নাচনমহল ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে আটকে দুইদিন পাশবিক নির্যাতন


নলছিটিতে চুরি করার অপরাধে উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়ন পরিষদে সেলিম বেপারী (২০) নামে এক যুবককে আটকে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার যুবকটিকে ধরে এনে ইউনিয়ন পরিষদের দোতালয় একটি কক্ষে নির্যাতন চালানো হয় বলে জানাযায়। পুলিশ খবর পেয়ে আজ রবিবার যুবকটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে নলছিটি থানায় নিয়ে আসে। সেলিম নলছিটির নাচনমহল ইউনিয়নের দক্ষিণ ডাবরা গ্রামের সুলতান বেপারীর ছেলে।

এলাকাবাসি সূত্রে জানাযায়, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা সাবেক মেম্বর নান্নু সিকদারের ভাইয়ের ট্রলার ও ভবানীপুর বাজারে চুরি করার অপরাধে যুবককে নির্যাতন করেছে নান্নু সিকদার ও চুরি যাওয়া দোকান মালিকরা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিয়ে যাবার সময় যুবকের শরীরে আঘাতের দাগ দেখা গেছে।

এ বিষয়ে নান্নু সিকদার বলেন, গত ৪ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ভবানিপুর বাজারে কামরুলের স্বমিল থেকে লোহার চাঁকা এবং মনির মোল্লার চায়ের দোকান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার ও গ্যাসের চুলা এবং আমার ভাই চুন্নু সিকদারের ট্রলার সিকল কেটে চুরি করে নিয়ে যায় চোর। চুরি যাওয়া মালামাল আমরা ৫ জানুয়ারি সকালে খোজাখুজির পর ঝালকাঠির পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দিয়াকুল গ্রামের একটি খালে ট্রলারসহ উদ্ধার করি।

এসময় চুরি করা মামলামালের সাথে ট্রলারে সেলিম বেপারী অবস্থান করছিল। বিষয়টি নাচনমহল ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানকে জানালে সে সেলিমকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে বলে। নান্নু আরো জানায়, চুরি যাওয়া মামলামালসহ সেলিমকে নলছিটি নিয়ে এলে জনসাধারণ তাকে মারধর করেছে।

তবে তার নখে সুই ঢুকিয়ে লোহার রড দিয়ে মামার অভিযোগ সত্য নয়। ইউনিয়ন পরিষদে নেয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ করে থানায় না পাঠিয়ে ঔষধপত্র দিয়ে চেয়ারম্যান সেলিমকে দোতালার একটি কক্ষে রেখে যেতে বলে। তাই তাকে সেখানে রেখে ঐদিনই আমরা সেখান থেকে চলে যাই।

এ বিষয়ে যুবক সেলিম বেপারী থানায় বসে জানায় আমাকে নান্নু মেম্বর, তার ছেলে রিপন, চুরি হওয়া স্বমিল এবং দোকানের মালিক কামরুল ও মনির মোল্লা পরিষদের রুমে আটকে রেখে নির্যাতন করেছে। আমার পায়ের আঙ্গুলের নক উঠিয়ে হাতের আঙ্গুলে সুঁই ডুকিয়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়েছে। এ বিষয়ে নলছিটি থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন জানান, আমি খবর পেয়েই ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষ থেকে যুবক সেলিমকে পুলিশ পাঠিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। আসার আগে তাকে চিকিৎসা করিয়ে ঔষধ কিনে দিয়ে থানায় আনা হয়েছে।

তবে সে এ চুরির সাথে একা নয় একটি সিন্ডিকেট আছে। চুরির ঘটনায় দোকান ও স্বমিল মালিকদের ডাকা হয়েছে। তারা মামলা দিলে জিজ্ঞাসাবাদ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে নাচনমহল ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান জানান, সেলিম এ চুরির সাথে জাড়িত। তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন[email protected]এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]