ভোলায় ফেরিতে আগুন! ৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি


ভোলার মেঘনা নদীতে ইলিশা-লক্ষীপুর রুটের চলন্ত ফেরী কলমিলতায় আগুন লেগেছে। এ‌তে ফে‌রি‌তে থাকা ৩ টি বড় মালবাহী ট্রাক, ৪ টি মাল বাহী কাভার্ড ভ্যান, এক‌টি মালবাহী পিকআপ ভ্যান ও এক‌টি মোটরসাই‌কেল পু‌ড়ে গে‌ছে। ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট টানা ২ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুনে ফেরীর কোন ক্ষতি হয়নি। এতে অন্তত ৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ইলিশা ফেরিঘাটের নৌ-পুলিশ ইনচার্জ সুজন চন্দ্র পাল জানান, বৃহস্পতিবার রাত ২টায় কলমিলতা ফেরিটি লক্ষীপুরের মজুচৌধুরীর হাট থেকে ভোলার ইলিশা ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। রাত আনুমানিক ৪টার দিকে মেঘনার ভোলার চর এলাকায় আসলে ফেরিতে থাকা একটি পিকআপ ভ্যান থেকে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফেরি কিষানীতে করে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ সময় স্টাফসহ যাত্রীরা ফেরির ক্যান্টিন ও চালকের রুমে আশ্রয় নেয়। অন্যদিকে ১৫/২০ জনের একটি গ্রুপ ফেরীর অপরপ্রান্তে আগুনের কারণে আটকা পরে। এসময় তাদের চিৎকার শুনে মাছ ধারার দুটি ট্রলার এসে তাদেরকে উদ্ধার করে ভোলার ইলিশা ঘাটে নিয়ে আসে।

ফেরিতে থাকা যাত্রী ইব্রাহিম বলেন, রাত আনুমানিক ৪টার দিকে আমি ফেরির কেন্টিনে ছিলাম। তখন হঠাৎ করেই ফেরির সামনের অংশে আগুন দেখতে পাই। পরে ৯৯৯ ফোন করলে ভোলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ধারনা করা যাচ্ছে সিগারেটের আগুনে ফেরিতে থাকা ককসিটের গাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

আরেক যাত্রী নাছির বলেন, আমার গাড়িতে বেঙ্গল প্লাস্টিকের মালামাল ছিলো। আগুন লাগার সাথে সাথে আমার গাড়িটি পুড়ে যায়। আগুনে গাড়িতে থাকা সয়াবিন তেল, পিচ, ফ্রিজ, প্লাস্টিক সামগ্রী, ইলেকট্রিক সামগ্রীসহ অন্যান্য মালামাল পুড়ে যায়। এতে অন্তত ৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।

বাকী ৮টি ট্রাক মালামাল অক্ষত রয়েছে। ফেরিতে কোন যাত্রীবাহী বাস বা প্রাইভেট কার ছিলো না।
বিআইডব্লিউটিসির ভোলার ম্যানেজার পারভেজ জানান, ফেরিতে ১৬টি গাড়ি ছিলো। এর মধ্যে ৯টি আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। বর্তমানে ফেরিটি মেঘনা নদীর ভোলার চর নামক এলাকায় নোঙ্গর করা আছে।

ভোলা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান, ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে টানা ২ ঘন্টা অভিযান পরিচালনা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি।
প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা যাচ্ছে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ৮ কোটি টাকা হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

এদিকে ভোলা সদর মডেল থানার ওসি এনায়েত হোসেন ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে সিগারেট বা মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটতে পারে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। বিস্তারিত জানার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-barisaltribune@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]