২৬শে মার্চ, ২০১৯ ইং, মঙ্গলবার

দুর্গাসাগর ভরা দীঘির জলে, অতিথি পাখিদের স্থিমিত কোলাহল….

আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০১৯

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন

হেমন্তের হিমেল হাওয়ার প্রভাব শুরু হলেই বরিশালেও বাড়তে শুরু করে শীতের তীব্রতা। সেই ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে ভোরে কিংবা খুব সকালে ওঠা মানুষের সংখ্যা আজকাল অনেকটাই কমে গেছে। তবুও বরিশাল শহর থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে মাধবপাশায় রয়েছে একটি মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের-বৃহত্তম দীঘি ‘দুর্গাসাগর’। ২-হাজার ৫’শ হেক্টর জমিনের এই দীঘিকে একটি বিশাল সাগর হিসেবে কল্পনা করা হলে, এর মাঝখানের টিলাটি যেন এই সাগরেই ভাসমান একটি দ্বীপ। এই জলাশয়ের বুকে একটু বেশি বাতাসের বেগ পড়লেই ঢেউয়ের তোড়ে কেঁপে কেঁপে ওঠে দুর্গাসাগরে জল। ঢেউয়ের জাপটা এসে পাড়ে পাড়ে আছড়ে পরে। এই দীঘির চারপাশ ঘিরে আছে ফুল-ফল নানা জাতের বৃক্ষ এবং ছায়া সুনিবিড় বন। মৎস্য শিকারীদের বিশাল আকৃতির মাছ শিকারের জন্য আছে-কাঠের খাটিয়া পাতা অনেক মাচা।

চার পর্বের ২য় কিস্তি ২৩ জানুয়ারি

৩য় কিস্তি ২৪ জানুয়ারি

শেষ কিস্তি ২৫ জানুয়ারি প্রকাশ হবে

কথিত আছে, সাগর বেষ্টিত প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপ বারবার বর্মি আর পর্তুগিজ হার্মাদ জলদস্যুদের অবাধ লুন্ঠনে আতিষ্ঠ ছিল এই দক্ষিণের দ্বীপাঞ্চল। ঠিক সেই সময় এই শ্রীনগর তথা মাধবপাশায় চন্দ্রদ্বীপের রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সে সময়ের চন্দ্রদ্বীপ রাজবংশের পঞ্চদশ রাজা শিবনারায়ন। যদিও তখনকার সেই রাজবাড়ির কিছুই আজ অবশিষ্ট নেই। এখানে এখন সেই রাজধানী মুল্লুকের বেশ কিছু নিদর্শন থাকলেও, সম্প্রতি এর তেমন কোনও স্মৃতি চিহ্নই নেই। অধিকাংশই আজ দখলে, আবহেলায় হারিয়ে গেছে। কিন্তু, যা-বা যতোটুকু আবশিষ্ট আছে, তা এখন শুধু কালের কঙ্কাল। রাজবংশের উত্তরসূরীরা বর্তমানে কেই কেই ভারতে বসবাস করছেন। শিব নারায়ণের স্ত্রী রানী দুর্গাবতী ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে বিশাল এই দীঘিটি খনন করেছিলেন। তিনি ছিলেন বদ্যিান-বুদ্ধিমতী এবং প্রজা হিতৈষীবৎসল। মূলত প্রজাদের খাবার পানির কষ্ট লাঘবের জন্যেই তিনি এই দীঘি খনন করিয়েছিলেন। পরে তার নামেই এই দীঘিটি ‘দূর্গাসাগর’ নামে পরিচিতি লাভ করে। আজও জনশ্র“তি আছে, রানী একধারে যতোটুকু হাঁটতে পেরেছিলেন, দীঘিটির দৈর্ঘ-প্রস্থ ততোটুকুই খনন করা হয়েছে। আকাতরে রানী সেদিন ৬১-কানি ভূমি হাঁটতে পেরেছিলেন। তাই দুর্গাদেবীর নামের সঙ্গে সাগর শব্দটি জুড়ে দিয়ে কেবল দীঘিটির বিশালত্বকে বাড়িয়ে তুলতেই এই দীঘির নাম দুর্গাসাগর করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগে এতো বিশাল জলাশয় আর দ্বিতীয়টি নেই। বরঅ যায, এটিই এখন এই শহরের পর্যটকদের কাছে অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান। আর এই দীঘিটি পরিযায়ি পাখিদের জন্যেও অন্যতম এক অভয় স্থল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে বহুকাল।

তাই, শীতের কাঁটা দেয়া আরম্ভের আগেই বারিশাল শহরের মাধপপাশা এলাকার দুর্গাসাগর দীঘিতে পাখির কিঁচিরমিঁচির শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে এই জলাশয়ের চারপাশ। উড়াউড়ি, ছুটোছুটি, খুঁনসুটি আর মনের সুখে সাঁতার খেলায় ব্যস্ত ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। বরিশাল শহরের নতুন অতিথি হয়ে প্রতি বছরই এখানে দূর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসে বহু পাখপাখালির দল। এই সাহসী প্রাণের মেলবন্ধকে অতিথি পাখির দল বললেও, আসলে তারা অতিথি নয়। এরা আমাদের সম্পদ, এক চিলতে ভালবাসা, প্রকৃতি ও প্রেমের অংশও ভাবা যায়। খাবার আর বাসস্থানের সন্ধানে শীতকালটা আমাদের দেশে এসে কিছু দিন নিরাপদে কাটাতে আসে এরা। আবার সংসার সাজাতে ফিরে যায় অন্য দেশে। এদেশে কিন্তু পরিযায়ী পাখিদের ডিম পাড়তে ও বাচ্চা ফোটাতে কোনো আপত্তি নেই। আন্তত এর জন্য ওদের চাই ত্রিশ বছরের অধিক বয়স্ক উঁচু গাছ বা গাছের কোটর। কিন্তু আজকাল তা পাওয়া বড়ই দুষ্কর। যারা এ সুবিধা পায় তারা এখানেই থেকে যায়। কেননা, আমাদের দেশে পাখিদের পরিযায়নের রহস্যে তেমন জটিল কিছু নেই। এদেশে বিভিন্নভাবে উড়ে আসে প্রায় ২৮ প্রজাতীর পরিযায়ী হাঁস। এরা মূলত ভারতের আশপাশের এলাকা, সাইবেরিয়া, মিয়ানমার, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড জলাভূমি ছেড়েই বেশিরভাগ পাখি এদেশে আসে।

একমাত্র নিরাপদ ফ্লাইওয়েই এদেশে এতো অতিথি পাখি আসার অন্যতম কারণ। হিমালয়কে না ডিঙিয়ে এর পাশ দিয়ে খুব কম পরিশ্রমেই পাখিগুলো এখানে সহজেই আসতে পারে। তাই, আমাদের দেশের অধিকাংশ জলাশয় অঞ্চল এই পাখিদের অতিপ্রিয়। আগত হাঁসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নাম হচ্ছে : কালামুখ রাজহাঁস, মেটে রাজহাঁস, রাজ সরালী, ছোট সরালী, খয়রা চখাচখি, নাকতা হাঁস, ধলা বেলেহাঁস, গাডওয়াল হাঁস, ইউরেশীয় সিঁথিহাঁস, নীলমাথা হাঁস, বৈকাল তিলিহাঁস, গিরিয়া হাঁস, উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস, উত্তুরে খুন্তেহাঁস, মরচে-রং ভূতিহাঁস ইত্যাদি। অবশ্য এদের মধ্যে আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি আসতে থাকে ছোট সরালী। সরালী মূলত আমাদের দেশী হাঁসের মতোই কিন্তু এরা তেমন পোষ্য নয়, উড়নচণ্ডী বুনো। আর পুরো শীতকাল জুড়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জলাশয়গুলোতে এদেরকেই খুব বেশি কলোনি বেঁধে থাকতে দেখা যায়। গ্রীষ্মকাল হচ্ছে মূলত এদের প্রজনন ঋতু। তাই, এখানে এসে এরা জোড়ায় জোড়ায় সঙ্গী হয়ে থাকে। বাসা বাঁধার জায়গা না থাকায়, এদের অধিকাংশই পাড়ি জমায় পাশের দেশে। অবশ্য এই হাঁসগুলোর সঙ্গে এদেশে সারা বছরে আসে আরও প্রায় ২৭০ জাতের পরিযায়ী পাখি।

 

পরিযায়ী পাখিদের যাতায়াতের পথকে উড়ালপথ বলে উল্লেক করেছেন পাখি বিশেজ্ঞরা। এ লক্ষে বিশ্বের সবচেয়ে ঘন উড়ালপথটি হচ্ছে ইউরোপ ও এশিয়া হয়ে সিনাইয়ের ওপর দিয়ে আফ্রিকা যাওয়ার পথ। প্রায় সবগুলো উৎস থেকে আসা পাখিরা, এ-পথের ওপর দিয়ে গিয়ে- আফ্রিকায় ছড়িয়ে যায় এবং ফিরতি পথে পুনরায় এরা আবার একই পথ দিয়েই তাদের আগের আবাস-স্থলে ফিরে যায়। বলা যায়, বংশ পরম্পরায় এরা এই রুটির মাফিক কাজটিই করে চলেছে। তাই, পরিযায়ী পাখিদের আসা-যাওয়ার আরও কিছু দুর্গম উড়ালপথ হচ্ছে, ইউরোপের সিসিলি ও স্পেন হয়ে দুটি, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ হয়ে দুটি এবং পূর্ব এশিয়ার প্রান্ত ধরে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পথও রয়েছে। এছাড়া পৃথিবীতে পরিযায়ীদের গমনাগমনের আরও নানা পথের সন্ধান করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশের হাওড় এলাকা ও বিস্তৃত সুন্দরবন এলাকা পরিযায়ী পাখিদের অন্যতম আকর্ষণ বটে। তবে বাংলার দিকের এই উড়ালপথে জনবসতি বেশি হওয়ায় এবং মানুষের অত্যাচারে পাখি আগমনের সৌন্দর্য ক্রমেই অতীত হতে চলেছে। আর, তাই আমাদের যান্ত্রিক শহর ও এর আশপাশে এখন এই নতুন অতিথিদের কোলাহল তেমন নেই বললেই চলে। যদিও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বড় বড় দালান, টিনের বাড়িঘর এরই মাঝে ছোট্ট দু’একটা জলাশয়। কচুরীপানা ভর্তি সেই জলাশয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি দেখা যেত, নির্ভয়ে ঘুরছে কিংবা সাঁতার কাটছে কিংবা ওড়াউড়ি করে, কিছু পাখি জায়গা পরিবর্তন করছে। আর সামান্য শব্দেই যেন সমস্বরে ডানার ঝাপ্টা মেরে দলবেঁধে উড়ে উঠছে পাখির ঝাঁক। তখন সেইসব পাখির কিঁচিরমিঁচির শব্দে মুখরিত হয়ে যেত পুরো এলাকা। আশেপাশের বাড়ির ছাদ বা বারান্দা থেকেই এলাকাবাসীরা এইসব দৃশ্য উপভোগ করতে পারতেন। দিনের বেলায় এইসব পাখিরা জলমগ্ন ধানক্ষেত ও বড় জলাশয়ের আশেপাশে দলবদ্ধভাবে জলকেলি আর খুনসুটি খেলায় ব্যস্ত সময় কাটালেও, রাতে খাবারের সন্ধানে এরা ঘুরে বেড়ায়। এদের প্রধান খাবার পানিতে থাকা বিভিন্ন কঁচিগুল্ম, জলজ উদ্ভিদ, নতুন কুঁড়, শস্যদানা, ছোট মাছ, ব্যাঙ, শামুক, কেঁচো ইত্যাদি।


আর তাই, কনকনে শীতের চাদরে ঢুকে কিংবা লেপের ওম ভেঙে আমাদের এই শহর থেকে কিছুটা শহরতলীর দুর্গাসাগরের পাড় যেনো পাখিপ্রেমীদের আনাগোনায় জীবন্ত হয়ে ওঠে। এবং শীতের সূর্যাস্তের মতোই কোলাহলহীন এখানে হাজারও মানুষের ঢল বয়ে আনে পাখি দেখার বাড়তি আমেজে। ডাঙার পাখির চেয়ে জলচর পাখির প্রতিই সবার নজর বেশি থাকে। তাই, প্রচণ্ড কুয়াশা আর কনকনে শীতের দেয়াল ভেঙে ছোট-বড় সবাইকে দেখি পাখির কিঁচিরমিঁচির ডাকের সঙ্গে আÍহারা হতে। সেই বরফের দেশ থেকে যে হাজারও পাখির ঝাঁক এদেশে ছুটে আসে একটু উষ্ণতার ছোঁয়া পেতে। আমাদের ভালবাসা খুঁটে খুঁটে খুঁজে পেতে। তাই যেখানে মানুষের চলাচল কম সেখানেই ভিড় করে পরিযায়ী পাখিরা। ফলে, প্রতিবছরই আমাদের এই দুর্গাসাগরের বুকে বহু প্রজাতীর হাঁস, যেমন : খয়রা চখাচখি, সরালীর ঝাঁক এবং উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁসসহ প্রায় আরও ২০/২৫ জাতের হাঁসের সমারোহ ঘটে। প্রতি বছর এখানে হাজার হাজার পাখি একসঙ্গে রাত কাটায়। সন্ধ্যায় তাদের নীড়ে ফেরা দেখলে, মনে হয় দীঘিটির সঙ্গে পাখিদের এক নিবিড় সম্পর্ক ভালবাসার বন্ধন রয়েছে। তাই, জলচর পাখিদের একান্ত ভালবাসার সংসার দেখতে হলে, এখানে আসতেই হবে। কেনন, দুর্গাসাগরের মধ্যিখানে যে দ্বীপ রয়েছে, সেটি যেন রং-বেরঙের হরেক পাখির মেলায় আপরূপ হয়ে ওঠে। মনে হয়, পাখির নানান পালকের রঙে সাজানো দ্বীপটির বর্ণিল বাহার যেন বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়ে সাগরটি ফিরে পায় প্রকৃতির অপরূপ এক অপার সৌন্দর্য। আর এই সৌন্দর্য তখন চোখের আরামই বাড়ায় না, বাড়িয়ে দেয় আত্মার প্রশান্তিও। কিন্তু, আজকাল এখানেও পর্যটক ও এলাকার কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবকদের শিকারের কবলে পরে এখানে পাখি আসার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আরও দেখা গেছে, দূর্গাসাগরের পার্শ্ববর্তী বাবুগঞ্জ-বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কে গাড়ীর হর্ণ বাজানো নিষেধ থাকলেও গাড়ীর চালকরা এর তোয়াক্কা নাকরেই তাদের ইচ্ছা মতো হর্ণ বাজিয়ে গাড়ি চলাচল করে। ফলে, গাড়ির এই হাইড্রোলিক হর্নের শব্দেও এখানে আগের মতো অনেক অতিথি পাখিরা আর আসছে না। ফলে এক সময় দুর্গা সাগরের পাখি দেখার যে সুনাম ছিলো। বিশেষত শীত মৌসুমকে ঘিরে দেশে-বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু পাখিপ্রেমী পর্যটক দুর্গাসাগরে পাখি দেখার জন্য আসত। তখন হাজার হাজার অতিথি পাখিরাও এই সাগরে জলে পাখামেলে ভেসে বেড়াত, সাঁতার কাটতো। সেইসব অপরূপ দৃশ্যের সবটাই যেন বিলুপ্তি পথে চলেছে।

যদিও বলা যায় যে, পাখিদের দেশের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সীমারেখা নেই বা এদের বাঁধা দেয়ার জন্য কাঁটাতারের বেড়াও তৈরি করতে পারেনি কেউ। এরা সারা পৃথিবীকেই মনে করে নিজেদের বিচরণযোগ্য দেশ। তাই, অতিথি হলেও, আমি বলব, এরা প্রত্যেক দেশেরই অতিথি। তাই বলা যায়, বৈরী আবহাওয়া পাখিদের শত্র“ নয়, তাদের শত্র“ এখন মানুষ। এককালে পৃথিবীর সর্বত্রই মানুষও বিনা পাসপোর্টে চলাফেরা করতে পারত। কিন্তু মানুষের চাতুর্যতা, লোভ, হিংসা, দখলদারিত্ব এবং এই অসৎ মানুষের সংখ্যা অতি মাত্রায় বৃদ্ধির ফলে, সম্পদের অভাবে মানুষ কেবল মানুষেরই শত্র“ হয়েছে। বিভিন্ন দেশর রাজনৈতিক সীমারেখায় কাঁটাতারের বেড়া তৈরি হয়েছে। তাই, কোনও বাঁধা কিংবা কোনও প্রকার সীমারেখা, কখনই কারো জন্যে সুখকর নয় বরং এসব কিছুই প্রকৃতিবিরুদ্ধ ও নিপীড়নমূলক।

কিন্তু আমাদের দেশে ইউরোপ সাইবেরিয়া থেকে আসা পরিযায়ী পাখিরা তেমন আর আসে না। আসতে চায় না। কারণ, বাংলার সমতলে একসময় পর্যাপ্ত পতিত জমি, বন-বাদাড় ও জলাভূমি ছিল। শীত আসার আগেই হেমন্তকালে উত্তর থেকে আমাদের জলাশয়, মাঠ ও বনের নির্জনে অথিতি পাখিরা এসে একত্রিত হতো। আমরা যে পাখিদের নানা রূপে বর্ণিল দেখেছি, এদের নিয়ে গান, কবিতা লিখেছি। কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শেষ কয়েক দশক থেকে সেসব পাখির প্রতি আমাদের অবহেলা, অবজ্ঞা ও তাদের প্রতি নিদারুন অত্যাচারের ফলে, বর্তমান শতাব্দীর শুরু থেকে এরা প্রায় এদেশ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। এদেশের মানুষ এখন পাখিদের নির্বিচারে ধরে ও মেরে খেয়ে ফেলছে। বাংলার জলাভূমিগুলো শুকিয়ে ধান চাষের জমি করে ফেলায়, জলজ পাখিরা খাবার না পেয়ে মারা পড়ছে। স্বাভাবিক বিচরণ ক্ষেত্র ও পয়াপ্ত খাবার না পেয়ে পাখিরা তাদের ডিম পাড়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। ফলে রুগ্ন পখিরা আর তাদের নীড়ে, নিজ দেশে ফিরে যেতে পরছে না। আমরা মানুষেরা আজ এতোটাই নিষ্ঠুর। এর কি কোনও-ই প্রতিকার নেই…?

লেখক: কবি ও গদ্যকার, সম্পাদক-সাপ্তাহিক ইতিবৃত্ত

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন
মার্চ ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« ফেব্রুয়ারি    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১