বাংলাদেশি মাছ নিষিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে !


বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার থেকে আমদানি নিষিদ্ধ শাহজালাল ব্র্যান্ডের হিমায়িত (ফ্রোজেন ) মাছে সয়লাভ হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার। মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা প্রায় ৭৬ হাজার পাউন্ড মাছ সুপার শপ ও গ্রোসারিগুলোতে বিক্রি করা হয়েছে বলে এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। যে মাছগুলো বাজারে ইউএসডিএ’র পুনঃপরিদর্শন ছাড়া ওয়্যার হাওজের বাইরে যাওয়ার কথা ছিল না।

কিন্তু এসব মাছ এখন পাওয়া যাচ্ছে নিউইয়র্ক ও আশপাশের অঙ্গরাজ্যগুলোর বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের সুপার মার্কেট এবং গ্রোসারিগুলোতে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ইউএসডিএ’র কর্মকর্তারা প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন গ্রোসারি বা সুপার মার্কেট পরিদর্শন করে নিষিদ্ধ মাছগুলো তুলে নিয়ে যাচ্ছেন।

মানবদেহে ক্ষতিকারক এসব মাছ কিনে বা খেয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন লাখ লাখ প্রবাসী। বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটির এ ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড নিউইয়র্ক পোস্ট থেকে শুরু করে মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে ফলাওভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।

মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার থেকে আমদানি করা ৭৬ হাজার পাউন্ড ফ্রোজেন মাছ প্রিমিয়াম ফুডস শাহজালাল ব্র্যান্ড নামে নিউইয়র্ক ও তার আশপাশে সরবারহ করে আসছিল।

গত ২৯ জুলাই নিউইয়র্ক পোস্টে শাহজালাল ব্র্যান্ডের ফ্রোজেন মাছের আমদানি নিষিদ্ধ খবর প্রকাশিত হলে প্রবাসীদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

মূলত ক্যাটফিশ জাতীয় মাছ যেমন বোয়াল, পাবদা, আইড়, বাতাশী, মাগুরসহ আশবিহীন মাছগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিষিদ্ধ করে কৃষি দপ্তরের খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ।

এফএসআইএস থেকে বলা হয়েছে, মাগুর সুর জাতীয় মাছ রপ্তানির অনুমোদন নেই বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের। এই ২ দেশ থেকে গত ২৬ মার্চ ২০১৮ থেকে ৮ মার্চ ২০১৯ সালের মধ্যে মাছগুলো আমদানি করা হয়েছে। পরে খুচরা বিক্রির জন্য এসব মাছের চালান গেছে ক্লোরাডো, কানেক্টিকাট, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, মিশিগান, নিউজার্সিসহ নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশিদের গ্রোসারীতে।

তবে এসব নিষিদ্ধ মাছের বিক্রি বন্ধ করতে কিছুদিন ধরে বিভিন্ন গ্রোসারিতে হানা দিচ্ছে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচারাল ফুড সেফটি এন্ড ইনসপ্যাকশন সার্ভিসেস। ফলে যেসব গ্রোসারির মালিকরা প্রিমিয়াম ফুড ইউএসএর কাছ থেকে শাহজালাল ব্রান্ডের মাছ কিনেছেন তারা মাছ বিক্রি করতে না পেরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে ক্যাটফিস জাতীয় এসব মাছ চাষের সময় এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়। যদি ফ্রোজেন করা হয় তাহলে এসব মাছ মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে যেহেতু ফ্রোজেন করা ছাড়া মাছ আমদানির কোনো সুযোগ নেই, তাই ২০১৮ সালের শুরুতে এসব মাছ আমদানি নিষিদ্ধ করে ইউএসডিএ।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন[email protected]এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]