বরিশালের বাজারে চায়না তরমুজ, দাম ভালো তবু বৃষ্টির সর্বনাশে চাষীদের মাথায় হাত


সৈয়দ মেহেদী হাসান, বরিশাল : আকাশ গুমুট। দমকা হাওয়ায় আভাস দিচ্ছে কাল বৈশাখী নিকটেই। শরীরে ভ্যাবসা গরম উপলব্দি হয় শীতের আবেশ না কাটতেই। বোঝা যায় গ্রীষ্মের শুরু হতে যাচ্ছে। গ্রীষ্মের শুরুতেই তৃষ্ণা বাড়ছে নগর-লোকালয়ের মানুষের। এই গ্রীষ্মে তৃষ্ণা মেটাতে তরমুজের বিকল্প নেই। গরমে বরিশালের মানুষের কাছে তৃষ্ণা নিবারণে তরমুজের চেয়ে জনপ্রিয়তম কিছু নেই। সেই চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে ইতিমধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে নানান স্বাদের তরমুজ। সাধারণত তিনধরণের তরমুম বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত হলেও বাড়তি পাওনা জুটলো বরিশালের বাজারে। নগরীর ব্যবসারদ্বার খ্যাত পোর্ট রোড ঘুরে দেখা গেছে, ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌসুমী শ্রমিকরা। ভোলা, পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থেকে কীর্তনখোলার নদীবক্ষ কাঁপিয়ে এসে থামছে এক একটি তরমুজ বোঝাই ট্রলার; অমনি ব্যস্ত হয়ে উঠছে শ্রমিকরা।

জহিরুল নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বরিশালে আসা এক মৌসুমী শ্রমিক আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, দিনে হাজার থেকে ১২০০ টাকা মজুরী পাচ্ছে। তিনমাস এভাবে দিনান্তে দিন ভালোই আয় হবে। তারপর আবার বেকার।

স্কন্ধের গামছায় মুখের ঘাম মুছতে মুছতে জহিরুল বলেন, বছরের অন্য সময় ভ্যানে সবজি বিক্রি করে সংসার চলে। তার সাথে যুক্ত হয় প্রায় সমবয়সী সুমন। সুমন জানান, তরমুজ প্রতি একটাকা চার আনা করে মজুরী পান। এই মজুরীতেই দিনে হাজার-দেড় হাজার টাকা আয় করেন।

ড্রাগন, জাগর ও সুপার নামে তিন ধরনের দেশী তরমুজ পাওয়া গেলেও এবার বরিশালের বাজারে উঠেছে চায়না তরমুজ নামে পটুয়াখালী জেলায় উৎপাদিত সুস্বাদু ও দেখতে সম্পূর্ণ হলুদ এক ধরনের তরমুজ।

তরুন বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধকিারী তরুন দাস জানান, দেশী তরমুজের চেয়ে আকৃতিতে ছোট দেখালেও অনেক মিষ্টি এই প্রজাতির তরমুজ। মূলত, বরিশালের মাটিতে উৎপাদন করা হলেও এর বীজ চায়না জাতের। তরুন দাস যোগ করেন, বছরের শুরুতেই চায়না তরমুজের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহের কমতি নেই। প্রতি পিস ৭০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে খুচরা বিক্রি হচ্ছে বলে জানান এই আড়ৎদার।

ভোলার তরমুজ চাষী মজিদ সিকদার বলেন, দাদন নিয়ে পাঁচকানি জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। চড়ামূল্যে শ্রমিক মজুরি দিতে হয়েছে। সার-ওষুধেরও দাম বেশি ছিল। ফলনও ভালো হয়েছিল। কিন্তু শীতের শেষের বৃষ্টিতে এখন দুই কানি জমিতেও ভালো তরমুজ নেই। মজিদের দাবী, দাদনের টাকাও তরমুজ বিক্রি করে তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অপর ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, তিন কানি জমিতে তরমুজ চাষ করে মাত্র ৩০০ তরমুজ বিক্রি করতে পেরেছে। বাকিসব ক্ষেতেই পঁচে গেছে।

প্রকৃতিক দুর্যোগে এভাবে মূলধন হারালেও চাষীদের সরকারিভাবে কোন সহায়তার উদ্যোগ নেই বলে জানিয়েছে কৃষ্টি অধিদফতর।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন[email protected]এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]