সংবাদ শিরোনাম :

এম জাকির হোসাইন-এর গুচ্ছ কবিতা


এম জাকির হোসাইন  || বরিশালট্রিবিউন.কম ||   প্রকাশিত:  আগস্ট ২৪, ২০১৮


মৃত্যু

♦♦♦♦♦♦♦

প্রতিদিনই মৃত্যু দেখি, অসংখ্য মৃত্যু
কথায় মৃত্যু, আচরণে মৃত্যু,
বিশ্বাসে মৃত্যু
এতো মৃত্যুর মাঝে মনে হয়
আমার নিঃশ্বাসও বুঝি মরে যাচ্ছে
ইদানিং ঘুমের ঘোরে
মৃত্যু ছোটে মৃত্যুর পিছে
ঘুম ভাঙ্গলে জীবন্ত শ্বাস হাতড়ে বেড়াই
কেননা গত রাতের ভাবনায় দেখি এক
পুণ্য পুরুষের মৃত্যু হয়েছে ক্ষয়রোগে।

ভেবেই আঁতকে উঠি
এ জন্মের দেবতারা কথা দিয়ে
কেমন করে কথা ভাঙ্গে,
তারাও নাকি ডিজিটাল দেবতা!
শফেদ-কালো শ্মশ্রুশোভিত অবয়ব
লেবাস পরা পুণ্যের তকমাগ্রীবা
দেখে যেন ভক্তি জাগে মনে,
অথচ মনের অন্দরখানায় আবাদ হয়
মায়াবী হেমলক বিষ!
এসব দেখে যেন আবারও মৃত্যু
আসে বজ্রপাতের মতো।

আজকাল ফতুয়াঠোঁটে কেমন শাঁ করে
বেরিয়ে পড়ে মিথ্যের কথাফড়িং
এমন দৃশ্য দেখে ছটফট করে মরে
আমার পুণ্যবিশ্বাসের কাকাতুয়া।

বিপ্রতীপ সময়

♦♦♦♦♦♦♦

বিশ্বাস করে দিলাম তোমায়
ভুবন মাতানো কথা,
ভ্রমের সুতায় বেঁধে দিয়ে তাও
রাখলে শিয়রে মাথা।

দীঘল রজনী পার হয়ে গেলো
রইলো না কথা মনে,
দ্বাদশী শরীর ছাপিয়ে চললো
মায়া হরিণীর সনে।

ফাগুনের রঙে রাঙিয়ে কেমন
উড়– উড়– নাচ খেলা,
ফরিংমায়ার প্রণয় ঢেউয়ে
লাগলো নবীন দোলা।

কখন তোমার ঘুম ভাঙ্গলোগো
কোনবা বটের ছায়,
পিছনে খানিক তাকিয়ে রইলে
ভেতরে ফেরার দায়।

যখন তোমার নদীতে আসলো
অবাধ জলের ধারা,
তখন আমার নদের তরণী
ভাটার গাঙ্গে জরা।

ঐকমত্য

♦♦♦♦♦♦♦

যে পথ দিয়ে হাঁটলো সকল সাবেক পুরুষগণ
সে পথেই কি পাওয়া যাবে খ্যাতি-রত্ন-ধন?

দাদায় যদি চালায় ডিঙ্গা চালাও তুমি জাহাজ
তবেই মানবো সমকালের সকল রকম বাহাছ।।

বাবায় ছিলো কেরাণী সেই দেশ বিভাগের আগে
স্বাধীন ভিটা পেয়েও তবু কাইজ্যা লাগাও ভাগে।।

তুই নে অর্ধেক, মুই নিই অর্ধেক এটা হলে মন্দ কী?
সমান সমান কাজ করে যাই তাড়িয়ে খল নর্তকী।।

আমার ভিটায় বেড়াতে আও বিছিয়ে দেই চাটাই
হিংসা দেমাগ কবর দিয়ে শান্তির বাগান সাজাই।।

বাঘ আর সিংহ ঝগড়া হলে তাকিয়ে রয় শকুন
মড়ক খাওয়ার আশায় তখন মারে ধৈর্যের উকুন।।