ঝালকাঠি জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন’র অবৈধভাবে ঋণ বিতরণ ও প্রতারণা


স্টাফ রিপোর্টার :  ঝালকাঠিতে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন অবৈধভাবে ঋণ বিতরণ করে অতি মুনাফা অর্জন এবং ঝুকি ভাতা’র নামে সদস্য প্রতি ৫শ টাকা নিচ্ছে। যশোর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ১৯৭৭ সালে একটি রেজিস্ট্রেশন করে তারা ঝালকাঠিসহ দেশের ৪৮টি জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শতকরা ১২ টাকার কথা বলে চক্রহারে শতকরা ২৪ টাকা মুনাফা গ্রহণ করে। দুঃস্থদের চিকিৎসার কথা বলে সদস্য প্রতি ৫শ টাকা ঝুকি ভাতা নিলেও মানবিক সেবা তা ব্যবহার না করে ঋণ নেয়ার পরে কোন সদস্য মারাগেলে বা ঋণ খেলাপি হলে তারা ঝুকির ভাতার নামে গৃহিত টাকা দিয়ে সমিতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ব্যবহার করে। তথ্যানুসন্ধানে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের নামে এসব প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে।


তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, ১৯৭৭ সালে যশোর জেলা সমাজসেবা কার্যালয় হতে অনুমোদন নিয়ে (রেজি: নং ১৭৩/৭৭) কার্য়ক্রম শুরু করে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন নামের একটি বেসরকারী ঋণদান সমিতি। যশোরের জেলা ভিত্তিক কার্যক্রমের অনুমোদন থাকলেও তারা ঝালকাঠিসহ দেশের ৪৮টি জেলায় সরকারী কোন বৈধতা না নিয়ে অবৈধভাবে ঋণদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ১৯৭৭ সালের রেজিস্ট্রেশনের বাইরে হালনাগাদ (আপডেট) আর কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি। এমনকি ঝালকাঠি জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরকেও জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের আদৌ কোন কার্যক্রমের তথ্য অবহিত করে নি। এঅবস্থায় কোটি কোটি টাকা ঝুকিপূর্ণভাবে লেনদেন করছে এ সংস্থাটি। সচেতন মহল ও সদস্যরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যেকোন সময় জনগণের টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হতে পারে এরকম মাশরুম গ্রোথ (ব্যাঙের ছাতা) আকারে গজিয়ে উঠা প্রতিষ্ঠান। যেমনটা করেছিলো মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স। তারা গ্রাহকের প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাত করে উধাও হয়ে গেছে।

অফিসে গিয়ে দেখাগেছে, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্য বোর্ডে আগস্ট মাসের তথ্য উল্লেখ করা। ১ মাস পেরিয়ে অক্টোবর মাস চললেও তা আপডেট করা হয়নি। বোর্ড অনুযায়ী ঝালকাঠি অফিসের কার্যক্রম ২০১৪ সালে শুরু হয়ে বর্তমানে ৮জন স্টাফ রয়েছেন। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ২৮টি গ্রামের ৬৩ টি সমিতির ৮৩৯ সদস্যের মাঝে তাদের কার্যক্রম চলমান। সর্বমোট সঞ্চয় স্থিতি ৫৪ লাখ ৪৫হাজার ১৩৮ টাকা। ঋণ প্রদান করা হয়েছে ১৮ কোটি ২২ লাখ ১২ হাজার টাকা। শাখার মোট চলতি ঋণ ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪০হাজার টাকা সদস্যদের মাঝে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে শাখা ব্যবস্থাপক বিপুল কুমার ঘোষ বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে ঋণ প্রদান করেন। আর যারা বিশেষ সুবিধা দিতে পারেন না তাদের ঋণ মেলে না।

জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন’র ঝালকাঠি শাখা ব্যবস্থাপক বিপুল কুমার ঘোষ জানান, “কাগজ পত্র না থাকলে সারা দেশে আমাদের কার্যক্রম চলে কেমনে? আমাদের সময় দেন আমরা ইমেইলে আপনাদের নিকট প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র পাঠিয়ে দেব। আমরা অনিয়ম কিছুই করছি না”।এ বিষয় ঝালকাঠি জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক স্বপন কুমার মুখার্জি জানান, “অভিযুক্ত জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন’র কার্যক্রম সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। তারা আমাদের কোন মাসিক বা বার্ষিক কোন প্রতিবেদন দেয় না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, ঝালকাঠি জেলায় সমাজসেবার নিবন্ধন নিয়ে কাজ করলে অবশ্যই আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে। কিন্তু তারা তা করছে না। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান তিনি।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন[email protected]এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]