ছোটন্দ্রনাথ চক্রবর্তী-এর একগুচ্ছ কবিতা


ল্যাম্পপোস্ট-৩

তোমার বেলকনির আলোয় আমি ঝলসে গিয়ে
ভুলে যাই নিদ্রাহীন জেগে থাকার ডাইরি;
ভুলে যাই এক পায়ে বসে থাকার এইসব বেদনা।

কেউ কি জানে রাত বেড়ে গেলে আমারও
প্রেম পায় চুপিসারে একা একা!
আমারও মনে জাগে অভদ্র শব্দের স্রোত!
খুব করে বৃষ্টি এলে আমিও ছুঁয়ে দিতে হাত পাততে চাই
তোমার গ্রিলআটা বেলকনির মোঁড়ে!

তোমার রোদপোহানো অন্তর্বাসের সাথে মাঝে মাঝে
কথা হয় বিষন্নতার নিশ্চুপ দিন গুলিতে।
দিনে আমি চোখে দেখিনা জেনে ওরা শুনিয়ে যায়
কাজাখস্থানের ঝলমলে বনের গল্প আর
প্রবাহমান আশ্চর্য পাহাড় ও রক্ত নদীর ইতিহাস।

আমার চোখ জুড়ে জাগে ঘেমে যাবার স্বাদ।
পাখি হয়ে বেলকনির বিশ্বস্ত পাহারাদার হবার ইচ্ছে
গজায় এলোমেলো লোমহীন তেলতেলে স্টিলের বুকে।

কেউ জানে না আমারও আছে আত্মমূলক
কবিতা লেখার একটা অস্থায়ী কাটাকাটি খাতা।
আত্মসম্মানে অরুচি এলে আমিও আঁকি অ্যালগরি অব দ্য আর্টস, অ্যাডাম অ্যান্ড ইভ এবং ভেনাস অব আরবিনো’র শালিন ধাচের স্কেচ।

রাত বেড়ে গেলে আমারও
প্রেম পায় চুপিসারে একা একা!
আমারও মনে জাগে অভদ্র শব্দের স্রোত!
খুব করে বৃষ্টি এলে আমিও ছুঁয়ে দিতে হাত পাততে চাই
তোমার গ্রিলআটা বেলকনির মোঁড়ে!
কেউ জানে না-

জীবনান্দ দাশ এবং আমার পাঞ্জাবী ও চশমা

(উৎসর্গঃ আমার দুই বছর আগের সাবেক পাঞ্জাবীকে)

দুই বছর অনেক সময়!
অনেক কিছু বদলে যায়।

যেমন আমার এই পাঞ্জাবীটা ছিড়ে গেছে।
এই পাঞ্জাবী পরে অনেক মেয়ের সাথেই দেখা হয়েছে।
তাদের মধ্যে বিশেষ কেউ ছিল কি
না তা আমার মনে নেই।

এই চশমাও ভেঙে গেছে অনেক দিন।
ঐ চশমার ফাকা দিয়ে কোন কোন মেয়ের
কান্না কান্না চোখ আবিষ্কার করেছিলাম
সেসব ও ভুলে গেছি।

তবে এই পাঞ্জাবী পরে জীবনানন্দ পড়েছিলাম একদিন। এদের স্মরণশক্তি সুনীলের মতন হয়ে থাকে।

এই সব পাঞ্জাবী আর চশমারা এক এক জন জীবনানন্দ। পৃথিবীকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে
এরা ছিড়ে যায়; এরা ভেঙে যায়।

ভাগ্যিস এদের পরে আমি কোন ট্রামের পাশে যাই নাই!

ভাঁটফুল

মনে বার্ধক্য এলে প্রেয়সীর শরীরে ঘটে
ডারউইন এর সতেরোতম ধাপের রূপান্তর।
তবে তখনো চোখকে থাকতে হবে উন্মাদ তৃষ্ণার্ত যুবক।

এসব দ্যা অরিজিন অব স্পিশিচ বইতে থাকে না।
গালাপাগোস দ্বীপের ফিঞ্চ পাখির ঠোঁট দেখে
যে বিবর্তনবাদ এলো তার সাথে এর কোন মিল নেই।

এর জন্য পর্যবেক্ষণ করতে হবে প্রেয়সির ঠোঁট।
মিলিয়ন বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং
পর্যবেক্ষণ করতে হবে বিলিয়ন বছর ধরে।
দেখতে দেখতে হঠাৎ যেদিন দেখবেন,
প্রেয়সী ভাঁটফুলে রূপান্তরিত হয়েছে
সেদিন বুঝবেন আপনি বুড়ো হয়ে গেছেন।


বরিশালট্রিবিউন.কম’র (www.barisaltribune.com) প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।