চাঁদপুরে বিউটিশিয়ান তানজিনা খুন


অমরেশ দত্ত জয়ঃ চাঁদপুর পৌর ১৩ নং ওয়ার্ডে বিউটিশিয়ান তানজিনা বেগম(২৫) কে খুন করা হয়েছে।১৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাত সাড়ে ৮ টায় এটি নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসিম উদ্দিন।তিনি সাংবাদিকদের বলেন,তানজিনা বেগম কে তাঁর স্বামী জুয়েল খান গলা টিপে হত্যা করেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারনা করছি।আর হত্যা করার পর জুয়েল তানজিনাকে সদর হাসপাতালের নীচে রেখে পালিয়েছে।আমরা এ ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করেছি।এ ব্যপারে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ইন্সপেক্টর(তদন্ত) মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন,তানজিনা বেগমের স্বামী জুয়েল খান প্রায়ই যৌতুকের টাকার জন্য তাকে মারধর করতো।

এমন একটি যৌতুক ও নির্যাতনের মামলা জুয়েলের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতেও চলমান রয়েছে।আমরা ধারনা করছি, এই যৌতুকের মামলা তুলে নিতেই জুয়েল খান ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্ত্রী তানজিনাকে গলা টিপে হত্যা করেছে।এ ব্যপারে চাঁদপুর সদর মডেল থানার কমিউনিটি পুলিশিং ইন্সপেক্টর আবদুর রব জানান,আমরা তানজিনা হত্যার খবর পেয়ে হাসপাতালে যাই।সেখানে গিয়ে জানতে পারি সন্ধ্যা ৭ টায় তানজিনা কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।কিন্তু কে ভর্তি করলো তার নাম হাসপাতালের জরুরি বিভাগ কর্তৃপক্ষ না লিখে উদাসিনতা করেছে।তবে আমরা তদন্তের স্বার্থে হাসপাতালের ওই সময়ের সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি।সেখান থেকেই জানতে পারবো তানজিনাকে কে বা কারা হাসপাতালে এনে রেখে গিয়েছিলো।এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী জানান,কিছু দিন পূর্বে তানজিনা বেগম তার স্বামী পরিচয়ে জুয়েল খানকে নিয়ে পৌর ১৩ নং ওয়ার্ডে আসে।সেখানে ওয়ারল্যাছ বাজারস্থ টিএনটি অফিসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারিছ বেপারির ৪ তলা ভবনের নীচতলা ভাড়া নেয়।

সেখানেই তানজিনা নিজের নামে একটি বিউটি পার্লার খুলে ব্যবসা শুরু করে।এদিকে ঘটনার দিন রাতে চাঁদপুর সদর মডেল থানার এএসআই শাখাওয়াত সহ সঙ্গীয় ফোর্স তানজিনা যে বাসায় ভাড়া থাকতো সেখানে যায়।সেখানে গিয়ে এক ভূতুরে অভিজ্ঞতার কথা সাংবাদিকদের জানাতে গিয়ে তিনি বলেন,হারিছ বেপারির ওই ৪ তলা ভবনটিতে কোন সিসি ক্যামেরা ও বাহিরে কোন লাইট নেই।এই ভবনটিতে মাত্র কয়েকটি ভাড়াটিয়া পরিবার রয়েছে।তাছাড়া হারিছ বেপারিকেও আমরা তার ওই বাসায় পাইনি।তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে কয়েকদিন যাবৎ ঢাকায় রয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।থানার এএসআই শাখাওয়াত আরো জানান,আমরা জানতে পেরেছি হারিছ বেপারির কাছে তানজিনা বেগম ও তার স্বামী জুয়েল খান নিজেদের ভোটার আইডি কার্ড ও ছবি জমা রেখেছিলো।আমরা সেগুলোও তদন্ত সাপেক্ষে উদ্ধার করবো।এ ব্যপারে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোঃ আসাদুজ্জামান জানান,তানজিনা হত্যার রহস্য উদঘাটনে প্রাথমিকভাবে আমরা তদন্ত শুরু করেছি।এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করতে আমরা আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।


বরিশালট্রিবিউন.কম’র (www.barisaltribune.com) প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।