সংবাদ শিরোনাম :
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে হামলার দায়ে নানকের ভিসা বাতিল?   ⏺️  কমিশনার-ডিসিদের রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট   ⏺️  রাঙ্গাবালীতে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪৫ জন আসামি, গ্রেফতার ২০   ⏺️  ভোটাররা যদি কেন্দ্রে যেতে না পারেন সেজন্য সরকার দায়ী থাকবে   ⏺️  নির্বাচন কমিশন ব্যথিত-বিব্রত: সিইসি   ⏺️  মোহাম্মদ জসিম-এর পাঁচটি কবিতা   ⏺️  নিখোঁজের তিন দিন পর মেহেন্দিগঞ্জের ওষুধ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার   ⏺️  নোয়াখালীতে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে খুন   ⏺️  চলচ্চিত্রকার খিজির হায়াৎ হত্যার পরিকল্পনাকারী দুই জঙ্গি রিমান্ডে   ⏺️  তুরস্কে পুলিশ বিভাগে গোলাগুলি, রাজ্য পুলিশপ্রধান নিহত

আজ শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী


ফিচার ডেস্ক  || বরিশালট্রিবিউন.কম ||   প্রকাশিত:  ডিসেম্বর ৫, ২০১৮


সোহরাওয়ার্দীর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বরেণ্য এ নেতা ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের বৈরুতে একটি হোটেল কক্ষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঢাকার হাইকোর্টের পাশে তিন নেতার মাজারে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সমাধি। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালির যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার ফল ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট এবং অবিস্মরণীয় বিজয়। গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, তাই সুধী সমাজে তিনি ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ বলে আখ্যায়িত হন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এদেশের শান্তিপ্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি মুসলিম লীগ সরকারের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেন। কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কও। তার প্রচেষ্টায় ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণীত হয়।

বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বিচারপতি স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দীর কনিষ্ঠ সন্তান। কলকাতার সেইন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে তিনি স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯১৩ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তিনি। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বিজ্ঞান বিষয়ে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া সেখানে তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং বিসিএল ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯১৮ সালে গ্রেস ইন হতে বার এট ল ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯২১ সালে কলকাতায় ফিরে এসে আইন পেশায় নিয়োজিত হন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী: জাতীয় এ নেতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁর জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনা ও জনগণের সার্বিক কল্যাণে উদ্বুদ্ধ করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে বলেন, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও মানুষের কল্যাণে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জীবন ও আদর্শ জাতিকে সবসময় প্রেরণা যুগিয়ে আসছে। তিনি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিকাশে সারাজীবন কাজ করেছেন। তার সুযোগ্য উত্তরসূরি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় আমাদের মহান স্বাধীনতা।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি: শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টায় হাইকোর্ট সংলগ্ন মরহুম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এক বিবৃতিতে মরহুম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেছেন, তাঁর নেতৃত্বের অসাধারণ বলিষ্ঠতা, দৃঢ়তা ও গুণাবলি জাতিকে সঠিক পথের দিক-নির্দেশনা দিয়েছে।

জেপির বিবৃতি: মহান এই নেতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম। গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে জেপি নেতৃদ্বয় বলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন। ক্ষমতার হাতছানি তাকে পথভ্রষ্ট করতে পারেনি। কখনো জনগণের অধিকারের প্রশ্নে আপস করেননি তিনি। জাতি তাই তাকে স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধা ও অকৃত্রিম ভালোবাসায় এবং তিনি আবহমানকাল ধরে জাতিকে তার আদর্শ ধারায় অনুপ্রাণিত করে যাবেন।

দিনটি উপলক্ষে জেপির পক্ষ থেকে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় দলের পক্ষ হতে মরহুমের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ ও মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হবে। দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম নেতাকর্মীদের সকাল পৌনে ৮টায় মাজার প্রাঙ্গণে সমবেত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।