প্রথম বাজেটেই সাদিক অব্দুল্লাহ’র বাজিমাত


সৈয়দ মেহেদী হাসান : বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের অষ্টাদশ বাজেট ঘোষণা করেছেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। গতকাল বুধবার (৩১ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটায় নগর ভবনের সামনে ফজলুল হক এভিনিউ সড়কে অস্থায়ী মঞ্চে সর্বস্তরের নগরবাসীর সামনে উন্মুক্তভাবে এ বাজেট ঘোষণা করেন। বিগত বাজেটের চেয়ে ১০৪ কোটি ৭০ লাখ ৬৯ হাজার ১৮২ টাকা বেশি প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়। সপ্তদশতম বাজেট ছিল ৪৪৩৩৯৯৮২৫৫ টাকা। এটিকে কোন স্বপ্ন বিলাসী নয়, বাস্তবসম্মত বাজেট বলে আখ্যা দেন মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ।
মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর পক্ষে প্রস্তাবিত বাজেট পাঠ করেন ১ নং প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল ইসলাম লিটু।

এরপরে নগরীর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, আমি নির্বাচনে কোন ইশতেহার ঘোষণা করিনি। মাত্র ছোট্ট একটি ভিডিও বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম। এখন মাঝে মাঝে সেই ভিডিওটি দেখি। কারণ নগরীর সমস্ত কাজইতো আমার। মেয়র বলেন, আমি সামনেরবার আপনাদের কাছে আর ভোট চাইতে যাবো না। যদি নগরবাসীর সেবায় কাজ করে থাকি তাহলে আপনারাই আমাকে ভোট দিবেন। সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, নগরীর কোন কলোনী আমি উচ্ছেদ করবো না। বরংছ তাদের জীবনমানের উন্নয়নে কাজ করবো। স্বপ্ন কে না দেখতে পছন্দ করেন? আমিও স্বপ্নবাজ মানুষ। আমি স্বপ্ন দেখেই শেষ করতে চাই না; তা বাস্তবায়ন করে দেখাতে চাই। আপনারা দেখেছেন, বিগত দিনে আমি যা বলেছি সেই কথার সাথে কাজের হেরফের হয়নি। ভবিষ্যতেও বাস্তবায়ন করে দেখাতে চাই। সেরনিয়াবাত সাদিক বলেন, আপনারা জানেন আমার পিতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, আমার ফুফু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সুতরাং আমি যা করে দেখাতে পারবো বরিশালে তা আর কেউ পারবে না। আমি মনে করি বরিশাল দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগস্থল। আর্ন্তজাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ন এই শহরের উন্নয়ন করায় জনগণ যখন বলবে আমি শ্রেষ্ঠ মেয়র তখনই আমি নিজেকে শ্রেষ্ঠ মেয়র হিসেবে মনে করবো।

মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, অনেককে ভুল তুথ্য দিয়ে আমার ওপর নগরবাসীকে ক্ষিপ্ত করিয়ে তোলা হচ্ছে। এর পিছনে কাজ করছেন নগর ভবনের স্থায়ী নিয়োগের স্টাফরা। ট্যাক্সের প্রপাগন্ডা তারাই ছড়াচ্ছেন। আমি স্টাফদের বলতে চাই, নগরবাসীর সেবা দেওয়ার জন্য আপনাদের চাকরী দেওযা হয়েছে। নগরবাসীর সাথে খারাপ আচরণ ভুল তথ্য প্রদানের কোন অধিকার নগরভবনের স্টাফদের নাই। মনে রাখতে হবে নগরবাসীর ট্যাক্সের টাকায় আপনার সংসার চলে।

তিনি স্টাফদের সমালোচনা করে বলেন, আমার ভাবতে অবাক লাগে যত মেয়রই আসুক সব মেয়রই কি খারাপ? কাজতো যা করেন সব স্টাফরা। দায় নিতে হয় মেয়রকে। প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ, প্রস্তাবনা, বাস্তবায়ন করে থাকেন স্টাফরা। মনিটরিংও করেন স্টাফরা। তারা আকাম করে এসে বলেন-মেয়র করছে। মেয়র করছে। সাদিক আব্দুল্লাহ প্রশ্ন ছুড়ে দেন, কোন কাজের কতটাকা খরচ হবে, কে করবে, করার পর রক্ষণাবেক্ষণ তাও কি মেয়র গিয়ে করবেন? নাকি স্টাফরা? আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কোন রেট বাড়াইনি। বরংছ কমিয়েছি। বাইরে যা হচ্ছে তা স্টাফদের ব্যর্থতা। গাফিলতি। তারা নগরবাসীকে বুঝাতে পারেন না। ফলে এই প্রপাগন্ডা ছড়িয়ে পরছে।

বাজেট অধিবেশন শুরু হয় জাবে এবায়েদুল্লাহ মসজিদের খতিব নূরুর রহমান বেগের কুরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে। এরপরে গীতা পাঠ করেন নগর ভবনের স্টেট অফিসার দিপক লাল মৃধা। বাইবেল থেকে পাঠ করেন এডওয়ার্ড রবিন বল্লভ। এরপরে প্রস্তাবিত বাজে উপস্থাপন করা হয়। চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০২০) ৫৪৮ কোটি ১০ লক্ষ ৬৭ হাজার ৪৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ্এই বাজেট সিটি কর্পোরেশনের চতুর্থ পরিষদের প্রথম বাজেট এবং করপোরেশনের ইতিহাসের প্রথম জনস্মুখে উম্মুক্ত বাজেট ঘোষণা ছিলো। ঘোষিত বাজেট অনুযায়ী, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে আয় ও ব্যায়ের বাজেট সমান ধরা হয়েছে। বাজেটে রাজস্ব থেকে আয় ও ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩০ কোটি ১১ লক্ষ ১৯ হাজার ২৯৩ টাকা, উন্নয়নের মোট আয় ও ব্যায় ধরা হয়েছে ৪১৬ কোটি ২২ লক্ষ ৪৮ হাজার ১৪৪ টাকা এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তহবিল থেকে ১ কোটি ৭৭ রাখ টাকা ধরা হয়েছে। বাজেটে এডিপি এবং সরকার কর্তৃক থোক ও বিশেষ বরাদ্দ আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে।
মেয়র তার দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্ববর্তী নগর ভবনের ২৫টি অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন তার বাজেট বইতে। এরপরে বিগত এক বছরে সাদিক আব্দুল্লাহর অর্জন উল্লেখ করা হয়।

অর্জনসমূহ

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলা আনায়ন করা হয়েছে এবং রাতেই নগরীর সকল বর্জ্য/ময়লা অপসারন করা হচ্ছে। ফলে দিনের বেলা নগরবাসীকে দূর্ভোগ পোহাতে হয় না। একই সাথে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি এড়াতে ইউনিফর্ম প্রদান ও বেতন বৃদ্ধিসহ তা যথাসময়ে প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রকৌশল (সিভিল) শাখার কার্যক্রমের স্বচ্চতা নিশ্চিত করনসহ মাস্টার প্লান অনুয়াযী পরিকল্পনা মাফিক অবকাঠামো (রাস্তা, ড্রেন, ব্রিজ, কালভার্ট) নির্মান সহায়ক দ্রব্যাদির তালিকা (ইনভেন্টারী ) প্রস্তুত করা হয়েছে। পূর্বে একাউন্ট ছিল ১১০টি, আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করার পরে রাজস্ব আয় (হোল্ডিং ট্যাক্স, পানির বিল, ট্রেডলাইসেন্স ফিসহ অন্যান্য) শুধুমাত্র আদায়ের জন্য ৩৬টি একাউন্ট, ব্যয়ের জন্য একটি মূল একাউন্ট এবং উন্নয়নের জন্য ৪টি একাউন্ট রয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন ও মজুরি স্ব-স্ব ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে। বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু করা হয়েছে, ফলে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে ড্রেনের ময়লা অপসারণ করা হয়েছে, ফলে অতিরিক্ত ব্যয় না করেই জলাবদ্ধতা দূরীকরণ নিশ্চিত হয়েছে। নগরীর দুটি প্রধান সড়ক আমতলা মোড় থেকে সোনালী আইসক্রীম মোড় পর্যন্ত ৪.০০ কি.মি. এবং জেলখানার মোড় থেকে নথুল্লাবাদ বাসটার্মিনাল পর্যন্ত ২.৭০ কি.মি. আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে কার্পেটিং দ্বারা ওভারলে করে পাঁচ (০৫) বছর মেয়াদী টেকসই রাস্তা নির্মান করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ দুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সমূহ মেরামত করা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ কল্পে জনসাধারণের নির্বিঘ্নে রাস্তা পারাপারের লক্ষ্যে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে থ্রিডি জেব্রা ক্রোসিং স্থাপন করা হয়েছে। দাপ্তরিক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ হয়েছে, ফলে রেভিনিউ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জ্বালানী ও মেইনটেনেন্স খরচসহ আনুসঙ্গিক ব্যয় কমেছে। ২০০৫ সাল থেকে অবসর গ্রহনকারী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের গ্রাচ্যুইটি ও লাম্পগ্রান্ট এককালীন প্রায় ০৪ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

 

বাস্তবতার নিরিক্ষে সঠিকভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করা হচ্ছে ফলে বিসিসির রাজস্ব বিগত সময়ের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে বর্তমানে হোল্ডিং ট্যাক্স রেট কোনরূপ বৃদ্ধি করা হয়নি, বিগত পরিষদের ধার্যকৃত রেটেই ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়েছে, শুধুমাত্র পরিমাপের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতঃ অবৈধ সংযোগ চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার ফলে নাগরিক সেবা ও রাজস্ব আয় বেড়েছে। ট্রেড লাইসেন্স ফি নির্ধারণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে বাস্তবতার সাথে সঙ্গতি আনায়ন করা হয়েছে। পূর্বে ১০ হাজার ট্রেড লাইসেন্স থাকলেও বর্তমানে প্রায় দ্বিগুন ট্রেড লাইসেন্স গ্রাহকদের তথ্য পাওয়া গেছে। হাটবাজার শাখা কর্তৃক স্টল বরাদ্দের রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা সমূহ চিহ্নিত করনসহ বকেয়া রাজস্বসমূহ আদায়ের ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিসিসির প্লান শাখা কর্তৃক প্লান অনুমোদনের ক্ষেত্রে নগরবাসীদের দুর্ভোগ লাঘবে ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকল্পে প্লান অনুমোদন কমিটি গঠনের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে ও সঠিক নিয়মে প্লান অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

বিসিসির হিসাব শাখা কর্তৃক বিসিসির আয়-ব্যয়ের হিসাবের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি ও অব্যবস্থাপনা দূরকরতঃ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ শাখা কর্তৃক (স্ট্রিট লাইট, লাইট পোস্ট) ইনভেন্টরি সম্পন্ন করার ফলে বার্ষিক ব্যয় কমেছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকীকরনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে চায়নার বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের একটি প্রতিনিধি দল বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং রিপাবলিক অব কোরিয়ার বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা চলছে। যার মাধ্যমে এই শহরে সড়কবাতি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে। সাধারণ জনগনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বেওয়ারিশ কুকুর সংরক্ষণ এর জন্য অভায়াশ্রম নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রোড ডিভাইডার স্থাপন এবং ফুটপাতের কার্ভস্টোনে রং করা হয়েছে। অটোমেশনের মাধ্যমে রাজস্ব আয় ব্যয়ের হিসাবের মাধ্যমে নাগরিক সেবা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়মনীতি মেনে নলকূপ স্থাপন ফি পূর্বের থেকে অর্ধেকে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ফনী মোকাবেলায় যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল।

 

সমগ্র নগর এলাকার বিশেষ বিশেষ রাস্তার সংযোগ স্থলে পথ নির্দেশক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমান পরিষদের শুরু থেকেই ব্যাপকভাবে মশক নিধনের কার্যক্রম চলছে। মশক নিধনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ঔষধ আনা হয়েছ। ৩০টি ওয়ার্ডে মশার ঔষধ স্প্রে মেশিনের মাধমে দেয়া হচ্ছে এবং এ কাজ অব্যাহত থাকবে। নগরবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করনের লক্ষ্যে বিশেষ করে নগরীর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘‘আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রকল্প-২য় পর্যায়“ এর কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় ৮৯টি অস্থায়ী ও ১৩টি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র পরিচালনা করছে। খাদ্যের ভেজাল নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে খাবার হোটেলে খাদ্য প্রস্তুতকারী, বাজারজাতকারী ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান সমূহকে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় রেজিস্ট্রেশন বাদ্যতামূলক করা হয়েছে। ভেজাল খাদ্য প্রস্তুতকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এর বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশনের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটির নেতৃত্বে ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা ও সিলগালা করা আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের একটি অংশ। বরিশালবাসীর বিপণন সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নিউ সদরঘাট রোডস্থ ০৩ (তিন) তলা বিশিষ্ট মার্কেটের ২য় তলার এবং বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়কস্থ (সদর রোড) চলন্ত সিড়ি ও লিফট সমন্বিত ৭ (সাত) তলা আধুনিক সুপার মার্কেটের বেইজমেন্টসহ ৩য় তলার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

 

নগরবাসীর নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রম প্রতিরোধের জন্য নগরীতে ০৮টি বুথের মাধ্যমে ৫৯৪টি সিসি ক্যামেরা বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা হয়েছে। আমার প্রচেষ্টায় এবং বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় বরিশাল নগরীতে “দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন-মান উন্নয়ন প্রকল্প” নামে একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পটির কাজ ২০২২ সাল পর্যন্ত চলবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এর অধীনে ইউনিসেফ এর সহযোগিতায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে শিশু বান্ধব নগরী ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম সিটি কর্পোরেশনের ১০টি ওয়ার্ডে শুরু হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের এলাকায় যত্রতত্র বিচরণরত অবস্থায় থাকা খোলা/ছাড়া গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া ইত্যাদির হাত থেকে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধক বৃক্ষ এবং রাস্তাঘাট রক্ষার্থে খোয়াড় কার্যক্রম স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

এই সকল কার্যক্রম গ্রহণ করার ফলে গত ৯ মাসে (অক্টোবর/১৮-জুন/১৯) বিসিসির রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৭,৭৩,৫২,৪৪৯.৪৭ টাকা। একই সাথে অব্যবস্থাপনা দূর করার ফলে বিসিসির ব্যয় ২,১৫,১৬,৮৬২.২৩ টাকা কম হয়েছে।

প্রকল্পসমূহ

জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এর অর্থায়নে ও কারিগরি সহায়তায় বরিশাল শহরের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজিত নগর উন্নয়ন প্যোগ্রাম প্রথম পর্যায়ের আওতায় ১৩০ কোটি ১৯লক্ষ টাকার প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে। মহানগরীর অবকাঠামো, ড্রেনেজ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে নিম্নলিখিত প্রকল্পের মধ্যে ০২টি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ের আই পি ই সি কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে এবং বাকি প্রকল্পসমূহের ডিপিপি শীঘ্রই মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হবে বলে জানানো হয়। বিসিসির প্রকল্পগুলো হচ্ছে, বরিশাল সিটি কপোরেশন এলাকায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়ক সমূহ কার্পেটিং দ্বারা উন্নয়ন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিভিন্ন রাস্তা আর.সি.সি এবং সি.সি দ্বারা উন্নয়ন। (আইপিইসি কর্তৃক অনুমোদিত) বরিশাল সিটি কর্পোরেশনাধীন বিভিন্ন খাল সমূহের পাড় সংরক্ষণসহ পুনঃউদ্ধার ও পুনঃ খনন কাজ।

 

জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্থানে আর.সি.সি ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প। নথুল্লাবাদ বরিশাল সিটি কপ্যোরেশনের নতুন নগর ভবন নির্মাণ। সৈয়দ হাতেম আলী চৌমাথা, রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড, আমানতগঞ্জ এবং কাউনিয়া হাউজিং এলাকায় বেইজমেন্টসহ ১০ তলা সুপার মাকেংট কাম – বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ। নথুল্লাবাদ, রুপাতলী, সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা ও জজ কোর্টের সামনে ৪টি ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প। বরিশাল সিটি কপ্যোরেশন এলাকায় আধুনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে নির্মাণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে যন্ত্রপাতি ও যানবাহন ক্রয়। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন রাস্তায় এল.ই.ডি সড়ক বাতি স্থাপন প্রকল্প। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণসহ তিন অঞ্চলে তিনটি কবরস্থান, একটি শ্মশান ও একটি খ্রীস্টার সমাধি ক্ষেত্র নির্মান।

 

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বর্ধিত এলাকায় সড়কবাতি স্থাপন প্রকল্প। নগরীর বর্ধিত এলাকায় বিভিন্ন রাস্তাসমূহ সম্প্রসারণ ও মেরামত প্রকল্প। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বর্ধিত এলাকায় নতুন পানির পাইপ লাইন ও গভীর উৎপাদক নলকূপ স্থাপন প্রকল্প। শহর রক্ষা বাধ কাম রিং রোড (বাইপাস সড়ক) নির্মাণ। বরিশাল মহানগরীর আয়তন বৃদ্ধিসহ স্মার্ট সিটি গড়ার লক্ষে থ্রি-ডি এনিমেশন সহ মাস্টার প্লান হালনাগাদ (আপগ্রেড) করণ। বরিশাল সিটির সকল শাখার ডাটাবেইজ প্রস্তুতসহ ওয়েবসাইট আধুনিকীকরণ। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের অধীনে কেন্দ্রীয় সার্ভার ও ডাটা সেন্টার স্থাপন। বরিশাল মহানগরীতে নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ০৪টি ভাসমান পানি শোধনাগার নির্মান প্রকল্প।

এছাড়া বিভিন্ন স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা করেছেন বিসিসি মেয়র। এরমধ্যে মধ্য মেয়াদী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা (২০১৯-২০২৪) হচ্ছে, নগরীর ৪৩টি খাল পুনঃখনন করা, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ৫টি খালের পাড় সংরক্ষণ, ওয়াকওয়ে, বাই-সাইকেল লেন ও লিনিয়ার পার্ক নির্মাণ। জেলখালের পাড় ধরে “নথুল্লাবাদ-মড়কখোলা-কাউনিয়া প্রধান সড়ক- নাজিরের পুল পোর্টরোড পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণ। জেলাখালের উপর ৪টি আধুনিক ব্রীজ নির্মাণ। নতুন বাজারের কাঁচা বাজারটি স্থানান্তর করে নতুন বাজার ব্রীজের ঢালে ল্ুাটিয়া সড়কের পাশে (জেলখানার জায়গায়) আধুনিক মার্কেট নির্মাণ করে নতুন বাজারের যানজট নিরসন করা। নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের জায়গায় আধুনিক নগর ভবন ও প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ড কার্যালয় নির্মাণ।

 

নগরীর হাতেম আলী চৌশাথায় ইধুনক বহুতল মার্কেট নির্মাণ। কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে অসমাপ্ত শহর রক্ষা বাঁধ কাম রিং রোড নির্মাণ। বিসিক (টেক্সটাইল মোড়ে আধুনিক বহুতল মার্কেট ও খেলার মাঠ নির্মাণ)। এছাড়া নথুল্লাবাদ ও কাশিপুর বহুমুখী নিউমার্কেট নির্মানের মাধ্যমে সদর রোড ও চক বাজার এলাকায় চাপ/যানজট কমে আসবে। চাঁদমারী, কেডিসি, বদধ্যভুমি, ত্রিশগোডাউন এলাকাকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। জলাশয় ভরাট বন্ধ করা এবং সেগুলোকে প্রাকৃতিক জলাধার বানানোর উপযোগিতা তৈরী করা। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ / পার্ক নির্মাণ। গবাদি পশু জবাই এর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আধুনিক জবাইখানা নিমৃান। শিশু বান্ধব নগরী গড়া। নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা করা, প্রশস্ত ফুটপাত তৈরী করা ও সাঁতার শেখানেরা ব্যবস্থা করা। নগরীর কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে বরিশাল অপেরা, সুউচ্চ বরিশাল ওয়াচ টাওয়ার, স্কাই রেস্টুরেন্ট নির্মাণ। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বর্ধিত এলাকায় নতুন পানির লাইন ও গভীর নলকূপ স্থাপন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন রাস্তা পর্যায়ক্রমে আরসিসি দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্প। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ত্রিশ গোডাউন এলাকায় বধ্যভূমি, টর্চারসেল ও বাংকার সংরক্ষণসহ উন্নয়ন প্রকল্প।


দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনাসমূহ

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সীমানা বৃদ্ধি ও নদীর তীরকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প, শহর রক্ষাবাধ ও আধুনিক অভ্যন্তরীন নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। নগর অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিযোজন মোকাবেলায় রক্ষাবাধ, সমন্বিত রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা ও বস্তি উন্নয়ন প্রকল্প। জলাশয় ভরাট বন্ধ করা এবং সেগুলোকেজ প্রাকৃতিক জলাধার বানানোর উপযোগিতা তৈরী করা। শহরের ব্যস্ততম সদর রোড থেকে বরিশাল জেলখানা স্থানান্তর করে জেলখানাটি ২৭ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত ডেফুলিয়া ( পূর্ব প্রস্তাবিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা) তে স্থানান্তর করা ও বর্তমান জেলাখানার জায়গায় নভোথিয়েটার সহ আধুনিক সাইন্স সিটি/ বিনোদন পার্ক গড়ে তোলা। চাঁদমারী, কেডিসি, বদ্ধভূমি, ত্রিশ গোডউন এলাকাকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা। পোর্টরোড ব্রীজ থেকে দপদপিয়া ব্রীজ পর্যন্ত কীর্তনখোলার নদীর পাড়ে আর্ন্তজাতিক মানের শহর রক্ষাবাধ সহ আন্তর্জাতিক মানের বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা। গড়িয়ারপাড় থেকে কুদঘাটা হয়ে কালিজিরা পর্যন্ত শহর বাইপাস সড়ক নির্মাণ। কাশিপুর চৌ মাথা থেকে আবেদআলি শাহ মাজার-বেলতলা-পোর্টরোড পর্যন্ত শহর বাইপাস সড়ক নির্মাণ। বরিশাল শহরের মধ্যে অভ্যন্তরীন মেট্রো রেল চালু করা। মূল শহরের মধ্যে থেকে বিদ্যমান ইন্ডাস্ট্রিসমূহ সরিয়ে জাগুয়া-কালিজিরাতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন গড়ে তোলা।

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর, শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুস, জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান, সহকারী পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান, মেয়র পত্নি লিপি আব্দুল্লাহ প্রমূখ। উপস্থিত ছিলেন ৩০টি ওয়ার্ড এবং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরবৃন্দ। এছাড়াও মহানগরের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


বরিশালট্রিবিউন.কম’র (www.barisaltribune.com) প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।