১৪ ঘণ্টা পর মহাসড়ক ছাড়ল ববি শিক্ষার্থীরা


বরিশাল : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেস থেকে মাঝরাতে নামিয়ে মারধরের ঘটনায় অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৫টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন।

তিনি বলেন, ‌‘শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিসমূহ মেনে নেওয়া হয়েছে। তাদের ওপরে যারা হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, শিক্ষার্থীদের আবাসন নিরাপাত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং রাতে শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডির কারও দ্বায়িত্বহীনতা থাকলে তা ‘রিফর্ম’ করা হবে।

ড. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, ‘আমিও চাইব শিক্ষার্থীদের ওপর যারা ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছেন তাদের শাস্তি হোকে। তবে তা মানুষের ভোগান্তি করে নয়। এ জন্য শিক্ষার্থীদের সাথে বসে তাদের কথা শুনেছি এবং তাদের আশ্বস্ত করেছি বিচার পাওয়ার ব্যাপারে। শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিয়েছে।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সুজয় শুভ বলেন, ‘আমরা ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছি। এরমধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। নয়তো আবারও আমরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

আরেক আন্দোলনকর্মী মাহমুদ হাসান তমাল বলেন, ‘আমাদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছি। তবে নির্ধারিত সময়ে আশ্বাস বাস্তবায়ন না হলে আবারও আমরা সড়কে নামব।’

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশিনার (কোতোয়ালি) মো. রাসেল জানিয়েছেন, ‘শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের আশ্বাস মেনে নিয়ে সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছে। বর্তমানে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত দেড়টার দিকে রূপাতলী হাজিংয়ের সি-ব্লকের হারুন ম্যানশন ভবনের মেসে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। সেখানে অবস্থানকারী ছাত্রদের মারধর করে মারাত্মক জখম করা হয়। হামলায় ১১ শিক্ষার্থী গুরুত্বর আহত হন। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অবরোধ প্রত্যাহারের পর স্বাভাবিক হতে থাকে যান চলাচল

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে ছুরি দিয়ে কোপ দেয় রূপাতলী বিআরটিসি কাউন্টারের রফিক নামের হেলপার। এ সময়ে আরও এক ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করে রফিক ও কাউন্টারম্যান বাদল। এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিআরটিসি কাউন্টার ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ করেন।

সড়ক অবরোধ তুলে দেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে আসেন রূপাতলী বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন, ২৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন মোল্লাসহ ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ ও শ্রমিক লীগের নেতারা।

এ সময়ে কাওছার হোসেন শিপনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় শিক্ষার্থীদের। আর সড়ক অবরোধের মধ্য থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন মোল্লাকে লাঞ্ছিত করেন শিক্ষার্থীরা। সেই ঘটনার রেশ ধরে কাওছার হোসেন শিপন ও ইমরান হোসেন মোল্লার লোকেরা রাতে মেসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।

তবে কাওছার হোসেন শিপন জানান, এই হামলা বা ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আহতরা হলেন— সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আলীম সালেহী, মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের নুরুল্লাহ সিদ্দিকী, গণিত বিভাগের ফজলুল হক রাজীব, রসায়ন বিভাগের এসএম সোহানুর রহমান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আহসানুজ্জামান, বোটানি ও ক্রপ সাইন্সের আলী হাসান, বাংলা বিভাগের রাজন হোসেন এবং মার্কেটিং বিভাগের মাহবুবুর রহমান, মাহাদী হাসান ইমন, মিরাজ হাওলাদার ও সজীব শেখ।

হামলার পরপরই রাত আড়াইটার দিকে সড়কে কাঠ পুড়িয়ে অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। যা শেষ হলো বিকেল পাঁচটায়। এর মধ্যে দুই দফা বৈঠকে বসেন শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রথম দফায় ৩ দফা দাবি মেনে নেওয়ার বিবেচনা করার কথা বললে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ না করে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন। শেষে দ্বিতীয় দফায় দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা।


[প্রিয় পাঠক, আপনিও (www.barisaltribune.com) বরিশালট্রিবিউনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার এলাকার যে কোন  সংবাদ, লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-barisaltribune@gmail.com-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]