চাঁদা না দেওয়ায় হোটেল মালিককে থানায় নিয়ে মারধর

  • 27
    Shares

মাদারীপুরে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় সুমন আবাসিক হোটেলের মালিক সিরাজ মুন্সীকে থানায় নিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে সদর থানার ওসি সওগাতুল আলমের বিরুদ্ধে। হোটেলের মালিক সিরাজ মুন্সী ওসি সওগাতুল আলমের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন। মারধরে ‘চোখের আঘাত বেশি হওয়ায়’ তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুধু নির্যাতনই নয়; একটি সাজানো মামলা দিয়ে তাকে গ্রেফতারও করেছেন ওসি। পুলিশের এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির নেতারা।

সিরাজ বলেন, সোমবার রাতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে আমার হোটেলে থাকতে আসেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকার ছালাম পেয়াদা ও এক নারী। ওই রাতেই হোটেল তল্লাশি করেন জেলা পুলিশের ডিএসবির সদস্য শহিদুল ইসলাম। এ সময় পুলিশ আমাকে আটক করে।

পরদিন ওসি সওগাতুল আলম আমাকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে মাসিক ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে ওসি আমাকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারেন। এতে আমার চোখের কোণে রক্ত জমে যায়। কিন্তু তিনি আমাকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠান।

তার হোটেলে থাকতে আসা সালাম পেয়াদা তার বিরুদ্ধে মামলা করেন জানিয়ে তিনি বলেন, এটি সাজানো মামলা। এই সাজানো মামলায় পুলিশ আমাকে আদালতে পাঠায়। আদালত আমাকে বৃহস্পতিবার জামিন দেয়। তারপর হাসপাতালে ভর্তি হই।

তিনি আরো বলেন, ওসি সদর থানায় ১৭ জুলাই যোগদানের পর দুইবার আমাকে তার কক্ষে ডেকে মাসিক ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। আমি তাকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করেছি। তিনি তখন থেকেই আমার ওপর ক্ষেপে আছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আবির হোসেন জানান, চোখের আঘাত বেশি হওয়ায় রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি এখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে অধিকতর চিকিৎসার জন্যে অন্যত্র যেতে পারেন। তার চোখ ও মুখে বেশ আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

মামলার বাদী সালাম পেয়াদা বলেন, আমি কিছুই জানি না। থানার একজন লোক লিখছে। আমি টিপসই দিয়েছি। আমি মামলা করতে রাজি না। আর হোটেলে একজন পুলিশ পরিচয় দিয়ে আমার কাছে টাকা দাবি করেছে।

সদর থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেন, আমার সঙ্গে তার দেখাই হয়নি। তাকে শারীরিক নির্যাতনের প্রশ্নই উঠে না। আমার বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যে তথ্য দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি অভিযোগ করায় মামলা আমলে নেয়া হয়েছে।

মাদারীপুরের এসপি সুব্রত কুমার হালদার বলেন, নির্যাতনের বিষয়টি জানা নেই। যদি ওসি নির্যাতন করে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


  • 27
    Shares

বরিশালট্রিবিউন.কম’র (www.barisaltribune.com) প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।