বিরল সাহিত্য কারিগর জর্জ বার্নার্ড শ’র জন্মদিন আজ


আবদুল্লাহ আল মোহন : বিশ্ববিখ্যাত আইরিশ নাট্যকার এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জর্জ বার্নার্ড শ’। উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের পর অন্যতম সেরা ইংরেজ নাট্যকার হিসেবে তিনি সমালোচকদের দৃষ্টি কাড়েন। ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জর্জ বার্নার্ড শ’র জন্মদিনে তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। উল্লেখ্য যে, ৯৪ বছর বয়সে ১৯৫০ সালের ২ নভেম্বর ইংল্যান্ডের হার্টফোর্ডশায়ারে পরলোকগমন করেন তিনি। বলা হয়ে থাকে, তার মতো উন্নত মানসম্পন্ন সাহিত্য সমালোচক বিশ্বে বিরল। কারণ, যে কোনো সাহিত্য সৃষ্টিকেই তিনি সুনিপুণ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সমালোচনা করতেন। সঙ্গীত এবং সাহিত্য সমালোচনা বিষয়ক লেখালেখি তাকে আর্থিক সচ্ছলতা দিলেও তার মেধার প্রকৃত আলো, নান্দনিকতা, শিল্পবোধ আসলে লুকিয়ে ছিল নাটকেই। ৬০টিরও অধিক স্যখ্যক নাটক রচনা করেছেন তিনি। জর্জ বার্নার্ড শ’র কথা মনে ভাসলেই তার ‘Man and Superman’ নাটকের অনেক আলোকিত সংলাপের মধ্যেও একটি সংলাপ আজো আমার মনে আসে, যেটি গভীরভাবে মনে গেঁথে আছে।চোখ বন্ধ করলেই যেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাঠচক্রে শোনা আমেরিকান নাগরিক এলেন বিগোলের কণ্ঠে শুনতে পাই, ‘Beware of the man whose God is in the skies.’ আরেকটি সংলাপও মাঝে মাঝে মনে আমার অনুরনণ তোলে, ‘The philosopher is Nature’s pilot.’

নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ’ সম্পর্কে আগ্রহ, উৎসাহ প্রবল হয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দিনগুলোর শুরুর দিকেই। একসময় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার উদ্যোগ নিলেন আমাদের ইংরেজি ভাষা শেখাবেন সে ভাষার সেরা সাহিত্যকর্মগুলোর মূল রচনা পাঠের মাধ্যমে। শুরু করলেন নতুন আরেকটি পাঠচক্র- ইংরেজি নাটক পাঠচক্র। স্যার মনে করেন, একটি ভাষা শিখতে হলে সে ভাষার কারো সাথে প্রেম করার সুযোগ না হলেও, ভাষার মৌলিক শ্রেষ্ঠ নাটক পাঠ করা গেলে ভাষাজ্ঞান, দক্ষতা দ্রুতই সঠিকভাবে অর্জন করা সম্ভব। এটা যেন অনেকটা দুধের সাধ ঘোলে মেটানোর প্রচেষ্টা আর কি ! এই সময়ে শুদ্ধভাবে বাংলা ভাষা শেখার আগ্রহে কেন্দ্রে যাতায়াত করতেন আমেরিকান নাগরিক এলেন এডগার বিগোলো। এলেন চাকুরি না করলেও তার স্বামী রস এডগার বিগোলো কাজ করতেন মার্কিন দূতাবাসের উন্নয়ন (সম্ভবত- ইউএসএইড) শাখায়। মনে পড়ে এলেন খুব সুন্দর পিয়ানো বাজাতেন, শেখাতেনও। একাধিকবার তার চমৎকার পিয়ানো বাদন শোনার সুযোগ হয়েছিলো আমার। কারণ আমি তখন কেন্দ্র সভাপতি সায়ীদ স্যারের একান্ত সহকারির দায়িত্ব পালন করতাম। ফলে বাধ্যতামূলকভাবেই আমি হয়ে পড়ি ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সায়ীদ স্যারের সঙ্গী। আমার সকল সময়ই কাটে স্যারে আশে-পাশেই। তো সেই সময়ে স্যারের ইচ্ছায় এলেন বিগোলো আমাদের ইংরেজির শিক্ষক হিসেবেও আনন্দে কাজ শুরু করলেন। সেই ইংরেজি নাটক পাঠচক্রের প্রথম পাঠ্য বই-ই ছিলো জর্জ বার্নার্ড শ’র নাটক- ‘Man and Superman’। সায়ীদ স্যার অতি নিষ্ঠার সাথে সেই নাটকের প্রয়োজনীয় শব্দগুলোর বাংলা অর্থসহ শব্দকোষ তৈরিতে মনোযোগ দিলেন। আর আমি কেন্দ্রের পাঠাগার ঘেঁটে স্যারের জন্য নোট নেই, প্রয়োজনীয় বই-পত্র- অভিধান এগিয়ে দেই।ফলে আমার রথ দেখা আর কলাবেঁচা যুগপৎ হয়ে যায়। এভাবেই জর্জ বার্নার্ড শ’র প্রতি আমার প্রেম তৈরি হয়, আকর্ষণ বাড়ে। কেন্দ্রে তখন প্রায়ই আসতেন সাহিত্যের অনুবাদক, প্রাবন্ধিক, সমালোচক ইংরেজি সংবাদপত্রের সাংবাদিক জাকারিয়া শিরাজী ভাই। আলোচনার সূত্রে তার কাছেও জর্জ বার্নার্ড শ’র জীবন ও নাটক নিয়ে অনেক কিছুই জানতে পারি। তার আলোকিত আলাপন আমাকে জর্জ বার্নার্ড শ’র প্রতি আগ্রহের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। পরে জাকারিয়া শিরাজী ভায়েরই লেখা ‘জর্জ বার্নার্ড শ’ ও অন্যান্য প্রবন্ধ’ গ্রন্থটি পাঠ করলে আমার মনের আগুনে ঘি পড়ে। জর্জ বার্নার্ড শ’র প্রতি উৎসাহ বাড়লেও আমার ইংরেজি ভাষা জ্ঞানের ভয়াবহ সীমাবদ্ধতার কারণে মূল রচনা পাঠ বিঘ্নিত হলেও বাংলায় পাঠের প্রীতি কমেনি। পরবর্তীকালে ছায়ানটের পাঠচক্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সুখ্যাত অধ্যাপক ফখরুল আলম স্যারের কাছেও ইংরেজি নাট্য সাহিত্য এবং জর্জ বার্নার্ড শ’র অবদান, ভূমিকা বিষয়ে আরো জানার সুযোগ হয়।


জর্জ বার্নার্ড শ’ সামাজিক বিভিন্ন ধরনের সমস্যাগুলো হাস্যরসের ছদ্মাবরণে অত্যন্ত দক্ষ শিল্পীর হাতে সাহিত্যকর্মে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন। শিক্ষা, বিয়ে, ধর্ম, সরকার, স্বাস্থ্যসেবা এবং শ্রেণী-সুবিধাই ছিল জর্জ বার্নার্ড শ’র লেখার বিষয়বস্তু। অধিকাংশ লেখাতেই শ্রমজীবী মানুষের শোষণের বিপক্ষে তার অবস্থান ছিল সুস্পষ্ট। একজন কট্টর সমাজতান্ত্রিক হিসেবে ফ্যাবিয়ান সোসাইটির পক্ষে জর্জ বার্নার্ড শ’ অনেক বক্তৃতা দেন ও পুস্তিকা রচনা করেন। জর্জ বার্নার্ড শ’ কে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছিল ১৯২৫ সালে। বলা হয়েছিল যে, লেখনির মধ্য দিয়ে তিনি একদিকে যেমন আদর্শবাদের ধ্বজাকে ওপরে তুলে ধরেছেন, তেমনি এরই পাশাপাশি চিরন্তন মানবিকতারও জয়গান গেয়েছেন। সেই সাথে অসাধারণ কৌতুকসম্পন্ন বাক্যবাণে বিদ্ধ করেছেন সবার অশান্ত হৃদয়কে। তার লেখনীর মধ্যে কাব্যিক সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকত সবসময়। সাহিত্য সমালোচকদের মতে, উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের পর জর্জ বার্নার্ড শ’ই হলেন সেরা ব্রিটিশ নাট্যকার। আবার কেউ বলেন, তার মতো সাহিত্য সমালোচক বিশ্বে দূর্লভ। যে কোনো সাহিত্য সৃষ্টিকে তিনি সম্পূর্ণ নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সমালোচনা করতে পারেন। তিনি ছিলেন স্বচ্ছ পরিষ্কার মননের অধিকারী। কারো কারো মতে, তিনি একজন মহান সামাজিক চিন্তক। তার চিন্তার মধ্যে ভবিষ্যৎ জীবনের বীজ অঙ্কুরিত হয়। সুকৌশলে তিনি তার আপন দর্শনের পরিচয় তুলে ধরেন, পঁচাগলা সমাজের বিরুদ্ধে তিনি তীক্ষ্ণভাবে প্রতিবাদ জানান।

জর্জ বার্নার্ড শ’ (জুলাই ২৬, ১৮৫৬ – নভেম্বর ২, ১৯৫০) ছিলেন ডাবলিনের এক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, যিনি সমকালীন সমাজকে প্রচণ্ডভাবে প্রভাবিত করেছিলেন। তার পিতার নাম জর্জ কার শ’ এবং মায়ের নাম লুসিন্ডা এলিজাবেথ শ’। জর্জ বার্নার্ড শ’ ছাড়াও তাদের আরো দু’ কন্যা সন্তান ছিল। মেথোডিস্ট চার্চ পরিচালিত ডাবলিনের একটি গ্রামার স্কুলে তার পড়াশোনা শুরু হয়। এরপর তিনি পড়াশোনা করেছিলেন ডাবলিনের ওয়েলস কলেজে। ডাবলিন ইংলিশ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কমার্শিয়াল ডে স্কুলে তার প্রাতিষ্ঠানিক পড়ার সমাপ্তি ঘটে। স্বশিক্ষিত শ’ সমকালীন সমাজকে প্রচণ্ডভাবে প্রভাবিত করেছিলেন, তাকে তুলনা করা হয় মহান-চিন্তানায়ক ভলতেয়ারের সঙ্গে, ছোটবেলার দিনগুলো তার কেটেছিল কঠিন কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে। সময়মতো পড়াশোনা করতে হতো তাকে। চার্চে যেতে হতো সবসময়। খেলাধুলার সময়টার ওপরেও টেনে দেয়া হয়েছিল লক্ষণরেখা। এভাবে ছোট থেকেই শ’কে বলা হয়েছিল ভবিষ্যতে তোমাকে একজন কেউকেটা হতে হবে। তুমি জন্মালে, আর কিছুদিন কাটিয়ে গেলে এই পৃথিবীর বুকে, তা হবে না। এভাবেই বোধহয় শ’-এর মন ইস্পাত-কঠিন হয়ে ওঠে। পরবর্তীকালে তিনি যে ধারালো গদ্যের জন্য সবার হৃদয় জয় করেছেন, তার বীজ এভাবেই উত্তপ্ত হয়েছিল তার কিশোরকালে। তবে এ ব্যাপারে তিনি বারে বারে তার মা-বাবা এবং গৃহশিক্ষকদের কথা স্মরণ করেছেন। তাদের সমবেত প্রভাবেই শ’ এক স্বচ্ছ মনের অধিকারী হয়ে ওঠেন। গতানুগতিক পথচলা তার জন্য শুরু হয়ে যায়। আর এ জন্য সবে কৈশোর উত্তীর্ণ বয়সে তিনি কেরানির চাকরি ছেড়ে সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। পরে তিনি মধ্যবিত্তের সামাজিক সংগ্রাম ও রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন তার লেখক জীবনে বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল। এ জন্য প্রথম জীবনে গদ্য লেখলেও পরবর্তীকালে তিনি নাট্য রচনায় মনোনিবেশ করেছিলেন।

জর্জ বার্নার্ড শ’ ১৮৯৮ সালে আইরিশ নারী ফাবিয়ানাকে বিয়ে করেছিলেন। ১৮৯৭ সালে তিনি পার্লামেন্ট মেম্বার হিসেবে মনোনীত হলেও পরে স্থানীয় কাউন্সিলর হিসেবে নিজের কর্মতৎপরতা পরিচালনা করেন। তিনি ১৯০০ সাল পর্যন্ত কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জর্জ বার্নার্ড শ প্রণীত প্রথম নাটক মঞ্চস্থ হয় ১৮৯০ সালে। অচিরেই তিনি তার সমাজে দারুণভাবে প্রভাব বিস্তার করেন। পরবর্তীকালে ১৮৯৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স। এ ছাড়া তিনি বিখ্যাত সংবাদপত্র নিউ স্টেটম্যানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। জর্জ বার্নার্ড শ আগাগোড়া একজন সাহিত্য ও রাজনীতি সমালোচক হিসেবে খ্যাতিমান ছিলেন। তবে নাটক তাকে সব খ্যাতি অতিক্রম করেছিল। কারণ তার নাট্য রচনা ও বিষয়বস্তুর উৎকর্ষতার কারণে তিনি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। জর্জ বার্নার্ড শ’ রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নাটক হলো- Arms and the Man, The Man of Destiny, Man and Superman (1903). Back to Methuselah (1921), Saint Joan (1923), Caesar and Cleopatra (1901), Androcles and the Lion (1912), Major Barbara (1905), The Doctor’s Dilemma (1906), Candida (1898), Pygmalion (1912) ইত্যাদি।

জর্জ বার্নার্ড শ’ এমন ব্যক্তিত্ব যিনি যুগপৎ সাহিত্যে নোবেল (১৯২৫) এবং অস্কার (১৯৩৮) পুরস্কার লাভ করেন। নোবেল পুরস্কার গ্রহণে তার চরম অনাগ্রহ থাকলেও স্ত্রীর পীড়াপীড়িতে শেষ পর্যন্ত তা তিনি গ্রহণ করেন। তবে তিনি পুরস্কারের অর্থ গ্রহণ করেননি। নানা বৈচিত্র্যে ভরা জর্জ বার্নার্ড শ’ ১৯২৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েও নোবেল পুরস্কারের তীব্র সমালোচনা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। পুরস্কারের অর্থ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছিলেন, আমি ডিনামাইট তৈরির জন্য আলফ্রেড নোবেলকে ক্ষমা করতে পারি, কিন্তু নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তনকারীকে ক্ষমা করতে পারি না, কারণ একমাত্র মানুষরূপী শয়তানই এমন পুরস্কার প্রবর্তন করতে পারে। সুইডিশ রসায়ন বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট আবিষ্কারের পর ‘মৃত্যুর সওদাগর’ হিসেবে নিন্দিত হওয়ায় নোবেল পুরস্কার প্রথা চালু করেছিলেন। কিন্তু এই প্রথা চালু হওয়ার পর বেশি দিন না যেতেই পুরস্কারটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে পাশ্চাত্য। কেবল তাই নয় এই পুরস্কারকে ব্যবহার করা হয় পাশ্চাত্যের আধিপত্যকামী, বিভেদকামী, শোষণকামী ও হত্যাযজ্ঞের নীতি জোরদারের হাতিয়ার হিসেবে।

জর্জ বার্নার্ড শ’কে নিয়ে নানান মজার কাহিনি প্রচলিত আছে। একবার তার বাড়িতে বেড়াতে এসে এক মহিলা অবাক হয়ে বললেন, ‘মিস্টার শ, আপনার ঘরে দেখছি একটাও ফুলদানি নেই। আমি ভেবেছিলাম, আপনি এত বড় একজন লেখক; আপনি নিশ্চয়ই ফুল ভালোবাসেন। তাই আপনার বাসার ফুলদানিতে বাগানের তাজা, সুন্দর ফুল শোভা পাবে।’ প্রত্যুত্তরে শ সঙ্গে সঙ্গেই বললেন, ‘ম্যাডাম, আমি বাচ্চা ছেলেমেয়েদেরকেও ভালোবাসি। তার অর্থ এই নয় যে, আমি তাদের মাথা কেটে নিয়ে এসে ঘরে সাজিয়ে রাখব।

জর্জ বার্নার্ড শ’ প্রচন্ড হাস্য রসিক ছিলেন।তাকে নিয়ে হাস্যরসিকতা চালু আছে। যেমন জর্জ বার্নার্ড শ’ ছিলেন হালকা-পাতলা গড়নের মানুষ। আর তার বন্ধু বিশ্বখ্যাত চিত্র পরিচালক আলফ্রেড হিচকক ছিলেন মোটা ও বিশাল ভুঁড়ির অধিকারী। একবার শ’-কে ঠাট্টা করে হিচকক বললেন, ‘তোমাকে দেখলে মনে হয় ইংল্যান্ডে দুর্ভিক্ষ চলছে।’ জবাবে শ’ বললেন, আর তোমাকে দেখলে বোঝা যায় দুর্ভিক্ষের কারণটা কী!’ জর্জ বার্নার্ড শ’ কাউকে অটোগ্রাফ দিতেন না। নিজের লেখা বইও কাউকে কখনো উপহার দেননি। তবে বিশ্বখ্যাত বাঙালি জগদীশচন্দ্র বসু ১৯২৮ সালে রয়েল সোসাইটির সভায় একটি ভাষণ দেন। সেই ভাষণ শুনে শ’ মুগ্ধ হয়ে যান। পরদিনই কয়েকটি বই নিয়ে তিনি জগদীশচন্দ্রের বাসায় গিয়ে হাজির। তখন জগদীশচন্দ্র বাসায় ছিলেন না। উপহারের বইগুলোতে শ’ লেখেন জীববিজ্ঞানে পণ্ডিত এক ব্যক্তিকে জীববিজ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞ এক ব্যক্তি উপহার দিলেন।

একবার এক তরুণ সম্পাদক একটি সংকলনে জর্জ বার্নার্ড শ’-র একটি লেখা ছাপার অনুমতি চেয়ে চিঠি লিখল। চিঠিতে উল্লেখ ছিল, সম্পাদকের বয়স কম তাই তার পক্ষে সম্মানী পাঠানো সম্ভব নয়। জবাবে শ’ লিখলেন, তরুণ সম্পাদকের বড় হয়ে ওঠা পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করতে রাজি আছেন। একদিন এইচ জি ওয়েলসের সঙ্গে রাস্তায় হাঁটছিলেন শ’। ওয়েলস তার হাতের লাঠিটা ঘোরাচ্ছিলেন। আর তা শ’-র নাক ছুঁই ছুঁই করছিল। জর্জ বার্নার্ড শ’ তাকে বললেন, তোমার লাঠি ঘোরানো বন্ধ কর। যে কোনো সময় এটা আমার নাকে লাগতে পারে। তারপর ওয়েলস যুক্তি দেখালেন, ‘লাঠি ঘুরিয়ে হাঁটা আমার নাগরিক অধিকার।’ তারপর জবাবে জর্জ বললেন, ‘মানলাম। তবে এটাও ঠিক আমার নাকের ডগা যেখানে শেষ, তোমার নাগরিক অধিকার সেখান থেকে শুরু।’

জর্জ বার্নাড শর মুখের লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য ছিল তার দাড়ি। একবার একটি ইলেকট্রিক রেজর নির্মাতা কোম্পানির কর্তারা বাজারে আসা তাদের নতুন রেজরের প্রচারণায় শ’র এই দাড়িকে নিশানা করল। শকে তারা এই নতুন রেজর দিয়ে দাড়ি কামানোর অনুরোধ করল। বিনিময়ে দেওয়া হবে লোভনীয় অঙ্কের টাকা। শ তাদের হতাশ করে বললেন, তাঁর বাবা যে কারণে দাড়ি কামানো বাদ দিয়েছিলেন, তিনিও ঠিক একই কারণে এ জঞ্জাল ধরে রেখেছেন। কোম্পানির কর্তারা কারণটি জানতে আগ্রহী হলে বার্নার্ড শ বললেন, “আমার বয়স তখন পাঁচ বছর। একদিন বাবা দাড়ি কামাচ্ছেন, আমি তাঁকে বললাম, ‘বাবা, তুমি দাড়ি কামাচ্ছ কেন!’ তিনি এক মিনিট আমার দিকে নীরবে তাকিয়ে থেকে বললেন, ‘আরে তাই তো, আমি এ ফালতু কাজ করছি কেন?’ এই বলে তিনি সেই যে জানালা দিয়ে রেজর ছুড়ে ফেললেন, জীবনে আর কখনো তা ধরেননি।”

সবশেষে জর্জ বার্নার্ড শ’র মূল্যবান কয়েকটি মন্তব্য পাঠ করা যাক।-
– জীবনে দুটি দুঃখ আছে। একটি হল তোমার ইচ্ছা অপুর্ণ থাকা, অন্যটি হল ইচ্ছা…
– প্রেম হল সিগারেটের মতো, যার আরম্ভ হল অগ্নি দিয়ে আর শেষ পরিণতি ছাইতে
– নতুন কিছু করাই তরুণের ধর্ম
– The golden rule is that there are no golden rules.
– He who can, does. He who cannot, teaches.
– Civilization is the disease produced by the practice of building societies with rotten material.
– Do not try to live for ever. You will not succeed.


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন[email protected]এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]