২৬শে মার্চ, ২০১৯ ইং, মঙ্গলবার

ডাকসু নির্বাচনে ভোটের হিসাবে পিছিয়ে বামজোট, ছাত্রদল

আপডেট: মার্চ ১৪, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

ঢাকা : আলোচনায় বা ক্যাম্পাসে সরব উপস্থিতি থাকলেও ভোটের হিসাবে অনেক পিছিয়ে বামজোট, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠন। কেন্দ্রীয় বা হল সংসদের দু’একটি ছাড়া কোনও পদেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর জোট ও ছাত্রদলসহ ক্যাম্পাসে সক্রিয় বলে বিবেচিত ছাত্রসংগঠনগুলো। এমনকি ভোটের হিসাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের থেকেও পিছিয়ে তারা।

ভোট শেষ হওয়ার এক ঘন্টা আগে ডাকসু নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় ছাত্রদল, বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর জোটসহ ৫টি প্যানেলের প্রার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে কোটা আন্দোলন এবং স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থীরা উপস্থিত থাকলেও মুখপাত্রের ভূমিকা নেন বামজোটের লিটন নন্দী।

গণনা শেষে দেখা যায় ডাকসুর ভিপি প্রার্থী নন্দী ১,২১৬ ভোট নিয়ে ২১ প্রার্থীর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে। বিজয়ী প্রার্থীর প্রায় দশভাগের এক ভাগ ভোট পেয়েছেন তিনি। এ পদে তার চেয়ে দ্বিগুনের বেশী ভোট পেয়েছেন স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী অরণী সেমন্তি খান। ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী ২৪৫ ভোট পেলেও জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্র মৈত্রীসহ কোনও প্রার্থীরই ভোট একশোর বেশী নয়।

ছাত্র ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, ‘নির্বাচন কেমন হয়েছে বা নির্বাচনে কি হয়েছে, আর সেখানে আমি দশ হাজার ভোট পেয়েছি নাকি শূন্য ভোট পেয়েছি, সেটা আমার কাছে বিবেচ্য না। কারণ এই নির্বাচনের ফলাফলটিকেই আমি গ্রহণ করছি না।’

জিএস পদের ভোট বিশ্লেষণ করেও দেখা গেছে একই চিত্র। বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া ছাত্রলীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে এ পদে বাম জোটের প্রার্থী ২৪৭ ভোট পেয়ে ৬ষ্ঠ আর ছাত্রদল ৪৬২ ভোট পেয়ে রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে। জাসদ ছাত্রলীগ ও ছাত্রমৈত্রীসহ ক্যাম্পাসে সক্রিয় বলে বিবেচিত ছাত্রসংগঠগুলোর প্রার্থীদের সবারই ভোট একশোর নিচে।

ছাত্রদল ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমাজ এখন সচেতন এবং তারা উপলব্ধি করছে যে, এই নির্বাচন একটি বানোয়াট নির্বাচন। ছাত্রদলকে মূল ধারার রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্যই এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।’

এজিএস ছাড়া ৯টি সম্পাদকীয় পদের একটিতে জয় পেয়েছেন কোটা আন্দোলনকারীরা। বাকী আটটির চারটিতেই ছাত্রলীগ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। একটিতে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ছাত্রদলের প্রার্থী। আর তিনটিতে স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী। ভোটের হিসাবে শেষের দিকেই অবস্থান আলোচিত সংগঠনগুলোর প্রার্থীদের।

স্বতন্ত্র জোট ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তী খান বলেন, ‘পঁচিশটা পদের মধ্যে দুটো কৌশলগতভাবে ছাড় দিয়ে বাকিগুলোকে একটি বিশেষ প্যানেলকে দিয়ে দেয়া আসলে খুবই অবান্তর। নম্বর আসলে গুরুত্বপূর্ণ না, আমি হারলাম বা জিতলাম।’

১৩টি সদস্য পদের সবকটিতেই বিজয়ী ছাত্রলীগ। আর ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য কোনও প্যানেল এই পদে ১৩জন করে প্রার্থীই দিতে পারেনি। এছাড়া, ১৮টি হলের কোনটিতেই ছাত্রলীগ ছাড়া পূর্ণ প্যানেল দিতে পারেনি অন্যরা।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ২৮ বছর ১০ মাস পর গেল ১১ই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ- ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচন নিয়ে দিনভর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলতেই থাকে। দুপুরের পর বেশ কিছু ছাত্র সংগঠন, প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। পর রাতে ফল ঘোষণা হলে ১৮টি হল সংসদের ১২টিতে ভিপি ও ১৪টিতে জিএস পদে ছাত্রলীগ এবং ছয়টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভিপি পদে ও চারটিতে জিএস পদে জয়লাভ করেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
মার্চ ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১