সরকারের চমকে দক্ষিণাঞ্চলবাসী ‘থ’


অনেক জল্পনা কল্পনা শেষে দক্ষিণাঞ্চল পেল দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ‘চমক’র আভাস সত্যি হলো এই মন্ত্রণালয় প্রাপ্তির মাধ্যমে। বাণিজ্য, শিল্প, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীসহ একজন মন্ত্রী পদমর্যাদার দেওয়া হয়েছিল দশম জাতীয় সংসদের মন্ত্রী পরিষদে। যদিও দক্ষিণাঞ্চলবাসীর প্রত্যাশা ছিল ১০ জনকে নিয়ে। তারমধ্যে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, শ. ম রেজাউল করিম, মহিব্বুর রহমান মহিব, গোলাম কিবরিয়া টিপু, ডা: রুস্তম আলী ফরাজী ও ধীরেন্দ্র নাথ শম্ভু।

কিন্তু আলোচনায় ছিলেন না বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব) জাহিদ ফারুক শামীম। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহনের পর মন্ত্রীত্বের দাবী জোরদার হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলবাসী আশা করেছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বেশি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন বৃহত্তর বরিশালের নেতারা। কিন্তু প্রত্যাশীত দশটি মন্ত্রণালয় না পেয়ে চমক পেলো দখিনার মানুষ। সর্বশেষ সরকারের ঘোষণায় জানা গেল মাত্র দুটি মন্ত্রণালয় পেয়েছে দক্ষিণাঞ্চলবাসী।

এরমধ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান বরিশাল-৫ (সদর) আসনের এমপি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এবং আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, পিরোজপুর-১ আসন থেকে নবনির্বাচিত সাংসদ শ ম রেজাউল করিম পাচ্ছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এই ঘোষণা আসার পর বরিশাল জুরেও আলোচনার ঝড় বইছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী যে ৬টি মন্ত্রণালয় নিজ দায়িত্বে রেখেছেন তার কয়েকটি পরবর্তীতে প্রয়োজন সাপেক্ষে দখিনার হেভিওয়েটদের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আশা করছেন এখানকার নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, সোমবার বিকাল সাড়ে তিনটায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

বরিশাল থেকে যে দুজনকে ‘প্রথম পছন্দ’ হিসেবে বেছে নিয়েছে সরকার তারা উভয়ই এলাকায় স্বচ্ছ ও সজ্জন নেতা হিসেবে সমধিক পরিচিত। এক নজরে দুই নেতা:

জাহিদ ফারুক শামিম

ছিলেন একজন দায়িত্ববান সেনা কর্মকর্তা। কর্নেল হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের পর ২০০৪ সালে অবসর নিয়ে মানব সেবার ব্রত নিয়ে তিনি যুক্ত হন রাজনীতিতে। যোগদেন মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগে। ২০০৮ সালে তিনি বরিশাল-৫ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের পক্ষে মনোনয়ন পেয়ে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের সাথে তুমূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলে রীতিমত হৈচৈ ফেলে দেন। নবম জাতীয় সংসদের ওই নির্বাচনে মজিবর রহমান সরোয়ার বিজয়ী হন।

ওই নির্বাচনে মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৫ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। আর জাহিদ ফারুক পান ৯৯ হাজার ৩৯৩ ভোট। বরিশাল সদর আসনে ওটাই ছিল কোনো আওয়ামী লীগ প্রার্থীর এযাবৎকালের সর্বোচ্চ ভোট। ওই নির্বাচনে পরাজিত হলেও হাল ছেড়ে দেননি মুক্তিযোদ্ধা জাহিদ ফারুক শামিম। রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে তিনি বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। বিভিন্ন সময় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বরিশালের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে এখানকার মানুষের সাথে যুক্ত থাকার চেষ্ঠা করেন তিনি।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পুনরায় বরিশাল সদর আসনে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের প্রার্থী হয়ে তার পুরনো প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ নির্বাচনে তিনি সরোয়ারকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আর গতকাল ঘোষিত মন্ত্রী সভার তালিকায় তার নাম দেখা গেছে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর তালিকায়।

কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের ব্যক্তিগত সহকারী মোস্তাফিজুর রহমান রানা জানিয়েছেন ৪৬ সদস্যের মন্ত্রী পরিষদে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন তিনি। মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম রবিবার বিকেল ৩ টার দিকে কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুককে ফোন দিয়ে সোমবার বিকেল ৩ টায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহনের অনুরোধ জানিয়েছেন।

মন্ত্রী পরিষদ সচিবের ফোন পেয়ে কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক এবং বরিশালের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী-সমর্থকরা উচ্ছাসিত বলে জানিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান রানা। নগরীর নবগ্রাম রোড বেগম ভিলার বাসিন্দা জাহিদ ফারুক ব্যক্তিগত জীবনে এক সন্তানের জনক।

শ ম রেজাউল করিম

আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিমকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী করা হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হন সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী। প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রীত্ব পেলেন আওয়ামী লীগ নেতা। টেলিভিশন টক শোতে তিনি বেশ পরিচিত মুখ।

সমসাময়িক যে কোনো ঘটনায় টিভির পর্দায় নিয়মিত দেখা যায় তাকে। বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের দাবিতে তিনি সব সময় সোচ্চার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম আইনজীবীদের মধ্যেও বেশ জনপ্রিয়। সদ্য বিলুপ্ত বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

ছাত্র জীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগ করেছেন। ১৯৮০ সালে খুলনা দৌলতপুর সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি), ১৯৮১ সালে খুলনা কৃষি কলেজের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ছিলেন। ১৯৮৯ সালে নাজিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে ১৯৯০ সাল থেকে অদ্যবধি জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।

পেশাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেলহত্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার আইনজীবী ছিলেন তিনি। ১/১১ এর দুর্যোগকালীন সময়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনজীবী হিসেবে আইনি সহায়তা দিয়েছেন। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আবুল হাসনাত আব্দুল¬াহ ও শেখ সেলিমের মতো রাজনীতিবিদদের আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন।