বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ফি বছর বাড়ছে ট্যাক্স—বাড়ছে না নাগরিক সুবিধা


বরিশাল : থ্রিডি জেব্রা ক্রসিং নিয়ে উন্মাদনার কিছুদিন পরই বরিশাল শহরে প্রায় সকল রাস্তা বাস্তবের থ্রিডিতে পরিণত হলেও বিষয়টি নিয়ে যেন কারোর কোন মাথা ব্যাথা নেই। একটা বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো মাসের পর মাস এভাবে ভাঙ্গা থাকার পরও সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কতটা নির্বিকার থাকতে পারে তার একটা উদাহরণ তৈরি করেছে আমাদের বরিশাল।

এমনকি থ্রিডি জেব্রা ক্রসিং নিয়ে পেপার-পত্রিকা, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াতে যত নিউজ এসেছে তার সিকি ভাগও রাস্তার এই ভয়াবহ সংকট নিয়ে আলোকপাত করা হয়নি। বিভিন্ন সড়কে এক-দুই ফুট গর্তে পানি জমে মাছ চাষের মতো পরিস্থিতিও খুব সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন প্রায় ৮০% রাস্তাই এখন চলাচলের অনুপোযোগী। ফলে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই বরিশালবাসীকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। লোক দেখানো দু-একটা রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু হলেও তা চলছে একেবারেই মন্থর গতিতে।

শুক্রবার বরিশাল নগরীর ফকির বাড়ি রোডস্থ সমাজতান্ত্রিক দলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন জেলা শাখার সদস্য সচিব ডা: মনীষা চক্রবর্তী।

এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, বরিশাল নগরীতে শিরা-উপশিরার মতো অনেকগুলো খাল রয়েছে, যার প্রায় সবগুলো সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বেশিরভাগ খাল ময়লা-আবর্জনার ড্রেন আর মশা উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই খালগুলো সংস্কারের কোন কার্যকর উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। বরিশালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা যে কতটা নাজুক তা বোঝা যায় ভারী বর্ষনের পর। বেশি বৃষ্টি হলেই নগরীর বিভিন্ন এলাকাতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন দরিদ্র বা নিম্নবিত্ত এলাকাগুলোতে হাজার হাজার পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বরিশালের পাড়া-মহল্লাতে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, পাঠাগার না থাকায় শিশু, কিশোর, তরুণ-যুবকদের দেহমনে বিকশিত হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নাই। আবার বিভিন্ন এলাকাতে মাদক, জুয়া, ইভটিজিং বন্ধে প্রয়োজন আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া।

তিনি বলেন, প্রতি বছরই হোল্ডিং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন করের বোঝা বৃদ্ধি করা হলেও নগরবাসীর ন্যুনতম সুযোগ-সুবিধাগুলো তো বাড়ছে না বরং তা যেন দিন দিন কমছে। তাই অবিলম্বে রাস্তাঘাট, খাল, ড্রেন সংস্কারসহ নিম্নোক্ত দাবিতে স্থানীয় কাউন্সিলর এবং সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর ভূমিকা নেয়ার দাবিতে আগামী ১৫-৩০ নভেম্বর ‘দাবি পক্ষ’ ঘোষণা করা হবে।

এদিকে সমাজতান্ত্রিক দলের দাবীগুলো উল্লেখ করেন মনীষা। এগুলো হলো- হোল্ডিং ট্যাক্স কমাও, নাগরিক সুবিধা বাড়াও!, অবিলম্বে বরিশালের সকল রাস্তাঘাট, ড্রেন সংস্কার কর। জনদুর্ভোগ কমাও, জেলখাল, সাগরদি খাল, নবগ্রাম খাল, আমানতগঞ্জ খালসহ নগরীর সকল খাল সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগি কর, প্রত্যেক এলাকায় মাদক, জুয়া, ইভটিজিং বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, সুষ্ঠু বিনোদনের জন্য এলাকায় এলাকায় খেলার মাঠ, পাঠাগার নির্মাণ কর, বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া রিক্সা, অটো, হকার উচ্ছেদ বন্ধ কর।

সংবাদ সম্মেলনে ডা: মনীষা নাগরিক অধিকার রক্ষায় এই দাবিপক্ষে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা এবং দাবি আদায়ে বরিশালবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন[email protected]এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]