জাতির পিতার স্বপ্ন ও আজকের বাংলাদেশ

  • 44
    Shares

১৯৭৫ থেকে ২০১৯- দীর্ঘ ৪৩ বছর পেরিয়ে আবারও এসেছে আগস্ট। পঁচাত্তরের এই আগস্টেই বাংলাদেশের রূপকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। হত্যাকারীরা শুধু জাতির পিতাকেই হত্যা করেনি, ওরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে বিলীন করে দিতে চেয়েছিল। ওরা গোটা দেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করতে চেয়েছিল। জাতির পিতার প্রয়াণের পর পেরিয়ে গেছে ৪৩ বছর। আজ কোথায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ? ষড়যন্ত্রকারীদের নীলনকশা কি বাস্তবায়িত হয়েছে? নাকি জাতির পিতার স্বপ্নেরই জয় হয়েছে?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব সময় চেয়েছেন এই দেশের মানুষ যেন আত্নমর্যাদা নিয়ে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। আর আত্নমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। সদ্য স্বাধীন দেশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও বঙ্গবন্ধু এদেশের প্রথম বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতের থেকেও শিক্ষাখাতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কারণ তিনি কেবল রাজনীতিবিদ, রাষ্ট্রনায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন শিক্ষা দার্শনিকও।

বঙ্গবন্ধু জানতেন যে, শিক্ষার বিস্তার এবং শিক্ষার গুণগত মানের উন্নয়ন ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি ঘুণে ধরা সমাজকে বদলে দিতে চেয়েছিলেন। সেজন্যেই দেশ স্বাধীনের পর তিনি দিয়েছিলেন দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক। এই বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি বাংলার প্রতিটি মানূষকে সত্যিকারের শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলে দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। এ লক্ষ্যেই জাতির পিতা গণমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তণ করেছিলেন। বেতন মওকুফ, বিনামূল্য পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ, প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ, গণশিক্ষায় অর্থ আলাদাভাবে অর্থ বরাদ্দ, নারী শিক্ষার প্রসার, কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড ও জাতীয় গ্রন্থাগার গঠন,শিক্ষা কমিশন গঠন, বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ জা্রিসহ বহু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়ন, বিজ্ঞান, কৃষি, চিকিৎসা, বাণিজ্য, আইন, ললিতকলাসহ জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষার বিস্তারের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ছাত্র ভাইদেরকে বলি, একটু লেখাপড়া করো। বাবার হোটেলে আর কতকাল খাবে? পয়সা কড়ি নেই। তোমাদের কষ্ট হচ্ছে জানি। কিন্তু লেখা পড়া একটু করো। আন্দোলন করো, আমার আপত্তি নেই। আমার জন্ম আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু তোমাদের একটু মানুষ হতে হবে।’বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে প্রথমেই ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা পূনর্গঠনে মনোযোগি হয়েছিলেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘শিক্ষাই হবে মুক্তির হাতিয়ার’। এই মুক্তি হবে সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি, এই মুক্তি হবে মানবতার মুক্তি, এই মুক্তি হবে দরিদ্র শোষিত জনগণের মুক্তি, এই মুক্তি হবে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি। আর শিক্ষার মাধ্যমেই গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন তাঁর আজন্মলালিত স্বপ্নের সোনার বাংলা। তাইতো তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে যেমন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে সাহিত্য, ভাষা, সংস্কৃতি বিষয়ের ওপরও জোর দিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাদর্শন অনুসরণ করেই বর্তমান সরকার এদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দৃঢ়ভাবে। আমাদের শিক্ষার হার ক্রম ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষিতের হার ৭২ শতাংশের বেশি। সংখ্যাগতভাবেই যে কেবল বাংলাদেশের শিক্ষার হার বেড়েছে তা নয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত মানেরও উন্নয়ন ঘটছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এবারের বাজেটে ২৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে দায়িত্ব দিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে কার্যক্রমকে যুক্ত করে মোট ৮৭ হাজার ৬২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এটা মোট বাজেট বরাদ্দের ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং জিডিপির ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ। জাতির পিতা দেশ গড়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন সবচেয়ে বেশি। তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলাতেও এখন সেটাই করা হচ্ছে।


  • 44
    Shares

বরিশালট্রিবিউন.কম’র (www.barisaltribune.com) প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।