পাঁচ কবিতা ॥ আসমা চৌধুরী

  • 27
    Shares

একদম নিরবে লিখে যাচ্ছেন আসমা চৌধুরী। জীবনানন্দের শহর বরিশালে থেকে জীবনানন্দকে ভালোবেসে কবিতায় তার নতুন স্বর। দীর্ঘদিন ধরে লিখছেন কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দশেরও অধিক। প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে, আকাশী রংয়ের মেয়ে, এই দুঃখটুকু রেখে দিলাম, রোদ্দুরে ধুয়ে যায় ফর্সা আঙুল, যৌথকাব্য সংকলন-পাঁচ পাতার অরণ্য, ত্রিবেণী কাব্য উল্লেখযোগ্য। তফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া কলেজে অধ্যাপনায় নিযুক্ত আসমা চৌধুরী।

দাঙ্গা
কে কে যাচ্ছেন মিছিলে?
রাস্তায় স্লোগান হচ্ছে
‘মোদির চামড়া তুলে নেব আমরা’

জ্যোৎস্নার ঢলের ভেতরে কাঁপছে দুনিয়া
রাকিবের হাত খুলে যায়
অস্পষ্ট হয়ে যায় গৌতমের মুখ।

মন খারাপ লেগে থাকে জানালায়
বই খুলে পড়তে বসে ইতিহাস।

জনার্দন কাকা একবার বাবাকে বলেছেন
ফিরে এসে দেখি,আমাদের প্রিয় গোলটেবিলটা
পাশের বাড়ির রহমানদের ঘরে
ভয়ে সেকথা বলতেও পারিনি।

কয়েকটি মানুষ শুয়োরের কাছে যায়
ঈশ্বর তখন ভাবেন,শিয়া-সুন্নি,ব্রাক্ষ্মণ-শুদ্র
হিন্দু-মুসলমান,কাকে কতটা রং দেয়া যায়
বদলাতে পারে কে কতটা নির্মমতায়।
হাঁপাতে হাঁপাতে স্কুলের ছেলেরা বলে
বুড়ো মানুষগুলো এতদিনে কিছুই বোঝেনি
মানুষের আবার পরিচয় কী?

ততদিনে লাশের স্তুপ নর্দমায়
মসনদে বসে উইল খোলে রেফারি, হিসেব মেলায়…

দ্বন্দ্ব
সেইভাবে আমি তোমাকে কিছুই দিতে পারিনি
খোলা ছাদ, পাতাঝরা দিন, রাতের শিশির
পাশাপাশি দাঁড়ালে টের পাই সবুজ বৃক্ষগুলি
মানুষের ভীড় দূরে সরে যায়, আমি আর তুমি।

কোনো ভাঙাই কোনোদিন জোড়া লাগে না
তবু কাতরতা, দূর থেকে শুনে যাই বর্তমান সংবাদ
পাতার কাছে, শাখার কাছে মেঘ বেঁধে রাখি
পেছনে দাঁড়াই, আস্তে হাঁটি, যেন এই মুখ
লুকিয়ে থাকুক সুখীর দরজা থেকে।

শীত নামলে তোমার কষ্ট হতো
শীত এসেছে, কদিন টুপি-মাফলারে জড়িয়েছি খুব
হিসেব করে দেখি কত বয়স পার করেছ, কত পাখি ডাকে রোজ।

দ্বন্দ্ব শুধু কথায় নয়, মনে হয়, শরীরে হয়, ক্ষমতায় হয়
দ্বন্দ্ব আছে বলেই তোমাকে এত মনে পড়ে!

মাটির ছলা
ভেতরে রয়েছে বীজ বাইরে গজিয়েছে চারা
তুমি তার জল হও, গোপন বাঁচা-মরা
একদিন রোদ লাগে, ছায়া-অন্ধকারে দুইদিন কাটে
তিনদিন ঘর ভরে ওঠে ছাতিমের জ্যোৎস্নায়।

তোমার খুশিকে ধরে থাকে মাঠের রাখাল
সে বুঝি চাষের খবর জানে, ওম ভরা ভুসিহারা ধান
শরীরের গর্ত খুঁড়ে সে জানে মাটির ছলাকলা
মানুষের রাত্রিবাস স্বপ্নের মাদুলি পরে থাকা
তোমাদের সেলাই করা প্রতিটি দিনের ধারাপাত।

সব শাখা পাতার দৃশ্য হয়,
কাঠুরিয়া শান দেয় কুঠারের গায়
জল, খুশি, রোদ, ছায়া খণ্ড খণ্ড হয়…

চাবি
চাবি দিয়ে তালা খোলে অনেকেই
চাবির খেলা দেখায় কেউ
চাবি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি সারা বিকেল
কী করে তোমাকে খুলবো?

ময়ূরসন্ধ্যা মিলেমিশে ডাক দেয়
কী করে বুঝিয়ে বলি
পাশাপাশি সোফায় বসি, কোনাকুনি তাকাই
ভেতরে বাসি কান্না
তোমার আত্মার চেয়ে দূরে থাকে বন্ধন
কী করে তোমাকে খুলি?

দাগ
সব সম্পর্ক ক্ষণস্থায়ী
উঠে গেলে চেয়ারটা খালি হয়ে যায়
ধুলো মুছতে আসে অনেকেই
বাড়িটায় এটা ওটা মলিন হয়
নতুন খাট আসে।
ভাঙা জানালাটা আবার মেরামত হয়
একটা দাগ প্রশ্ন রেখে যায়।

চিরস্থায়ী কিছু নয় বলেই
একটা কালো সাম্পান অন্ধকারে গলা বের করে।


  • 27
    Shares

[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন[email protected]এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]