সাকিব নৈপুণ্যে সমতায় বাংলাদেশ


তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৭ রানে হারিয়ে সমতায় ফিরলো টাইগাররা। সিলেটের ম্যাচে হারার পর ১-০ তে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ এখন ১-১ সমতায়। সিরিজ জিততে ২২ তারিখ সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ করে ২১১ রান। জবাবে সাকিবের পাঁচ উইকেটে ৪ বল বাকি থাকতেই ১৭৫ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ফলে তিনম্যাচের সিরিজের এক ম্যাচ জিতে সমতায় ফিরলো টাইগাররা।

২১২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের তৃতীয় ওভারে আবু হায়দার রনির বলে বিদায় নেন এভিন লুইস। লিটন দাসের তালুবন্দি হওয়ার আগে এই ওপেনার করেন মাত্র ১ রান। দলীয় ১৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় ক্যারিবীয়ানরা। দলীয় ৫৯ রানের মাথায় সাকিব ফিরিয়ে দেন নিকোলাস পুরানকে। বিদায়ের আগে তিনি ৬ বলে দুটি চার আর একটি ছক্কায় করেন ১৪ রান। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে এসেই বাংলাদেশের গলার কাঁটা শাই হোপকে বিদায় করেন মিরাজ। বিদায়ের আগে ১৯ বলে ৬টি বাউন্ডারিতে ৩৬ রান করেন শাই হোপ।

সাকিবের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই ফেরালেন ভয়ংকর হেটমেয়ারকে। সাইফউদ্দিনের ক্যাচ হয়ে ফেরার আগে ১৭ বল খরচার ১৯ রান করেছেন তিনি। একই ওভারে দলীয় স্কোরকার্ডে ৩ রান যোগ হতেই মোস্তাফিজের ক্যাচ বানিয়ে ফেরালেন ব্রাভোকে।

ইনিংসের ১৩তম ওভারে সাকিব স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে ফিরিয়ে দেন ক্যারিবীয়ান দলপতি কার্লোস ব্রাথওয়েইটকে (৭)। ১৫তম ওভারে আবারো বোলিংয়ে এসে সাকিব তুলে ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের উইকেট। বোল্ড হওয়ার আগে তিনি কোনো রানই করতে পারেননি। সাকিব টি-টোয়েন্টির ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেটের স্বাদ পান।

এরপর হাত খুলে মারতে থাকেন ক্যারিবিয় ব্যাটসম্যান পাওয়েল। কিন্তু দলীয় ১৫০ রানে মোস্তাফিজের বলে তামিমের ক্যাচ হয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করে ফিরলেন পাওয়েল। এরপর নিজের শেষ ওভারে মোস্তাফিজ ফেরালেন কেমো পওলকে। আরিফুলের ক্যাচ হয়ে ফেরার আগে তার ব্যক্তিগত সংগ্রহ ২৯ রান। শেষ ওভারে বোলিংয়ে আসলেন মাহমুদউল্লাহ। এসেই নিজের দ্বিতীয় বলে বোল্ড করলেন থমাসকে। বাংলাদেশ জিতলো ৩৬ রানে। ক্যারিবিয়রা থামলো ১৭৫ রানে।

এর আগে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটিতে নামেন তামিম ইকবাল এবং লিটন দাস। ৪.১ ওভারেই দুজনের জুটিতে আসে ৪২ রান। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে জীবন পেলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তামিম। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের স্পিনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। বিদায়ের আগে তামিম ১৬ বলে এক বাউন্ডারিতে করেন ১৫ রান।

তামিমের বিদায়ের পরেও শেরে বাংলায় থামেনি লিটন ঝড়। তার ব্যাটেই পাওয়ার প্লে’তে ১০.১৬ গড়ে রান তুলছে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লে’তে বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে ৬১।

লিটন-সৌম্যে সমানে সমানে রান তুলেছেন। ২৬ বলে ৫টি চার আর চারটি ছক্কায় ফিফটি পূর্ণ করেন লিটন। লিটনের সঙ্গে ৬৮ রানের জুটি গড়েন সৌম্য। ইনিংসের ১২তম ওভারে কটরেলের বলে ব্রাথওয়েইটের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেওয়ার আগে সৌম্য ২২ বলে তিনটি চার আর একটি ছক্কায় করেন ৩২ রান।

একই ওভারের শেষ বলে বোল্ড হওয়ার আগে লিটন ৩৪ বলে করেন ৬০ রান। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি বাউন্ডারি আর চারটি ওভার বাউন্ডারি। ১৩তম ওভারের শেষ বলে ওশানে থমাসকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি সীমানায় ক্যাচ দেন মুশফিকুর রহিম (১)। দলীয় ১২০ রানের মাথায় বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায়।

শেষদিকে সাকিব-মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং ঝড়ে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশ সংগ্রহ ২১১ রান। সাকিব আল হাসান ৪২ রানে ও মাহমুদউল্লাহ ৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।

টেস্ট ও ওয়ানডের সফল সমাপ্তির পর টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুতে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেটের প্রথম ম্যাচে ক্যারিবীয় ঝড়ে উড়ে গেছে সাকিববাহিনী। তবে তিন ম্যাচ সিরিজে দ্বিতীয়টি জয় ছিনিয়ে এনে সমতায় ফিরলো স্বাগতিকরা।


বরিশালট্রিবিউন.কম’র (www.barisaltribune.com) প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।