শখ থেকে সুখি রনি : এক সাবলম্বী যুবকের গল্প (ভিডিও)


ঝালকাঠি, ০৩ এপ্রিল (বরিশালট্রিবিউন)- নগরায়নে ক্রীড়া চর্চার স্থান কমে গেছে। কমে গেছে মানুষে মানুষের সৌহার্দ্যতা। তাই বলে মন কি বসে থাকে নগরায়নের সর্বগ্রাসী পরিবেশের দিকে? একটু সৃষ্টিশীল হলে মনের খোড়টাকেই বড় করে নিতে পারেন সাধ্য মত। কথায় বলে শখের তোলা ৮০ টাকা। তদ্রুপ শখের নীরিক্ষা একদিন আপনার জীবনের পাথেয় হয়ে ধরা দিতে পারে জীবীকার নতুন ইতিহাসে।

মামুনুর রশিদ রনি তেমনই একজন যিনি নিজের চেষ্টায় শখকে রুপ দিয়েছেন জীবীকা নির্বাহের মাধ্যম হিসেবে। সবাই তাকে চেনে পাখাল রনি নামে। ঘরে থাকেন, ঘরেই তার দুনিয়া। স্কুল জীবন থেকে নিজের আয়ে চলছেন এই মানুষটি। সংসার স্বচ্ছল হলেও তিনি ইচ্ছা করেই মুখাপেক্ষি হননি সংসারের।

রনি মনে করেন, বর্তমানে অপসংস্কৃতির যুগে, নেশা ও বখে যাওয়ার যুগে তার চেষ্টা হতে পারে আর সব পরিবারের কাছে উদাহরণ।

আসলে কি করেন রনি? তাহলে শুরুর দিকের ঘটনা জেনে নেওয়া ভালো। মাধ‌্যমিকের গন্ডি তখনও পার হয়নি। শখ করে বাড়ির পাশের উচু গাছের মগডাল থেকে টিয়া পাখির ছানা এনে পুষতে শুরু করেন। টিয়া পাখির ছানাটি এক দিন উড়ে গেলো রনির খাঁচার দুনিয়া থেকে। দাগ কাটে রনির মনে, দুঃখ লাগে।

এরপর চিন্তা বদলায়। বাজার থেকে কিনে আনেন একজোড়া অস্ট্রেলিয়ার বুনো পাখি বাজরিগার। সেই শুরু। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রথমে রনির পরিবারের মানুষ আপত্তি দিত। কিন্তু এখন এটিকে ভালো ভাবেই মেনে নিয়েছেন তারা। পুরো বিল্ডিংয়ের এক ফ্লাটের রুম ছেড়ে দিয়েছেন। সেই সুযোগকে হাতছাড়া করেননি রনি। গড়ে তুলেছেন পাখির রাজ্য।

মাসখানের পূর্বে দেড় লাখ টাকার পাখি বিক্রি করেছেন। আর বর্তমানে তার খাঁচায় ১০০ জোড়া বিভিন্ন প্রজাতির বাজরিগার রয়েছে। আরও আছে লাভ বার্ড, ফিন্স আর ককাটেল।

ঝালকাঠি জেলা শহরের বাসস্ট্যান্ড থেকে পশ্চিমে মূল শহরের মধ্যে বাকলাই গলির বাসিন্দা রনি রাষ্ট্র বিজ্ঞান নিয়ে সরকারি ব্রজমোহন কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষ করেছেন।

তিনি জানান, বিভিন্ন প্রজাতির বাজরিগারের বাচ্চা তার খাচায় উৎপাদন করে থাকেন। পর্যাপ্ত যত্ন করতে পারলে বাজরিগার চাষে একজন মানুষ সাবলম্বী হতে পারে। চাকরীর জন্য ঘুষ নিয়ে কারও পিছনে ঘুরতে হয় না।

রনির দেওয়া তথ্য মতে, বাজরিগার বিক্রি করে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৩০/৪০ হাজার টাকা আয় করতে পারছেন। বর্তমানে রনি ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাজরিগার চাষের পরিধি আরও বড় করবেন।

আমাকে দিয়ে চাকরী হবে না। আমি যে পাখির প্রেমে মজে গেছি-বলছিলেন মামুনুর রশিদ রনি। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে পাখি পালনের অবিজ্ঞতা থেকে এই পাখাল বলেন, অনেকেই পাখি পালন শুরু করেই ভাবেন লাভ হচ্ছে না কেন? আবার অনেক দোকানী ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করেন অল্পতে অধিক মূনাফা লাভের আশায়। তারাই মূলত পাখি পালন ও সাবলম্বী হওয়ার জন্য মারাত্মক হুমকির। রনি মনে করনে, ধৈর্য ধারণ করতে হবে। যখন আপনি দেখবেন আপনার শখ ব্যবসায় রুপ নিচ্ছে তখন ক্রেতাদের না ঠকালেই সহজেই আপনার একটি বাজার সৃষ্টি হয়ে যাবে। তখন আর কারও মুখাপেক্ষি হতে হবে না।

বস্তুত ধৈর্য ও সততা ছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোগ থেকে সাবলম্বী হওয়া সম্ভব নয়-বললেন একজোড়া পাখি থেকে হাজারো পাখির উৎপাদনকারী মামুনুর রশিদ রনি।

রনি যে শুধু পাখি পালন করে সামলম্বী তা কিন্তু নয়; সারাদেশে সুনাম কুড়িয়েছে ইতিমধ্যে। অর্জন করেছেন বেশ কয়েকটি পুরষ্কারের খ্যাতিও। চলতি মাসেই হ্যামস্টার সেক্টরে দেশসেরা ব্রিডার এ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন রনি।

 

 

 

বিটি/এএমএস/ডেস্ক


বরিশালট্রিবিউন.কম’র (www.barisaltribune.com) প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।