ধর্ষণের শাস্তি অনতিবিলম্বে মৃত্যুদন্ড হওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত!

  • 8
    Shares

আমাদের দেশে ক্ষমতার অসৎ ব্যবহার অথবা আইনের অপপ্রয়োগের মাত্রাটা অত্যন্ত বেশি। ধরুন আপনার সাথে কারো জায়গা-জমি বা গুডউইল নিয়ে বিরোধ, একটা ধর্ষনের মামলা করে দিলেন। মামলায় হারজিত পরের ব্যাপার, আমরা যে একদল ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো পাবলিক আছি তারা ব্যাপারটাকে ভাইরাল করে অভিযুক্ত ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান এমনভাবে নিশ্চিহ্ন করে দিবো যে সে নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে পারলেও আগের জায়গায় ফিরতে পারবেনা।

ডা. আকাশের কথা মনে আছে? লোকটা নারী নির্যাতন মামলার ভয়ে নিজের ওয়াইফের পরকীয়া মেনে নিতে বাধ্য হয়ে শেষ প্রর্যন্ত আত্বহত্যা করেছেন। এখন একটা প্রশ্ন আসতে পারে যে, নির্দোষের ভয় কীসে! উত্তরটা হলো, আমাদের মধ্যে কয়জনের মানসিক শক্তি, সামর্থ্য আছে এসমস্ত ব্যাপার ফেস করে ওভারকাম করার?

আইনের অপপ্রয়োগের ব্যাপার নিয়ে আরো বলতে গেলে- রিফাত আর নয়ন বন্ডের খুনোখুনি না হলে মিন্নী কিন্তু রিফাতের নামে নারী নির্যাতন অথবা নয়নের নামে ধর্ষনের মামলা দিয়ে অপরজনকে নিয়ে সংসার করতে পারতো। ধর্ষনের আরেকটা ধারা অযৌক্তিক মনে হয়, যা হলো “বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষন”।

একজনের মিথ্যা আশ্বাসে সেক্স করতে রাজি হয়ে পরে প্রতারিত হলে তা ধর্ষন কিভাবে হয়? এটার নাম বড়জোড় “বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারনা” হতে পারে। আরেকটা হতাশাজন তথ্য পেলাম যে সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভদের মতো পুলিশেরও নাকি টার্গেট দেয়া থাকে যে মাসে এতোজনকে এরেস্ট করতে হবে বা এতোগুলো মামলা নিতে হবে। জানিনা তথ্যের সত্যটা কতোটুকু, কিন্তু এটা সমাজের জন্য কতোটা ভয়ংকর হতে পারে তা অনুমেয়।

আইনের অনেক ফ্লেক্সিবিলিটি আছে এবং এই ফ্লেক্সিবিলিটি আমাদের চিন্তা চেতনারই ফসল। আমরা সবখানে ফ্লেক্সিবিলিটি খুজি, ব্যক্তি আর তার পশিজন, নিজের সাথে তার সম্পর্ক এসবের সাথে কম্প্রোমাইজ করে শাস্তি দাবী করি। আমরা নিজেদের না বদলিয়ে যদি আইনের ধারা কঠিন করতে লেগে যাই তাহলে আইনের অপপ্রয়োগের দরুন সামাজিক অস্থিরতা আরো বেড়ে যাবে।

উত্তেজিত জনতাকে সামলানোর জন্য আইন প্রনয়নকারীরা চটকদার কোনো আইন নিয়ে আসলেও সামাজিক পরিবর্তনটা গ্যারান্টেড না। রেপ করার সময় নিশ্চই রেপিস্ট সজ্ঞানে থেকে এসব আইন নিয়ে ভাবে না।

আমরা যতদিন না স্বীয় পাপের জন্য নিজেকে বিবেকের কাঠগড়ায় দোষী সাব্যস্ত করতে না পারি ততোদিনে সকল পাপীর যথাযথ শাস্তি আশা করতে পারি না। মানসিকতার পরিবর্তন হয়তো একটা লং প্রসেস কিন্তু স্থায়ী সমাধান বলেই মনে হয়।

ধর্ষনের শাস্তি মৃত্যুদন্ডই হোক, তবে যেনো কোনো নির্দোষ হয়রানির শিকার না হয় তাও নিশ্চিত করা হোক।

 

লেখক: সৈয়দ রেজভী
শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।
moktadirsyed62@gmail.com


  • 8
    Shares

[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-barisaltribune@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]