মৃত সন্তান সিজারে বের করতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু বেলভিউ হাসপাতালে


নিজস্ব প্রতিবেদক।। বরিশালে সেবাজনিত অবহেলায় রোগিনীর শাহনাজ পারভীনের (৪০) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তিনি মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভাসানচরের তরিকুল ইসলাম মিন্টুর স্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে নগরীর বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরস্থ বেলভিউ হাসপাতালে মৃত বাচ্চার গর্ভপাতের সময় মারা যান ওই নারী।

তরিকুল ইসলাম মিন্টু অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্ত্রী শাহনাজ পারভীনের গাইনি সমস্যা ছিলো। এ কারণে তার গর্ভধারণে সমস্যা হচ্ছিলো। দীর্ঘদিন আগে তাকে ডাক্তার জি কে চক্রবর্তীর কাছে নিয়ে আসা হয়। এরপর তার পরামর্শ অনুসারে চিকিৎসা নিলে গর্ভবতী হন শাহনাজ। এরপর প্রতিনিয়ত ডাক্তার জি কে চক্রবর্তীর ফলোআপে ছিলেন আমার স্ত্রী। গত ৫ আগস্ট আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হলে বাচ্চা ও মা ভালো আছেন বলে জানান ডাক্তার। গত মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) ফের আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হলে সেই রিপোর্টে বাচ্চাকে মৃত বলে দেখানো হয়। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকদের সন্দেহ হলে আরো দুইবার আল্ট্রাসনোগ্রাম টেস্ট করান এবং মৃত বাচ্চার বিষয়টি নিশ্চিত হন তারা। ফলে আমার স্ত্রীকে গর্ভপাত করাতে বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।’

‘হাসপাতালে ভর্তির সময় স্ত্রী শাহনাজ পারভীন সুস্থ থাকলেও বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এসব বিষয় নিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের কাছে গেলে তারা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। রোগীর কাছে না গিয়ে চিকিৎসকরা নানাভাবে স্বজনদের ওপর চড়াও হন। এরপর সন্ধ্যায় গর্ভপাত করতে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলে কিছুক্ষণ পরেই চিকিৎসকরা জানান, শাহনাজের মৃত্যু হয়েছে।’

রোগিনীর স্বজনদের দাবি, যেখানে গর্ভপাত করা প্রয়োজন ছিলো, সেখানে ৪/৫ ঘন্টা আগে না নিয়ে অবস্থা বেগতিক হওয়ার পর অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। কালক্ষেপণ ও অবহেলায় এই রোগিনীর মৃত্যু হয়েছে। তারা এই ঘটনার বিচার দাবি করেন।

ডাক্তার জি কে চক্রবর্তী বলেন, ‘চিকিৎসকদের অবহেলার কোনো বিষয় নেই। কারণ, করোনার মধ্যেও আমিসহ সংশ্লিষ্ট সকল চিকিৎসক প্রতিনিয়ত রোগিনীর খোঁজ নিয়েছি। তার ডায়াবেটিসসহ নানা সমস্যা ছিলো। রোগিনী মারা গেছেন, এটা অবশ্যই দুঃখজনক বিষয়। আর ৫ আগস্টের টেস্ট রিপোর্টে বাচ্চা ঠিক ছিলো বলেই আমরা দেখেছি। তবে পানি কম থাকায় রোগিনীকে আমিই হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেছি।’

চিকিৎসক নাইম হোসেন সজীব ও কাজী রশিদুল্লাহ বাবুর বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের যে অভিযোগ এসেছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যদি এই ধরনের কোনো বিষয় থাকে তবে অবশ্যই তা খতিয়ে দেখা হবে। আর ভবিষ্যতে যেন তা না ঘটে সেটিও নিশ্চিত করা হবে।##


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-barisaltribune@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]