলুর বীজ পচে যাওযায় সেখানে পুনরায় বীজ রোপণ করতে হয়েছে। ফলন ভাল হলেও এতে করে বাজার দর কম হলে লোকসান গুনতে হবে বলে জানান তারা।

নীলকমল ইউনিয়নের চরযমুনা গ্রামের কৃষক শাহে আলম মিঝি বলেন, আমি এ বছর ২ একর জমিতে আলুর বীজ লাগিয়েছি। এ পর্যন্ত আলু গাছের গঠন দেখে মনে হচ্ছে আবহাওয়া ভাল থাকলে আশানুরূপ ফলন পাবো।

আহাম্মদপুর ইউনিয়নের আলু চাষি মোঃ হোসেন মিয়া বলেন, আমি এ বছর ১ একর জমিতে আলু লাগিয়েছি। আকাশ ভাল থাকলে ও ছত্রাক আক্রমণ না করলে এ বছর আলুর ভালো ফলন পাবো বলে আশা করছি।

চরফ্যাসন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু হাসনাইন বলেন, চরফ্যাসন উপজেলায় এ বছর আবহাওয়াজনিত কারণে আলুর তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। প্রথম দিকে বৃষ্টির কারণে সমস্যা দেখা দিলেও কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সমাধান করেছি।

তিনি আরও বলেন, এ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও আগামী দিনেও যদি ঘন কূয়াশা না থাকে, আকাশ রৌদ্রজ্জ্বল থাকে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো প্রকার ক্ষতি না হয়, তাহলে চরফ্যাসন উপজেলায় আলুর ভালো ফলনের সম্ভবনা রয়েছে।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-barisaltribune@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]