নষ্ট রাজনীতির বদল ছাড়া আবরারদের রক্ষা করা যাবেনা

  • 6.7K
    Shares

মনীষা চক্রবর্তী : শেবাচিমে ২য় বর্ষে তখন। কাছের এক বান্ধবী আর বন্ধুর মধ্যে একটু ভাল লাগার একটা ব্যাপার হল। ছাত্রলীগের এক পাতিনেতার পছন্দ হলনা ব্যাপারটা। মেয়েটিকে তার পছন্দ ছিল। সুতরাং, একশন তো নিতেই হবে! ১৫/২০ জন মিলে আমাদের সেই বন্ধুটিকে হকিস্টিক দিয়ে রুমের মধ্যে আটকে বেধড়ক মার। বন্ধুটি যখন হাসপাতালে, তখন বান্ধবীর সাথে আমরা দেখতে গেলাম বন্ধুকে। দেখলাম বেশিরভাগ মেয়ে ভয়ে-আতংকে যেতেই চায়না। তখন রাজনীতি করিনা। আমরা যতটুকু পারি বন্ধুর পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। প্রচন্ড বিক্ষুব্ধ ছিলাম কিন্তু প্রতিবাদ করতে পারিনি।


প্রতিবাদ হয়েছিল ২০১২তে। প্রথম বর্ষের ছাত্র আবু নোমান নির্মম র‍্যাগিং এর বিভৎসতার শিকার হল, শিকার হল চাঁদাবাজির। আমরা ছাত্র ফ্রন্ট এর উদ্যোগে ১৫-১৬ জন মিলে মানববন্ধন করার সিদ্ধান্ত নিলাম। অবাক করা ব্যাপার হল, আমরা সবাই ছিলাম মেয়ে। নোমানের পরিণতি হতে পারে ভেবে কোন ছেলে আমাদের সাথে আসেনি। আগের দিন রাত থেকে হুমকির জোয়ারে আক্রান্ত হলাম আমরা। ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন এর বিরুদ্ধে ছাত্র ফ্রন্ট প্রোগ্রাম করবে এটা ছিল ছাত্রলীগের কাছে অবিশ্বাস্য। আমরা ঠিকই গেলাম প্রোগ্রামে। সেই র‍্যাগিং এর নেতারা নানান হম্বিতম্বির পর শেষে হামলা করল মানববন্ধনে। কিন্তু প্রতিবাদের স্ফুলিঙ্গ তৈরি হল ক্যাম্পাসে- বরিশালে- সারাদেশে।

#২০১৩ তে ছাত্রলীগ ঢুকেছিল ছাত্রীহলে। আরেক নেতার বান্ধবীর জন্য রুম ছাড়ার হুমকি দিতে। ছাত্রী হলে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠেছিল। যথারীতি বলা হয়েছিল, ছাত্র ফ্রন্ট আর শিবির একসাথে ষড়যন্ত্র করে এই আন্দোলন করছে! এই গাজাখুরি গল্প অবশ্য ধোপে টেকেনি। সব ইয়ারের মেয়েরা মিলে ক্লাস বর্জন, সারারাত হলের বাইরে অবস্থান নেয়া, স্লোগানে-মিছিলে ছাত্রী হলের চেহারা পালটে দিয়েছিল। আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ ছাত্রীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিরকম শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে তার উদাহরণ তৈরি হয়েছিল শেবাচিমে। সেই প্রতিরোধ এর ইতিহাস এখনো শেবাচিম ছাত্রী হলের নিরাপত্তা দেয় বলেই বিশ্বাস করি।

সেইসব কর্মকাণ্ড যারা ঘটিয়েছেন আজকে তারা বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। একটা নষ্ট রাজনীতি একজন মানুষকে কত পশুর স্তরে নিয়ে যেতে পারে একসময় তারা সেই উদাহরণ তৈরি করেছিলেন। আর ঠিক তার বিপরীতে সমাজপ্রগতির রাজনীতি,ন্যায্যতার শক্তি সেদিনের মানুষগুলিকে ভয়-ভীতির উর্ধ্বে উঠিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের উদাহরণ তৈরি করেছিল।

আবরার মরে গেছে, কিন্তু যারা এখনো মারা যাননি তারা কি আবরারদের মৃত্যুর নীরব দর্শক হবেন? নাকি অসংখ্য আবরারের জীবন রক্ষার ঐক্যবদ্ধ শক্তি তৈরি করবেন?মনে রাখবেন, এই নষ্ট রাজনীতির বদল ছাড়া আবরারদের রক্ষা করা যাবেনা।

আবরার হত্যার বিচার চাই।

লেখক : বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্যসচিব


  • 6.7K
    Shares

[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন[email protected]এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]