বাধা টপকে বরিশালে বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীরা, বিক্ষিপ্ত সংর্ঘষ (ভিডিও)

  • 3
    Shares

বরিশাল সরকারি জিলা স্কুল মাঠ। এক কোনায় মঞ্চ, চারদিকে বিএনপির উজ্জীবিত নেতাকর্মী। সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে বারবার গর্জে উঠছিল নেতাদের তেজি কণ্ঠ। বিএনপি নেতারা যখন সমাবেশে আসার পথে বাধার ফিরিস্তি দিচ্ছিলেন, তখন মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে মঞ্চের সামনে হাজির হন এক কর্মী। নাম তাঁর এনায়েত হোসেন। মেঘনাতীরের হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী তিনি। এনায়েত বলছিলেন, তাঁদের বহন করা ট্রলারটি যখন বরিশাল স্টিমারঘাটে পৌঁছে, তখন একদল লোক তাঁদের ওপর হামলা চালায়। ওই হামলায় তিনিসহ বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন।

তবে এই সমাবেশ ঘিরে বাধার শুরুটা হয়েছিল সেই পদ্মাপারে। বরিশালে সমাবেশে অংশ নিতে আসা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের গাড়িবহর পদ্মায় আটকে দেওয়া হয়। ফেরি পারাপার বন্ধ থাকার কারণে তাঁদের গাড়িবহর আর বরিশালে আসতে পারেনি। তাতেও দমে যাননি ইশরাক। তিনি লঞ্চযোগে বরিশালের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু বরিশাল নগরীতে প্রবেশপথে তাঁকে আবারও আটকে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন ইশরাক। পরে পুলিশ পাহারায় তাঁকে সভাস্থলে নিয়ে আসা হয়।

বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আলম রাজু স্কুল মাঠের মঞ্চের পাশেই বক্তব্য শুনছিলেন। ঘটনার সময় তিনি স্টিমারঘাটে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, সমাবেশে যোগ দিতে অর্ধশত নেতাকর্মী ট্রলারযোগে দুপুর পৌনে ২টার দিকে বরিশাল স্টিমারঘাটে পৌঁছেন। ট্রলার থেকে তীরে উঠতে যাবেন ঠিক সেই সময় ২০-২৫ জনের একটি দল ট্রলারে ইটপাটকেল ছোড়ে। ইটের আঘাতে আহত হন অনেকেই।

বাধার আরো অভিযোগ : বরিশাল নৌবন্দর এলাকায় দুপুর পৌনে ২টার দিকে হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ থেকে ট্রলারযোগে আসা নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেন ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এতে পাঁচ নেতাকর্মী আহত হন। পটুয়াখালীর বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, সমাবেশে আসার পথে পথে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেন। ফলে তাঁরা আলাদাভাবে বরিশাল নগরীতে একত্র হয়ে সমাবেশে যোগ দেন।

বরিশাল জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চান বলেন, ‘বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের কর্মী এবং পুলিশ বাহিনী হামলা ও হয়রানি করেছে। আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলায় আমাদের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান মনির বলেন, বিএনপি জনসম্পৃক্ত কোনো বিষয় নিয়ে মাঠে আসতে পারেনি। যা করছে তা খালেদা জিয়া আর তারেক রহমানকে খুশি করতে। খুনি খালেদা আর দুর্নীতিবাজ তারেক জিয়াকে সাধারণ জনগণ বয়কট করেছে।

ছাত্রদলের চেয়ার ছোড়াছুড়ি : সমাবেশে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা একে অপরের দিকে চেয়ার নিক্ষেপ করেন। বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম রনি ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন অনুসারী নেতাকর্মীরা চেয়ারে বসা নিয়ে এই হট্টগোল করে। বিকেলে বরিশাল জিলা স্কুল মাঠে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের বক্তব্য চলাকালে মঞ্চের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে সমাবেশস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে কেন্দ্রীয় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নেতাকর্মীরা জানান, বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে মঞ্চের সামনে থাকা বরিশাল জেলা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম রনি ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের অনুসারীরা চেয়ারে বসা নিয়ে কথা-কাটাকাটি করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় নেতাকর্মীরা একে অপরের দিকে চেয়ার নিক্ষেপ করলে সমাবেশস্থলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এতে সমাবেশস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বক্তব্য বন্ধ করে দেন প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন।

পরে বিএনপির বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানসহ অন্য জ্যেষ্ঠ নেতারা মঞ্চ থেকে নেমে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সমাবেশের ধকল নগরীজুড়ে : সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দেশের সব মহানগরে বিএনপির ধারাবাহিক সমাবেশের অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথমটি ছিল বরিশালে। দুপুরের আগে থেকেই সমাবেশস্থল জিলা স্কুল মাঠে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। সকালে যায় পুলিশ ভ্যান, জলকামান। ফলে প্রধান প্রধান সড়ক প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। গণপরিবহনের দেখা মেলেনি। এই দুয়ের কারণে শহরের বেশির ভাগ বিপণিবিতানগুলো দুপুরের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। তবে সন্ধ্যার দিকে আস্তে আস্তে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সমাবেশের কারণে আগেভাগেই মানুষ শহর ছেড়েছে। তা ছাড়া তিন দিনের বন্ধ থাকায় অনেকেই সকাল সকাল শহর ছেড়েছে। হামলা প্রসঙ্গে বলেন, সভাস্থলে দলীয় কর্মীরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন। এর বাইরে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের জানা নেই।

শিমুলিয়া ঘাটে বিড়ম্বনায় বিএনপি নেতা ইসরাক ও তাবিথ : এদিকে মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল দুপুরে বরিশালে প্রথম বিভাগীয় মহাসমাবেশে যোগ দিতে সকাল ৭টায় প্রায় ৫০টি গাড়িবহর নিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে আসেন ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের বিএনপির পরাজিত মেয়র প্রার্থী ইসরাক হোসেন ও তাবিথ আউয়াল। তাঁদের বহর ঘাটে আসামাত্রই ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে পারাপার হতে আসা হাজারো যাত্রী ও যানবাহন চালককে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে তাবিথ আউয়াল ও ইসরাক হোসেন লঞ্চে করে নেতাকর্মীদের নিয়ে বরিশালের দিকে রওনা দেন।


  • 3
    Shares

[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-barisaltribune@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]