২০শে জুন, ২০১৯ ইং, শুক্রবার

আমতলীতে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া এক শিশু ধর্ষিত

আপডেট: জুন ১৪, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চিলা গ্রামে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া এক শিশু (১২) কে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার ৪ সন্তানের জনক শামিম সরদার (৪০) এর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে। এ ঘটনায় আমতলী থানায় মামলা হয়েছে।

শিশুটির পরিবার সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার পশ্চিম চিলা আমিনিয়া সিনিয়ার ফাজিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ীতে একা অবস্থান করে। এ সময় তার মা তার ছোট দুই ভাই বোনকে নিয়ে নানার অসুখ দেখতে একই ইউনিয়নের রামজি গ্রামে নানা বাড়ী যায় এবং বাবা দিন মজুরের কাজ করতে আমতলী উপজেলা সদরে চলে আসে।

সকাল অনুমান ৭/৮ টার দিকে উপজেলার পশ্চিম চিলা গ্রামের মৃত্যু আঃ বারেক সরদারের পুত্র ৪ সন্তানের জনক মোঃ শামিম সরদার ভিকটিমের বাড়ীতে এসে জানতে চায় তার বাবা মা কোথায়। ভিকটিম জানান বাড়ীতে কেহ নাই সে একা আছে। এ সুযোগে শামিম ঘরের ভিতরে ঢুকে ভিকটিমের মুখে ওড়না পেঁচিয়ে পড়নের পায়জামা খুলে ফেলে ধর্ষণ করে চলে যায়।

ঘটনার দিন বিকেলে ভিকটিমের মা বাড়ীতে আসলে ভিকটিম কান্না করে তার মাকে শামিম সরদার তার সাথে যা করেছে তা খুলে বলে। রাতে ভিকটিমের মা শামিমের স্ত্রী নিলুফা বেগমকে মোবাইল ফোনে সব ঘটনা জানায়। নিলুফা মিমাংসার জন্য ভিকটিম পরিবারকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে। ঘটনার পর থেকে শামিম সরদার গা-ঢাকা দিয়েছে। শুক্রবার সকালে ভিকটিম পরিবার স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ লিটন মোল্লাকে জানালে লিটন মোল্লা ভিকটিমসহ আমতলী থানায় পাঠিয়ে দেয়।

এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে বিকেলে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে শামিম সরদারকে আসামী করে আমতলী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ০৯-১৪/৬/২০১৯ইং। ভিকটিমকে ডাক্তারী পরিক্ষার জন্য আগামীকাল কোর্টের মাধ্যমে হাসপাতালে পাঠানো হবে।

এ ঘটনায় ভিকটিম জানান, ঘটনার দিন সকালে আমার বাবা আমতলীতে কাজ করতে যায়। কিছুক্ষন পরে মা আমার অপর ২ ভাই বোনকে নিয়ে নানার অসুখ দেখতে নানা বাড়ীতে চলে যায়। এ সময় আমি বাড়ীতে একা ছিলাম। সে সুযোগে পাশ্ববর্তী সরদার বাড়ীর শামিম সরদার আমাদের ঘরে আসে। তখন আমি ভাত খাওয়ার জন্য নারিকেল কোড়াতে ছিলাম

। শামিম সরদার আমাকে জিজ্ঞেষ করে আমার মা-বাবা কই। উত্তরে আমি বলি তারা কেহ বাড়ীতে নেই। এটা বলার পরে হঠাৎ সে আমাকে ধরে আমার ওড়না দিয়ে আমার মুখ চেঁপে ধরে। এরপর কোলে তুলে বিছানায় নিয়ে পায়জামা খুলে বাজে কাজ করে চলে যায়। বিকেলে মা নানা বাড়ী থেকে ফিরে আসলে আমি তাকে সব খুলে বলি।

ভিকটিমের মা জানান, আমার মেয়েকে একা বাড়ীতে পেয়ে ৪ সন্তানের জনক লম্পট শামিম সরদার মুখে ওড়না পেঁচিয়ে ধর্ষণ করেছে। আমি বিষয়টি রাতে মোবাইল ফোনে শামিম সরদারের স্ত্রী নিলুফাকে জানাই। নিলুফা মিমাংসার কথা বলে ঘুরাতে থাকে। সকালে ইউপি সদস্য লিটন মোল্লাকে জানালে সে আমাদের থানায় পাঠিয়ে দেয়।

আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। ইউপি সদস্য লিটন মোল্লা বলেন, ধর্ষণের ঘটনা শুনে আমি ভিকটিমসহ বাবা-মাকে আমতলী থানায় পাঠিয়ে দিয়েছি।  আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রী বলেন, ধর্ষণের কথা শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ব্যাপারে আমতলী থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
জুন ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« মে    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
Website Design and Developed By Engineer BD Network