বানারীপাড়ায় অধ্যক্ষ বরখাস্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন


বানারীপাড়া : বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মিজানুল ইসলাম মুকুলকে সাময়িক বরখাস্তের প্রতিবাদে ওই কলেজের কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন শুরু করেছেন।

১১ সেপ্টেম্বর সকালে কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাস বর্জন করে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে অধ্যক্ষ কাজী মিজানুল ইসলাম মুকুলের পক্ষে বিভিন্ন শ্লোগান দেন। পরে বাইশারী-বিশারকান্দি আঞ্চলিক সড়কে প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন করেন তারা। শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন চলাকালিন সময় অভিভাবকরা অধ্যক্ষকে বরখাস্ত করার প্রতিবাদে ঝাঁড়– মিছিল করেন।

শিক্ষার্থীদের মানবন্ধন শেষে তাদের আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন ওই কলেজের শিক্ষকরা। পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে বাইশারী ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের বাড়ি থেকে অধ্যক্ষকে কলেজে নিয়ে আসেন।

এ সময় শিক্ষার্থীদের অনুরোধে কলেজ ক্যাম্পাসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বাইশারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তাজেম আলী হাওলাদার,বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা মো. নুরুল হুদা,উপজেলা যুবলীগ নেতা মুনতাকিম লস্কর কায়েস,মহসিন রেজা,দুলাল তালুকদার,উজ্জ্বল তালুকদার,উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফোরকান আলী হাওলাদার,পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রুহুল আমিন রাসেল মাল,সম্পাদক সজল চৌধুরী উপস্থিত হয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তাদের আন্দোলনের কারন শুনে তারাও একমত পোষন করে সমাবেশে বক্তৃতা করেন।

সমাবেশে আরও বক্তৃতা করেন বাইশারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ কাজী মিজানুল ইসলাম মুকুল। তিনি তার বক্তৃতায় বলেন,বিগত প্রায় ৩ বছর আগে কলেজের গর্ভনিং বডির সভাপতি ও বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. মাওলাদ হোসেন সানার নির্দেশে তার কলেজে উপ-মহাদেশের সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতি বন্ধ করতে তিনি বাধ্য হয়েছিলেন। এ ছাড়াও কলেজের বিষয়ে সভাপতি যে সকল অভিযোগ করেছেন তার কোন বৃত্তি নেই। তবে অভিযোগ গুলোর বিষয়ে তিনিই (সভাপতি) সবচেয়ে ভালো জানেন।

ইসলামী ইতিহাসের সহকারী অধ্যাপক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো.ওবায়দুল হক তার বক্তৃতায় বলেন,অধ্যক্ষ কাজী মিজানুল ইসলাম মুকুল যোগদানের পর থেকে পরীক্ষার ফলাফল সহ সর্বদিক থেকে কলেজটি বরিশাল বিভাগের মধ্যে একটি অন্যতম কলেজে রুপান্তরিত হয়েছে। তাই ষড়যন্ত্র করে কোন ভাবেই অধ্যক্ষকে অপসারণ করা যাবেনা। এটা করা হলে তারা সহ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা মিলে কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এ বিষয়ে কলেজের গর্ভনিং বডির সভাপতি এড.মাওলাদ হোসেন সানা বলেন,অধ্যক্ষকে বার বার বলার পরেও তিনি কলেজের সার্বিকদিক মিলিয়ে গত ৬ মাসের মধ্যেও একটি মিটিং

ডাকেননি এবং তার করা অভিযোগের কোন সত্যতা নেই।

এদিকে অধ্যক্ষকে বরখাস্ত করার রেজুলেশনে স্বাক্ষর করা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং ইসলামী ইতিহাসের সহকারী অধ্যাপক মো. ওবায়দুল হক তার এক লিখিত বক্তবে জানান,অধ্যক্ষের বরখাস্তের রেজুলেশনে স্বাক্ষর দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে সভাপতি তাকে সরাসরি নির্দেশ দিয়ে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করান। প্রফেসর শারমিন সুলতানা তার লিখিত এক বক্তবে জানান,সভায় আলোচনার বিষয় ছিলো শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো প্রসঙ্গ।

অধ্যক্ষকে বরখাস্ত করার কোন এজন্ডা ছিলোনা ওই সভায়। তাকে দিয়ে জোর পূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। কম্পিউটার শিক্ষক খোকন রায় তার লিখিত বক্তবে জানান,সে গত ২১ জুলাই গর্ভনিং বডির সদস্য পদ থেকে অব্যহতি চেয়ে অধ্যক্ষের বরাবরে আবেদন জমা দিয়েছেন। ওই মিটিং এ তার স্বাক্ষর করা বৈধতা হবেনা বলে জানালে সভাপতির নির্দেশে সে স্বাক্ষর করেন। তবে তারা ৩ জনই জানতেন না ওই সভায় অধ্যক্ষকে বরখাস্ত করা হবে।


বরিশালট্রিবিউন.কম’র (www.barisaltribune.com) প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।