বরগুনায় পুলিশ কর্মকর্তার বাল্যবিয়ে বন্ধ করল প্রশাসন!


বরগুনা : বরগুনায় এসআই সুদীপ্ত শংকর বিশ্বাস পার্থর সঙ্গে নাবালিকা কিশোরীর বিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে। আইনের লোক হয়ে বেআইনি কাজ করায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশের লোক হওয়ায় বাল্যবিয়ের আয়োজকদের কোনো শাস্তি পেতে হয়নি।

জানা যায়, শুক্রবার রাতে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র শীলের কিশোরী মেয়ের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।

কিশোরীর জন্মনিবন্ধন, টিকার কার্ড, সব পরীক্ষার সনদপত্রে উল্লেখ রয়েছে- জন্ম তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৪। জন্ম তারিখ অনুযায়ী কিশোরীর বয়স হয়েছে ১৬ বছর এক মাস। বয়স বাড়িয়ে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন করে তার বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।

কিশোরীর বাবার বাড়িতে শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিয়েটি পড়ানোর দিনক্ষণ ঠিক করা হয়। খবর পেয়ে বিয়ে বন্ধ করার জন্য পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নেয়। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে যাচাই করে দেখেন কিশোরীর বয়স ১৬ বছর।

তিনি বিয়েটি বন্ধ করার জন্য মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন। মহিলা বিষয়ক অধিদফতর বরগুনার উপপরিচালক মেহেরুন নাহার মুন্নী জানান, তারা কিশোরীর পিতার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছেন। কিশোরীর পিতা মুচলেকায় লিখেছেন- ১৮ বছর হওয়ার আগে মেয়ের বিয়ে দেবেন না।

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার বলেন, তিনি কিশোরীর বাবাকে সতর্ক করে দিয়েছেন। ১৮ বছরের আগে মেয়ের বিয়ে দিলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের সাজা দেয়া হবে।

বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন জানান, তারা মেয়ে ও পরিবারকে সতর্ক করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশের এসআই সুদীপ্ত শংকর বিশ্বাস পার্থকে জানানো হয়েছে- কিশোরীকে বিয়ে করলে তাকে চাকরি হারাতে হবে।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-barisaltribune@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]