৭ মার্চের আহ্বান ছড়িয়ে যাক প্রতিটি অন্তরে


৭ মার্চ। ১৯৭১ সাল। কি ঘটেছিল সেদিন ঢাকার রেসকোর্স মাঠে? যা আজো আমাদের হৃদয়ে নাড়া দেয়। নির্জীব মানুষের মন সজিব করে তোলে। শান্ত রক্ত প্রবাহ মুহূর্তে টগবগ করে ফুটতে থাকে? হৃদপিন্ডে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়? কোন জাদুশিল্পীর কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে সেদিন। কি এমন জাদুমন্ত্রে মুগ্ধ ছিল সেদিন রেসকোর্সসহ পুরা ঢাকা?

নিশ্চয়ই আাপনাদের মনে পড়ে গেছে। ১৯৭১-এর ৭ মার্চের ঘটনাপ্রবাহ। পুরো ঢাকা তখন উত্তাল। সেরকোর্স মাঠে যারা এসেছেন তাঁদের সবার হাতে বাঁশের লাঠি কিংবা লোহার রড। সবার মনের ভেতর আগুন ফুঁসতে থাকে। পারলে তখনই পকির বুকে লাত্থি মারে। লাঠিসোটা নিয়ে যেন সবাই করাচিতে যাবার প্রস্তুতি নিয়েই এসেছেন।

‘একটি ডাকে এতোগুলো প্রাণ দিয়েছে সাড়া’। কবির এই লেখা বাস্তব সত্য হয়ে ধরা দেয় সেদিন রেসকোর্সসহ ৫৬ জাহার বর্গমাইলের বাংলাদেশে। কোন সে ডাক? কে দিয়েছিল সেই ডাক? আর কে দিতে পারে এমন ডাক। তিনি আমাদের মুক্তিদাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

৭ মার্চের রেসকোর্সের মাঠের লাখো জনতার উপস্থিতি বলে দিয়েছিল আজ থেকে মুক্তি সংগ্রাম শুরু। সেদিন বঙ্গবন্ধু জনতার উপস্থিতি দেখে বুঝেছিলেন আজই স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হবে। তিনি তাঁর অলিখিত কালজয়ী বক্তব্য শুরু করেন। পুরো মাঠ নিশ্চুপ হয়ে যায় মুহূর্তে। বঙ্গবন্ধু সেদিন বাংরার মুক্তিসনদ ঘোষণা করলেন নানান রঙে রঙ মিশিয়ে বাংলার ক্যানভাসে।

তাঁর ওই আহ্বান মুক্তিযোদ্ধা ও গেরিদের অনুপ্রেরণা যোগায়। দেশের জন্য রক্ত দিতে আর কেউ পিছপা হয় না। পারবর্তী ৯ মাস বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ অনুরণিত হয় বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বে। আজ তাই জাতিসংঘ বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে।

আজ সময় এসেছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের কালজয়ী সেই আহ্বান ছড়িয়ে দিতে হবে আমাদের অনাগত সন্তানদের মাঝে।

সাইফুর রহমান মিরন, সম্পাদক, দৈনিক ভোরের আলো


বরিশালট্রিবিউন.কম’র (www.barisaltribune.com) প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।