২৬শে মার্চ, ২০১৯ ইং, মঙ্গলবার

তানহিম আহমেদ-এর গুচ্ছ কবিতা

আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

হেমন্ত

হেমন্ত এক দিকভ্রান্ত যাযাবর।স্বচ্ছ কুয়াশার
ফাঁকে সে হাঁটে সিন্ধু গ্রিক কিংবা ধ্বংস প্রাপ্ত
মিশরীয় সভ্যতার বুকে। হেমন্ত আমার বাল্য
বন্ধুর নাম।তার বুকে আজ শুয়ে দুটি বুলেট।
রুক্ষ পাতা ঝরে পরে— তাদের সাথেই মিশে
যায় কিছু বছর মাস তথাপি অতীত।

অশ্বত্থ গাছে বাসা বাঁধে অচিন অতিথি পাখি।
তারা প্রত্যেকেই বিভিন্ন সভ্যতা হতে আগত।
সবার বুকে ভিন্ন তরঙ্গ বাজে—খেলে বেড়ায়
ভিন্ন বুনো শিষ।কেউ বুকের মধ্যে পুষে তীব্র
তুষারপাত—কিউবা অথবা সাইবেরিয়া।

হৈমন্তিকা ধ্বংসের নাম।এখান থেকে ফের
রাজতন্ত্রের উৎস।নগ্ন পায়ে রাজপথে হাঁটে
রাজবন্দী—দুটি বিশ্বযুদ্ধ কিছু জীবন্ত লাশ,
তাদের হাতে ঘটবে এ উন্নত নগরীর পতন।
নষ্ট এই সভ্যতা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

শেফালী জানে কি?

রজনীগন্ধার উষ্ণতায় সারা বুক ডুবিয়ে মগ্ন জীবন
ঘাসের ফাঁকে জন্মেছে ফানুস ধ্বংসপ্রাপ্ত এক নগর
ইউক্যালিপটাসের মগডালে বাসা বেঁধেছে কিছু পাখি
সদ্য ঝরা শেফালীর গায়ে লেগে থাকে মিষ্টি সুবাস
মনে উঁকি দেয় নষ্ট স্মৃতি—ফেলে আসা বাইশ বসন্ত।

আজন্ম বিভক্ত নদীর ন্যায় বেঁকে গিয়েছে দুটি পথ
অথচ আমরা দুজনে ছুটে চলেছি একই সাগরের টানে
গন্তব্যহীন কোন এক দীর্ঘ ক্লান্তিকর অজানার পানে
সন্ধ্যের লালীমার মধ্যে বন্দী শেফালীর নিশ্চুপ কান্না।

পুরোনো চিঠি বুক পকেটে জড়িয়ে রাজপথে ঘুরি
শাটার বন্ধ সব ডাকঘরের দুয়ারে ঝুলছে প্রৌঢ় তালা
চিঠির ভেতর বন্দী কৈশরের প্রেম বাইশ মৃত বসন্ত
নষ্ট কবিতারও পুনর্জন্ম হয়—শেফালী তা জানে কি?।

ডিসেম্বর

সময় সেই বিদীর্ণ জনপদের নষ্ট এক ফসিল
শহীদের বুক ফুঁড়ে ক্ষয়ে যাওয়া এক বুলেট
কোন রাজবন্দীর ধুলো জমা পুরোনো ডায়েরী
রিক্ত দুই হাতে গন্তব্যহীন ভাবে ছুটে চলেছি।
আচমকাই ঘটলো একটি প্রকাণ্ড পাহাড়ের মৃত্যু
আমরা গভীর শোকাহত-অথচ অনুভূতিহীন
কেমন যেনো অসংকোচের শেকল পরে হাতে।
একাত্তর রাত্রির নক্ষত্রচক্রের ভেতর ঘুরপাক খায়
গ্রেনেড-শুধু মৃত্যুর চিরস্থায়ী স্বীকৃতি দিতে পারে
অথচ আমরা ভেতর ভেতর বহু কাল ধরেই মৃত
ডিসেম্বর আমাদের’ অসাংবিধানিকভাবে সেই স্বীকৃতি দেয়।

হোমো স্যাপিয়েন্স

এই ক্ষয়প্রাপ্ত জনপদে— উড়ে মৃত্যুঞ্জয়ী পাখি
হাঁটে বৃদ্ধ সময়ের সমবয়সী কোনো আগন্তুক
কোষে ওপরে কোষে এথা নির্মিত বৃহৎ প্রাসাদ
যেনো নিস্প্রভ শীতল হাতে ক্ষণস্থায়ী উষ্ণ স্পর্শ।
এই বোবা শহর কিছু মুহুর্তের সুনিপুণ শিল্পশৈলী
জলন্ত রাজতন্ত্র অধ্যুষিত সমগ্র গঙ্গা নদী চরের
বাতাসে ওড়ে স্বর্গযাত্রীর শেষকৃত্যের ভগ্ন ধোঁয়া
মাথার ওপর আকাশ স্পর্শী কিছু ইউক্যালিপটাস
এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় সেই—হোমো স্যাপিয়েন্স।

তানহিম আহমেদ, একাদশ শ্রেণী, হাজী মিসির আলী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ, কুতুবপুর ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জ

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
মার্চ ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১