মোংলা মাছমারা খালের সেতু যেন মরণফাঁদ


বাগেরহাট প্রতিনিধি: মোংলা বন্দর পৌরসভার শেষ প্রান্তের মোংলা নদী-সংলগ্ন মাছমারা খালের কাঠের সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এর ওপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেও স্থানীয় জনসাধারণকে ঝুঁকি নিয়েই পার হতে হচ্ছে সেতুটি। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

সেতুটি সংস্কার না করায় মাছমারা খালের দু’পাশে পৌরসভা এবং উপজেলার চাঁদপাই ও সোনাইলতলা ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের ছাত্রছাত্রীসহ কয়েক হাজার মানুষকে নিত্যদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বছর দুই আগে এই সেতু থেকে পড়ে গিয়ে এক বৃদ্ধা নিহত হন। এ ছাড়া প্রায় সময়ই দুর্ঘটনায় লোকজন আহত হলেও সেতু সংস্কারে কোনো পদক্ষেপই নিচ্ছে না পৌর কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, মোংলা বন্দর পৌরসভার শেষ প্রান্ত (১ নং ওয়ার্ড) মাছমারা খালের ওপর কয়েক বছর আগে বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ডভিশন সেতুটি নির্মাণ করে। এরপর তারা একবার সংস্কারও করে দিয়েছিল। পরে ওই সংস্থা মোংলায় তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিলে সেতুটি আর সংস্কার করা হয়ে ওঠেনি।

সরেজমিন মাছমারা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কাঠের সেতুটির অধিকাংশ স্থানই ভাঙাচোরা। কাঠের পাটাতন নেই বললেই চলে। লোহার কাঠামোর সঙ্গে কোথাও মাঝখানে সরু একটি কাঠ, আবার কোথাও দু’পাশে দুটি সরু কাঠের ওপর দিয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে লোকজন সেতু পার হচ্ছে।

কথা হয় মাছমারা গ্রামের সেন্ট ফ্রান্সিস জেভিয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শেফালী বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, পৌরসভা ও পার্শ্ববর্তী চাঁদপাই ও সোনাইলতলা ইউনিয়নের জয়খাঁ, পাকখালী, মাকঢ়ঢোন, মাছমারা ও নারকেলতলা গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার বাসিন্দার মোংলা শহরে যাতায়াতের একমাত্র উপায় এ সেতু। তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু পার হয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজে আসা-যাওয়া করতে হয়। এই ভাঙাচোরা সেতুর কারণে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সেতুটি এমন পিচ্ছিল হয় যে, শিশুরা তখন আর তা পার হতে পারে না। পা ফসকে গেলেই খালে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা।

নারকেলতলা গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নির্মল রায় বলেন, পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে না বলে লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। জানতে চাইলে মোংলা বন্দর পৌরসভার মেয়র জুলফিকার আলী বলেন, ব্রিজের এই দুরবস্থার কথা আমার জানা ছিল না। এলাকাবাসীও আমাকে এ বিষয়ে মৌখিক বা লিখিতভাবে কিছুই জানায়নি। শিগগিরই পৌর কর্তৃপক্ষ সেতুটি সংস্কারের ব্যবস্থা নেবে।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন[email protected]এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]