ভোলায় ক্যান্সারে আক্রান্ত ছালেমের বোবা কান্না!


সোহেল, ভোলা : নিজের চিকিৎসার টাকা, সংসার পরিচালনার টাকা ও ছেলেরে দেনার পরিশোধের টাকা। এ তিনটি চাপ নিয়ে প্রতিদিনই এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম এক বাজার থেকে অন্য বাজারে ছুঁটে বেড়াচ্ছেন ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত মূখের বাক শক্তি হারিয়ে ফেলা মোঃ ছালেম (৫০)।

গলায় ক্যান্সার হওয়ায় কৃক্রিমভাবে গলায় একটি পাইব দ্বারা শ্বাস নিতে পারলেও কথা বলার ক্ষমতা হারিয়েন তিনি। যার কারণে অপরিচিত কাউকে নিজের কষ্টের কথা খুলে বলতে পারছেন না। তারপরও হাতের ইসারায় মানুষকে বুঝানোর চেষ্টা করেন বুঝাতে সক্ষম হয়না তিনি। যার কারণে ঘরে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে অনেক সময় না খেয়ে দিন কাটাতে হয় তার।

মোঃ ছালেম ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ছোট আলগী গ্রামের দরবেশ আলী ব্যাপারী বাড়ির মৃত সামছুল হকের ছেলে।

তার ছোট ছেলে রাছেল জানান, আমরা এক বোন ও দুই ভাই। আমার পিতা র্দীঘ দিন ধরে রিক্সা চালিয়ে আমাদের সংসার পরিচালনা করে আসছিলেন। গত ১০/১২ বছর আগে আমাদের বড় বোনকে বাবা অনেক কষ্ট করে ধারদেনা করে বিয়ে দেন। তারপর দিন রাত রিক্সা চালিয়ে ওই দেনা পরিশোধ করেন। এরপর গত ৪ বছর আগে আমার বড় ভাই মোঃ রুবেলকে গ্রামের লোকজনের কাছ থেকে মোটা সুদে টাকা ধার করে ওমান পাঠান। কিন্তু ওমান গিয়ে ভালো কাজ করতে না পারায় বিপাকে পড়ে বড় ভাই। যার কারণে প্রতিনিয়ত দেনাদারদের চাপ। নিরুপায় হয়ে বাবা আবারও দিন রাত রিক্সা চালানো ও দিন মজুরের কাজ শুরু করেন। বাবা ও ভাই মিলে গত চার বছরে ২ লাখ টাকা পরিশোধ করে। কিন্তু প্রায় ১ মাস আগে বাবার গলায় ক্যান্সার ধরা পরে। গলায় একটি প্লাস্টিকের পাইব দ্বারা কৃক্রিমভাবে শ্বাস নেন তিনি। কথা বলতে পারেন না তিনি। আমাদের কাউকে যদি ডাকেন তখন হাতের তালি বাজিয়ে ডাকেন। এখন আর তিনি রিক্সা চালাতে পারেন না। অপরদিকে গত ১ বছর ধরে করোনা ভাইরাসের কারণে কাজ করতে পারে না বড় ভাই। শুনেছি সেও ঠিকমত খেতে পারেন না। আর দেনা পরিশোধের টাকাও পাঠাতে পারেন না তিনি।

তিনি আরো জানান, গত ১ বছর পিতার চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ করলেও কোন উন্নত হয়নি বাবার চিকিৎসার। প্রতিদিন বাবার ৫ শ’ টাকার ঔষুধ লাগে। গত ১ মাস ধরে আমরা ঠিকমত খেতে পারিনা। বাবার ঔষুধ কেনার টাকাও নেই। পরে বাধ্য হয়ে বাবা বিভিন্ন গ্রামে ও বাজারে গিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে তা দিয়ে কোন রকম ১/২ বেলা খেয়ে বেঁচে থাকলেও ঔষুধ কেনার সম্ভব হয়না।

রাছেল আরও জানান, আমি নবম শ্রেনীর ছাত্র। টাকার অভাবে পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের এমন অবস্থায় সরকার ও সমাজের বৃত্তবানের কাছে সাহায্য কামনা করছি।

ভোলা সদর উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি আমরা আগে শুনেনি। ছালেমের পরিবারের লোকজন আমাদের কাছে এসে আবেদন করলে চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে কিছু টাকা বরাদ্দ নেওয়া হবে।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-barisaltribune@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]