ট্রেনের টয়লেটে কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টা


চলন্ত ট্রেনের টয়লেটে এক কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মমিনুল (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে রেলওয়ে পুলিশ। অভিযুক্ত মমিনুলকে গণপিটুনির পর ট্রেনের যাত্রীরা পুলিশের কাছে তুলে দেয়। ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী চলন্ত ট্রেনের টয়লেটে বৃহস্পতিবার (২০ জুন) এ ঘটনা ঘটে।

আটক মমিনুল একজন নির্মাণ শ্রমিক। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইকবাল জানান, নির্মাণ শ্রমিক মমিনুল ঢাকা থেকে বাড়ি যাচ্ছিলেন। ওই কিশোরীর ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেনের টয়লেটের ভেতর মমিনুল দীর্ঘ সময় ধরে ওই কিশোরীর মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

ওসি সাঈদ ইকবাল আরও জানান, ঘটনাস্থল রেলওয়ের ঈশ্বরদী থানার অধীনে। তাই রাত ১২টার ঢাকাগামী ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ ট্রেনে করে অভিযুক্ত মমিনুলকে ঈশ্বরদী জিআরপি থানায় পাঠানো হয়েছে। ওই কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে তার নানি ও খালাও গেছেন। ঈশ্বরদী থানায় তাঁরা মমিনুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।

ঈশ্বরদী জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুবীর জানান, ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় মমিনুলের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী জিআরপি থানায় মামলা হয়েছে। আসামিকে আজ শুক্রবার সকাল ১০টার পরে নাটোর আদালতে সোপর্দ করা হবে।

জানা গেছে, ঘটনার শিকার কিশোরী তার নানি ও খালার সঙ্গে রাজশাহীতে নানার বাড়ি যাচ্ছিল। সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন থেকে তারা সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠেছিল।

ওই ট্রেনে দায়িত্বরত রেলওয়ে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) উজ্জ্বল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, পাবনার ঈশ্বরদী বাইপাস পার হওয়ার পর ওই কিশোরী ট্রেনের টয়লেটে যায়। টয়লেটের সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন মমিনুল। ওই কিশোরী টয়লেট থেকে বের হওয়ার জন্য দরজা খুলতেই তিনি ভেতরে ঢুকে পড়েন। এরপর রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানি স্টেশনে যাওয়া পর্যন্ত ৪০ মিনিট ধরে ওই কিশোরীকে টয়লেটে আটকে রেখে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন মমিনুল।

এএসআই উজ্জ্বল আরও জানান, ট্রেনের শব্দের কারণে হয়তো ওই কিশোরীর চিৎকার শোনা যায়নি। পরে বুঝতে পেরে ট্রেনের যাত্রীরা মমিনুলকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেন। রাত পৌনে ১১টার দিকে ট্রেনটি রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। এ সময় মমিনুলসহ ঘটনার শিকার কিশোরী এবং তাঁর খালা ও নানিকে রাজশাহী রেলওয়ে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

মেয়েটির খালা সালমা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, মমিনুল টয়লেটের ভেতরে ঢোকার পরে মেয়েটি চিৎকার করলে তার মুখ চেপে ধরে বলা হয়, ‘চুপ থাক, তোকে আমি বিয়ে করে নেব।’ তারপরেও কান্না না থামালে মেয়েটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেন মমিনুল।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-barisaltribune@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]