২৪শে মার্চ, ২০১৯ ইং, সোমবার

এক হোপেই আশাভঙ্গ টাইগারদের

আপডেট: ডিসেম্বর ১১, ২০১৮

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

আবারো ফিল্ডিং মিসের মাশুল দিতে হলো বাংলাদেশকে। এক ক্যাচই যেন ম্যাচ থেকে পুরো ছিটকে দিল স্বাগতিকদের। সাথে এক ম্যাচ বাকি থাকতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করার সুযোগ থাকলেও, তাও হারাল মাশরাফী বাহিনী।

শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ মিস আর উইন্ডিজ ব্যাটসম্যান শাই হোপের অপরাজিত ১৪৬ রানের সুবাদে ৪ উইকেটের জয় নিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল ক্যারিবীয়রা। রুবেলের করা ৪৮তম ওভারের শেষ বলে উইন্ডিজ ব্যাটসম্যান পল ডিপ স্কোয়ার লেগে উড়িয়ে মারে। তবে বল থেকে দৌড়ে একটু এগিয়ে যাওয়ায় ক্যাচ মিস করে বসেন বদলি ফিল্ডার হিসেবে মাঠে নামা নাজমুল ইসলাম অপু। আর সেই ক্যাচ মিসেই ম্যাচ থেকে পুরো ছিটকে দেয় স্বাগতিকদের।

এর আগে, বাংলাদেশের দেয়া ২৫৬ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যদিও শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে আঘাত হেনে সফরকারীদের চাপে ফেলে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কাইরন পাওয়েলের বদলে একাদশে সুযোগ পাওয়া চন্দ্ররপল হেমরাজকে লেগ বিফরের ফাঁদে ফেলেন তিনি।

দলীয় মাত্র ৫ রানে হেমরাজকে হারানোর পর দলের হাল ধরেন শাই হোপ ও ড্যারেন ব্রাভো। দুজনে মিলে গড়ে তোলেন ৬৫ রানের জুটি। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শুরুর বিপদ কাটিয়ে উল্টো বাংলাদেশের বোলারদের চাপে ফেলে দেন তারা।

ধীরে ধীরে আরো বিপজ্জনক হতে থাকা এ জুটি ভাঙেন রুবেল হোসেন। তার স্লোয়ারে বোকা বনে বোল্ড হন ড্যারেন ব্রাভো। সাজঘরে ফেরার আগে ব্রাভো করেন ২৭ রান। ব্রাভো ফিরে গেলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে বাংলাদেশের বোলারদের শাসন করতে থাকেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান শাই হোপ।

ব্রাভো ফিরে যাওয়ায় উইকেটে আসা মারলন স্যামুয়েলসকে নিয়ে আবারো বাংলাদেশের বোলারদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে শাই হোপ। তবে মুস্তাফিজের কাটারে পরাজিত হয়ে স্যামুয়েলসো ধরেন সাজঘরের পথ। ইনিংস বড় করতে পারেননি হার্ড-হিটার ব্যাটসম্যান শিমরন হেটমায়ারও। বাংলাদেশকে এবার ব্রেক-থ্রু এনে দেন ব্রাভোকে ফেরানো রুবেল।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আরো চাপে ফেলে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। তার ফুল লেন্থে ফেলা বল খেলতে গিয়ে মিড-অনে থাকা সৌম্যর হাতে ধরা পড়েন ক্যারিবীয় অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল।

তবে এদিন শাই হোপ যেন বাংলাদেশকে হারানোর মন্ত্র-জপেই মাঠে নেমেছিলেন। বাকি ব্যাটসম্যানদের আশা-যাওয়ার মিশেলে অবিচল হোপ খেললেন বাংলাদেশি দর্শকদের আশাহত করার মতো এক ইনিংস। ৮ম উইকেট জুটিতে কেমো পলকে সাথে নিয়ে তার গড়া ৭১ রানের জুটি ক্যারিবীয়দের সিরিজে ফেরানোর জন্য যথেষ্টই ছিল।

এদিকে মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সিরিজে সমতায় ফেরার লক্ষ্যে টসে জিতে শুরুতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় উইন্ডিজ অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল। সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম এবং তামিম ইকবালের অর্ধশতর উপর ভর করে পুরো ৫০ ওভার খেলে ৭ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ২৫৫ রান তোলে স্বাগতিকরা।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই লিটন দাসের ইনজুরি অস্বস্তি বয়ে আনে বাংলাদেশ শিবিরে। ওশান টমাসের বলে দ্বিতীয় ওভারে পায়ের গোড়ালিতে চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন তিনি।

লিটন আহত হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে গেলে উইকেটে আসেন ইমরুল কায়েস। তবে প্রথম ওয়ানডের মতো আজও ব্যর্থ ইমরুল। রানের খাতা না খুলেই বিদায় নেন ওই টমাসের বলেই। ৬ বল খেলে টমাসের বলে উইকেটের পেছনে থাকা শাই হোপের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে বাংলাদেশকে চাপেই ফেলে দেন তিনি।

তবে অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শুরুর দিকের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে থাকে বাংলাদেশ। দুজনেই খেলতে থাকেন হাতখুলে। তাদের ১১১ রানের জুটি বাংলাদেশকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে আসে। মাঠের চারদিকে রানের পসরা সাজিয়ে তামিম-মুশফিক দুজনেই তুলে নেন ফিফটি।

ক্যারিয়ারের ৪৩তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে ব্যক্তিগত ৫০ রানে দেবেন্দ্র বিশুর বলে আউট হন তামিম। বিশুর বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ডিপ মিড-উইকেটে কেমার রোচের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। অন্যদিকে তামিমের বিদায়ের পর মুশফিকও বিদায় নেন দ্রুত। তিনি করেন ৬২ রান করে। ওশান টমাসের গতির কাছে পরাজিত হয়ে উইকেটের পেছনে শাই হোপের গ্লাভসবন্দি হন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

টমাসের বলে আউট হয়ে উইকেট ছাড়ার আগে আজকের অর্ধশত নিয়ে টানা দুই ওয়ানডেতেই অর্ধশতকের দেখা পেলেন মুশফিকুর রহিম। মিরপুরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ২০তম ওভারের শেষ বলে পাওয়ালের বলকে মিড উইকেটের দিকে ঠেলে দিয়ে ক্যারিয়ারের ৩২তম অর্ধশত উদযাপন করেন মুশফিক। অন্যদিকে ২২তম ওভারের তৃতীয় বলে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করেন সদ্যই ইনজুরি থেকে দলে ফেরা তামিম।

দ্রুত সময়ে তামিম ও মুশফিকের উইকেট হারিয়ে আবারো ব্যাকফুটে চলে যায় টাইগাররা। তবে মাহমুদউল্লাহ ও সাকিবের ব্যাটে বড় সংগ্রহের পথেই আগাতে থাকে মাশরাফী বাহিনী। মাহমুদউল্লাহ ব্যক্তিগত ৩০ রানে ফিরে গেলেও সাকিব খেলেন ঝড়ো ইনিংস। তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৪০তম হাফ-সেঞ্চুরি।

যদিও ফিফটি করার আগেই ফিরে যেতে পারতেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। তবে এ কারণে তিনি ধন্যবাদ জানাতেই পারেন ওশান টমাসকে। কেননা টমাসের বলে ক্যাচ তুলে দিলেও নো বলে কল্যাণে বেঁচে যান তিনি। সেই নো বলে পাওয়া ফ্রি হিট থেকে ছয় মেরে নিজের অর্ধশত পূরণ করেন সাকিব।

শেষদিকে ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় লক্ষ্যে আর ছোঁয়া হয়নি স্বাগতিকদের। ২৭০ অথবা ২৮০ একসময় যখন খুব কাঙ্ক্ষিত স্কোর ভাবা হচ্ছিল সেখানে মাত্র ২৫৫তেই আটকে যায় তারা। সৌম্য সরকার, লিটন দাসরা তো ব্যর্থ ছিলই সাথে স্লগ ওভারে মাশরাফী কিংবা মিরাজও খেলতে পারেননি বড় কোন শট। ক্যারিবীয়দের হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট পেয়েছে ওশান টমাস।

আজকের হারে তিন ম্যাচের সিরিজ এখন ১-১ এ সমতা বিরাজ করছে। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৪ ডিসেম্বর শুক্রবার সিলেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
মার্চ ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১