মেহেরপুরে বজ্রপাত ও প্রকৃতি রক্ষায় টগরের এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ


মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ প্রকৃতি রক্ষা, মাটির ক্ষয়রোধ, বজ্রপাত থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য একে কার্যকর পন্থা হিসেবে মনে করা হয়। শনিবার সকালে মেহেরপুর সদর উপজেলার গহরপুর গ্রামের রাস্তার দুপাশে সারি সারি তালগাছের আটি রোপন করছে গ্রামের কিছু যুবক। এটা কোনো সরকারি উদ্যোগের নয়। গহরপুর গ্রামের শওকত আলীর ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের পড়ুয়া শরিফুল ইসলাম টগরের নিজ উদ্যোগে গ্রামের কিছু যুবক নিয়ে গ্রামের মাঠের রাস্তায় অন্তত কয়েক কিলোমিটার ধরে এক হাজার তালের চারা গাছ রোপন করা হয়েছে।

শরিফুল ইসলাম টগর বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার অন্যতম কারণ হলো বন উজাড় ও কার্বন ডাই অক্সাইডের বৃদ্ধি। বাংলাদেশের যে পরিমাণ বন উজাড় হচ্ছে সেই পরিমাণ বৃক্ষরোপণ হচ্ছে না।আমরা সেই বিষয়টি লক্ষ্য রেখে বৃক্ষরোপণ অভিযান চালাচ্ছি। বৃক্ষরোপণ অভিযান হিসাবে আমরা তালগাছ কে বেছে নিয়েছি কারণ বাংলাদেশ বজ্রপাত যে পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বজ্রপাত বৃদ্ধির কারণ কে বাংলাদেশ সরকার ২০১৬ সালে একে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের দূরীকরণের অন্যতম মাধ্যম হলো তালগাছ। ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি তালগাছ যেখানে থাকে সেখানে বজ্রপাত হয় না। আমরা কিছুদিন আগেও দেখেছি আলমডাঙ্গায় একজন এবং কলাইডাঙ্গা এলাকায় একই সাথে তিনজন শ্রমিক বজ্রপাতে মারা গেছে। এ থেকেই বলা যায় বজ্রপাত আমাদের এলাকায় এক মহামারী আকার ধারণ করেছে। এ কারণেই বজ্রপাত দূরীকরণ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি জন্য আমরা রাস্তার দুই পাশে তালগাছ রোপন করছি। এই এলাকার মাঠের রাস্তার দুই পাশ দিয়ে প্রায় আড়াইহাজার তালগাছ রোপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা এক হাজার তালগাছ লাগাতে সক্ষম হয়েছি এবং আরো পনেরশো গাছ এক দুই দিনের মধ্যে লাগানো হবে ইনশাআল্লাহ।

আমার এই কাজে সহযোগী করেছে এজাজ আহমেদ, জুয়েল রানা, রাসেল রানা, শুভসহ ১০-১২ জন স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া ছেলেরা। এদিকে বজ্রপাত থেকে সুরক্ষা পেতে সারা দেশে ১০ লাখ তালগাছ রোপণের এক অভিনব কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। এই কর্মসূচি কতটা সফল হবে এবং বজ্রপাত থেকে তা মানুষকে কতটা সুরক্ষা দেবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে বজ্রপাতে মৃত্যুর একেবারে সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের হাতে নেই। জাতীয় দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১১ সালে ১৭৯ জন মারা যান, আর ২০১৫ সালে ২৭৪ জন। গত কয়েক বছরে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন ২২৩ জনের অধিক।


বরিশালট্রিবিউন.কম’র (www.barisaltribune.com) প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।