ভিপি হতে মুনিম-সাঈদীর ছাত্রত্ব নিয়ে তর্ক


ছাত্রত্ব না থাকা এক ছাত্র নেতাকে ছাত্রত্ব দেয়ার পায়তারা অভিযোগ পাওয়া গেছে বিএম কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তবে এই বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা ছাড়া বিএম কলেজে ভর্তি হওয়া অসম্ভব। আর অবৈধভাবে যদি কেউ ভর্তি হয়ে থাকে তাহলে তার ভর্তি এমনিতেই বাতিল হয়ে যাবে এবং সবকিছু অনলাইনে রেকর্ড করাও রয়েছে।

বিএম কলেজের অস্থায়ী ছাত্র কর্ম পরিষদের সাহিত্য সম্পাদক ও ছাত্রলীগ নেতা নূর আল আহাদ সাইদী জানান, মাস্টার্সে ভর্তির জন্য ইসলামী ইতিহাস বিভাগে ১ম বারের তালিকায় ১৮০ জনের মধ্যে আমার এবং ছাত্রলীগ নেতা আতিকুল্লাহ মুনিম কারো নামই আসেনি। পরে দ্বিতীয় তালিকায় ৯ জনের মধ্যে আমার নাম থাকলেও আতিকুল্লাহ মুনিমের নাম নেই। বুধবার সকাল ৯টা থেকে আমি ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করলেও কলেজ অধ্যক্ষ থেকে শুরু করে আমার ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকরা তালবাহানা শুরু করে আমার সাথে। পরে শিক্ষকরা অধ্যক্ষর রুমে মিটিং করে দুপুর ১টার দিকে আমার ভর্তি নেয়। ভর্তি হওয়ার জন্য আমি ডিপার্টমেন্টের প্রধানের রুমে গেলে সেখানে গিয়ে জানতে পারি ৯ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭ জন ভর্তি হয়েছে। সেই হিসেবে আমার সিরিয়াল বা রোল আসার কথা ১৮৭। কিন্তু ১৮৭ নম্বর ঘর ফাঁকা রেখে আমাকে ১৮৮ নম্বরে রাখা হয়। যাতে ওই ১৮৭ নম্বরে মুনিমকে ভর্তি করাতে পারে সেই সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়াও বিভাগীয় প্রধানের টেবিলে আতিকুল্লাহ মুনিমের ছবি সহ ভর্তির একটি ফাইলও দেখতে পাই। এখন কয়েকজন শিক্ষক মিলে আতিকুল্লাহ মুনিমকে ভর্তি করানোর চেষ্টা করছে। যেটা নিয়ে তাৎক্ষণিক আমি প্রতিবাদও জানাই। সেখানে কয়েকজন সাংবাদিকও উপস্থিত ছিলেন। তারা বিষয়টি দেখেছেন।

যদিও অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য আতিকউল্লাহ মুনিমের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

ইসলামী ইতিহাস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শাহ আলম জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে তালিকা দেয়া হয়েছে সেই অনুযায়ী ভর্তি করানো হচ্ছে। এখানে তালিকার বাইরে কাউকে ভর্তি করানো সম্ভব নয়। অভিযোগটি সম্পূর্ন মিথ্যা। আর যে পদটি ফাঁকা রয়েছে সেটা একটি মেয়ের জন্য রাখা হয়েছে। সে দ্বিতীয় তালিকায় চান্স পেয়েছে। আমাদের সাথে আগে থাকতে যোগাযোগ করায় ঘরটি ফাঁকা রাখা হয়। এছাড়া আতিকুল্লাহ মুনিম ভর্তি হয়নি।

বিএম কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান সিকদার জানান, অবৈধভাবে যদি কেউ ভর্তি হয়ে থাকে তাহলে তার ভর্তিও বাতিল হয়ে যাবে। কেননা অনলাইনে সব রেকর্ড রয়েছে। তাই এখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।


বরিশালট্রিবিউন.কম’র (www.barisaltribune.com) প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।